মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯২২
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান
২৯২২। হযরত আবু মুসা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ বান্দা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট উপস্থিত হইলে কবীরা গোনাহসমূহের পরেই সর্বশ্রেষ্ঠ গোনাহ্ পরিগণিত হইবে এমতাবস্থায় মৃত্যু হওয়া যে, সে ঋণগ্রস্ত হয় এবং উহা পরিশোধের ব্যবস্থা রাখিয়া না যায়। – আহমদ ও আবু দাউদ
كتاب البيوع
وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ أَنْ يَلْقَاهُ بِهَا عَبْدٌ بَعْدَ الْكَبَائِرِ الَّتِي نَهَى اللَّهُ عَنْهَا أَنْ يَمُوتَ رَجُلٌ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ لَا يَدَعُ لَهُ قَضَاءً» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক দিকে তো সম্পদশালী সাহাবীগণকে অভাবী ভাইদেরকে কর্জ দিতে ও তা আদায়ের ব্যাপারে কর্জগ্রহীতাকে সময় দিতে উৎসাহিত করেছেন যে, যখন সুযোগ পাবে পরিশোধ করবে। আর যদি অপারগ ও অভাবী হয় তবে কর্জের সমুদয় অথবা আংশিক ক্ষমা করে দিবে। এর বিরাট পুণ্য বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে কর্জ গ্রহীতাকে সতর্ক করেছেন যে, যে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি কর্জ পরিশোধ করবে এবং এর বোঝা হতে ভারমুক্ত হতে চেষ্টা করবে। আল্লাহ না করুন, কর্জ পরিশোধ ছাড়া যদি এ দুনিয়া হতে চলে যায় তবে আখিরাতে এর পরিণাম তার জন্যে খুবই মন্দ হবে। কেননা তিনি ইহাকে কঠিনতম ও ক্ষমার অযোগ্য বলেছেন। কখনো এরূপ হয়েছে যে, কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তার উপর কারো কর্জ রয়েছে যাকে পরিশোধ করেনি, তখন তিনি তার জানাযায় নামায পড়াতে অস্বীকার করেছেন। স্পষ্টতঃই এটা তাঁর পক্ষ হতে চূড়ান্ত পর্যায়ের হুঁশিয়ারী ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)