মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১২- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৩০
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সুদ
২৮৩০। হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, সুদ হারাম হওয়ার আয়াতই (কোরআন শরীফের) শেষ আয়াত। (অর্থাৎ, কোরআন শরীফে সুদ হারাম ঘোষিত হওয়ার পরে উহাতে আর কোন পরিবর্তন হয় নাই।) এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর তিরোধান হইয়া গিয়াছে, অথচ সুদের (অসংখ্য শাখা-প্রশাখার) পূর্ণ বিবরণ তিনি আমাদের সম্মুখে রাখিয়া যান নাই। সুতরাং কোরআন সুন্নাহ্য় বর্ণিত সুদ এবং যে যে ক্ষেত্রে সুদের কোন প্রকার সন্দেহ হয় সবই তোমরা বর্জন করিবে। —ইবনে মাজাহ্ ও দারেমী
كتاب البيوع
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِنَّ آخِرَ مَا نَزَلَتْ آيَةُ الرِّبَا وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا لَنَا فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ. رَوَاهُ ابْن مَاجَه والدارمي
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আরবী ভাষায় 'রিবা' এক ব্যাপক পরিচিত শব্দ নাযিলের পূর্বেও বলা হত। সেখানের সবাই এর অর্থ বুঝতে সক্ষম ছিল। ইহা তা-ই ছিল যা উপরের ভূমিকাতে বর্ণনা করা হয়েছে। এ জন্য যখন সুদ হারাম সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হল তখন তথাকার সবাই এতে এটাই বুঝে নিলেন যে, সুদী কারবার (সেখানে এর প্রচলন ছিল) হারাম করা হয়েছে। এতে কারো কোন প্রকার সংশয় হয়নি এবং সংশয়ের কোন অবকাশও ছিল না।
তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় কোন কোন বাণীতে ক্রয়-বিক্রয়-এর কতক এমন প্রকারও সুদের হুকুম হওয়ার ঘোষণা দান করেন যাতে কোন দিক থেকে সুদের সাদৃশ্য ছিল। আর এগুলোকে তথায় পূর্বে সুদ বলা হত না এবং মনেও করা হত না। কিন্তু এই ধারাবাহিকতার যাবতীয় খুঁটিনাটি তিনি বর্ণনা করেননি। বরং যেরূপ শরীয়তের হিকমতের চাহিদা অনুযায়ী মৌলিক নির্দেশ দান করেছেন। আর এ কাজ (আংশিক বিষয়) উম্মতের মুজতাহিদীন ও ফকীহদের জন্য রয়ে যায় যে, তাঁরা নবী করীম প্রদত্ত মৌলিক নির্দেশের আলোকে আংশিক বিষয়ে ফায়সালা দান করবেন। (শরীয়তের সব অধ্যায়ের একই অবস্থা)
কিন্তু উম্মতের প্রথম সারির ফকীহ ও মুজতাহিদ হযরত উমর (রা) সুদের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শনে প্রকম্পিত হয়ে এরূপ ইচ্ছা পোষণ করতেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এ বিষয় (রিবা)-এর সেই সব অংশও বর্ণনা করে যেতেন যা তিনি বর্ণনা করেননি। যে বিষয়ে এখন ইজতিহাদ করতে হচ্ছে।
নিজের চূড়ান্ত আল্লাহ-ভীতি ও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে তিনি তাঁর এ বাণীর শেষে লিখেন: فدعوا الربا والريبة অর্থাৎ এখন ঈমান বাঁচাবার পন্থা এটাই যে, সুদ ও এর সাদৃশ্যমূলক বিষয়াবলী থেকেও নিজেকে বাঁচাও।
তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় কোন কোন বাণীতে ক্রয়-বিক্রয়-এর কতক এমন প্রকারও সুদের হুকুম হওয়ার ঘোষণা দান করেন যাতে কোন দিক থেকে সুদের সাদৃশ্য ছিল। আর এগুলোকে তথায় পূর্বে সুদ বলা হত না এবং মনেও করা হত না। কিন্তু এই ধারাবাহিকতার যাবতীয় খুঁটিনাটি তিনি বর্ণনা করেননি। বরং যেরূপ শরীয়তের হিকমতের চাহিদা অনুযায়ী মৌলিক নির্দেশ দান করেছেন। আর এ কাজ (আংশিক বিষয়) উম্মতের মুজতাহিদীন ও ফকীহদের জন্য রয়ে যায় যে, তাঁরা নবী করীম প্রদত্ত মৌলিক নির্দেশের আলোকে আংশিক বিষয়ে ফায়সালা দান করবেন। (শরীয়তের সব অধ্যায়ের একই অবস্থা)
কিন্তু উম্মতের প্রথম সারির ফকীহ ও মুজতাহিদ হযরত উমর (রা) সুদের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শনে প্রকম্পিত হয়ে এরূপ ইচ্ছা পোষণ করতেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এ বিষয় (রিবা)-এর সেই সব অংশও বর্ণনা করে যেতেন যা তিনি বর্ণনা করেননি। যে বিষয়ে এখন ইজতিহাদ করতে হচ্ছে।
নিজের চূড়ান্ত আল্লাহ-ভীতি ও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে তিনি তাঁর এ বাণীর শেষে লিখেন: فدعوا الربا والريبة অর্থাৎ এখন ঈমান বাঁচাবার পন্থা এটাই যে, সুদ ও এর সাদৃশ্যমূলক বিষয়াবলী থেকেও নিজেকে বাঁচাও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)