মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৯০৯
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
৯. প্রথম অনুচ্ছেদ - দেউলিয়া (দারিদ্র্য) হওয়া এবং ঋণীকে অবকাশ দান
২৯০৯। হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) বলেন, একদা আমরা নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় একটি জানাযা উপস্থিত করা হইল। লোকেরা নবী করীম (ছাঃ)-কে জানাযার নামায পড়াইবার অনুরোধ জ্ঞাপন করিল। নবী করীম (ছাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, মৃত ব্যক্তির উপর ঋণ আছে কি ? তাহারা বলিল, না। নবী করীম (ছাঃ) ঐ জানাযার নামায পড়াইয়া দিলেন। অতঃপর আর একটি জানাযা উপস্থিত করা হইল। উহা সম্পর্কেও নবী করীম (ছাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহার উপর ঋণ আছে কি? বলা হইল, হ্যাঁ—আছে। জিজ্ঞাসা করিলেন, (ঋণ পরিশোধের) কোন বস্তু রাখিয়া গিয়াছে কি? লোকেরা বলিল, হা—তিনটি স্বর্ণ-মুদ্রা রাখিয়া গিয়াছে। নবী করীম (ছাঃ) তাহার জানাযার নামাযও পড়াইয়া দিলেন। অতঃপর তৃতীয় আর একটি জানাযা উপস্থিত করা হইল। উহা সম্পর্কেও নবী করীম (ছাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহার উপর ঋণ আছে কি? লোকগণ বলিল, তিনটি স্বর্ণ-মুদ্রা তাহার উপর ঋণ আছে। নবী করীম (ছাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেন, (ঋণ পরিশোধের) কিছু রাখিয়া গিয়াছে কি? লোকেরা বলিল, না। তখন নবী করীম (ছাঃ) বলিলেন, তোমরাই তোমাদের সাথীর জানাযার নামায পড়িয়া নাও। (অর্থাৎ, নবী করীম [ছাঃ] ঋণের দরুন ঐ ব্যক্তির জানাযার নামায পড়িতে সম্মত হইলেন না।) সাহাবী আবু কাতাদা (রাঃ) বলিলেন, ইহার জানাযার নামায পড়াইয়া দিন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ । তাহার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমি গ্রহণ করিলাম। তখন নবী করীম (ছাঃ) তাহার জানাযার নামায পড়াইয়া দিলেন। -বোখারী
كتاب البيوع
وَعَن سَلمَة بن الْأَكْوَع قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قَالُوا: لَا فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ أُتِيَ بِجِنَازَةٍ أُخْرَى فَقَالَ: «هَل عَلَيْهِ دين؟» قَالُوا: نعم فَقَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» قَالُوا: ثَلَاثَةَ دَنَانِيرَ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثمَّ أُتِي بالثالثة فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قَالُوا: ثَلَاثَةُ دَنَانِيرَ قَالَ: «هَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» قَالُوا: لَا قَالَ: «صلوا على صَاحبكُم» قَالَ أَبُو قَتَادَة: صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَلَيْهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَلَيَّ دَيْنُهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্মপদ্ধতি বাহ্যত জীবিতদের সাবধান করার জন্য ছিল। তারা যেন ঋণ পরিশোধে অবহেলা ও ত্রুটি না করে। আর সবার এ চেষ্টা থাকা চাই যে, যদি তার ওপর কারো ঋণ থেকে থাকে তবে সে তা থেকে মুক্ত হবার চিন্তা ও চেষ্টা করবে। দুনিয়া হতে এরূপ অবস্থায় বিদায় নিবে যে, তার জিম্মায় কারো কোন দাবি নেই। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে এক হাদীস এ মর্মে বর্ণিত হয়েছে।
হাদীস থেকে এটাও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্ম পদ্ধতি (অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তির নামাযে জানাযা থেকে তিনি নিজে বিরত থাকতেন, আর সাহাবীদের বলে দিতেন তোমরা পড়ে নাও) প্রাথমিক যুগে ছিল। পরে যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে বিজয়ের দ্বারসমূহ খুলে যায় এবং দারিদ্র্য ও অসামর্থ্যের যুগ চলে গেল। তখন তিনি ঘোষণা করে দিলন, যদি কোন মুসলমান ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (আর পরিশোধের কোন সম্পদ রেখে না যায়) তবে সে ঋণ আমার জিম্মায় আমি পরিশোধ করব। এ কথার উদ্দেশ্যই ছিল যে, কোন মুসলমানের জিম্মায় অন্য কারো দাবি বাকি যেন না থাকে। বস্তুত এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋণ পরিশোধ না করা এবং এ অবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া বড় শক্ত গুনাহ এবং এর পরিণতি খুবই ভয়ানক। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলী থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন এবং দুনিয়া থেকে এ অবস্থায় নিয়ে যান যেন কোন বান্দার ঋণ ও কোন প্রকার দাবি আমাদের জিম্মায় অবশিষ্ট না থাকে। ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা থাকলে আল্লাহ তা'আলা পরিশোধ করিয়েই দিবেন।
হাদীস থেকে এটাও জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এ কর্ম পদ্ধতি (অর্থাৎ ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তির নামাযে জানাযা থেকে তিনি নিজে বিরত থাকতেন, আর সাহাবীদের বলে দিতেন তোমরা পড়ে নাও) প্রাথমিক যুগে ছিল। পরে যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে বিজয়ের দ্বারসমূহ খুলে যায় এবং দারিদ্র্য ও অসামর্থ্যের যুগ চলে গেল। তখন তিনি ঘোষণা করে দিলন, যদি কোন মুসলমান ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে (আর পরিশোধের কোন সম্পদ রেখে না যায়) তবে সে ঋণ আমার জিম্মায় আমি পরিশোধ করব। এ কথার উদ্দেশ্যই ছিল যে, কোন মুসলমানের জিম্মায় অন্য কারো দাবি বাকি যেন না থাকে। বস্তুত এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, ঋণ পরিশোধ না করা এবং এ অবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া বড় শক্ত গুনাহ এবং এর পরিণতি খুবই ভয়ানক। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এসব নির্দেশাবলী থেকে আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দিন এবং দুনিয়া থেকে এ অবস্থায় নিয়ে যান যেন কোন বান্দার ঋণ ও কোন প্রকার দাবি আমাদের জিম্মায় অবশিষ্ট না থাকে। ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা থাকলে আল্লাহ তা'আলা পরিশোধ করিয়েই দিবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)