মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১১- হজ্জ্বের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৬৮৯
- হজ্জ্বের অধ্যায়
১১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইহরাম অবস্থায় যা থেকে বেঁচে থাকতে হবে
২৬৮৯। হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে নিষেধ করিতে শুনিয়াছেন, স্ত্রীলোকেরা তাহাদের এরামে দাস্তানা, বোরকা এবং যে কাপড় ওয়ার্স বা জাফরানে রঞ্জিত তাহা পরিতে। ইহার পর তাহারা পরিতে পারে যেকোন রকমের কাপড় পছন্দ করে—কুসুমী হউক বা রেশমী অথবা যেকোন রকমের জেওর অথবা পায়জামা বা পিরান বা মোজা। –আবু দাউদ
كتاب المناسك
الْفَصْل الثَّانِي
عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى النِّسَاءَ فِي إِحْرَامِهِنَّ عَنِ الْقُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ وَلْتَلْبَسْ بَعْدَ ذَلِكَ مَا أحبَّتْ من ألوانِ الثيابِ معصفر أوخز أَو حلي أَو سروايل أَو قميصٍ أَو خُفٍّ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. এহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য সিলাই করা কাপড় ব্যবহার করা জায়েয নহে, কিন্তু স্ত্রীলোকের জন্য জায়েয।
২. এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, ইহরাম অবস্থায় জামা, শেলওয়ার ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরিধানের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এটা কেবল পুরুষদের বেলায়। মহিলারা পর্দার খাতিরে এসব কাপড় ব্যবহার করতে পারবে এবং মোজাও পরতে পারবে। তবে হাতমোজা পরা তাদের জন্যও নিষেধ এবং মুখে নেকাব পরাও নিষেধ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তারা ভিন্ন পুরুষের সামনেও মুখ একেবারে খোলা রাখবে। হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে মুখে দস্তুরমত নেকাব পরে থাকতে; কিন্তু কোন ভিন্ন পুরুষের মুখোমুখি হয়ে গেলে নিজের চাদর অথবা অন্য কোন জিনিস দিয়ে মুখ আড়াল করে নিতে হবে। আবূ দাউদ শরীফে হযরত আয়েশা রাযি.-এর রেওয়ায়াত রয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, "আমরা কিছু মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। (ইহরামের কারণে আমরা মুখে নেকাব পরতাম না।) কিন্তু যখন পুরুষরা আমাদের সামনে দিয়ে যেত, তখন আমরা আমাদের চাদরটিই মাথার উপর দিয়ে ঝুলিয়ে নিতাম এবং এভাবে পর্দার ব্যবস্থা করে নিতাম। তারপর পুরুষরা যখন আমাদেরকে অতিক্রম করে যেত, তখন আমরা আমাদের মুখমণ্ডল খুলে দিতাম।"
হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ বর্ণনা দ্বারা একথাটি একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ইহরামের অবস্থায় মহিলাদের জন্য নেকাব ব্যবহার করা নিষেধ; কিন্তু যখন ভিন্ন পুরুষদের সামনে পড়ে যাবে, তখন চাদর অথবা অন্য কোন জিনিস দিয়ে মুখ আড়াল করে নিতে হবে।
২. এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, ইহরাম অবস্থায় জামা, শেলওয়ার ইত্যাদি সেলাই করা কাপড় পরিধানের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এটা কেবল পুরুষদের বেলায়। মহিলারা পর্দার খাতিরে এসব কাপড় ব্যবহার করতে পারবে এবং মোজাও পরতে পারবে। তবে হাতমোজা পরা তাদের জন্যও নিষেধ এবং মুখে নেকাব পরাও নিষেধ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তারা ভিন্ন পুরুষের সামনেও মুখ একেবারে খোলা রাখবে। হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে মুখে দস্তুরমত নেকাব পরে থাকতে; কিন্তু কোন ভিন্ন পুরুষের মুখোমুখি হয়ে গেলে নিজের চাদর অথবা অন্য কোন জিনিস দিয়ে মুখ আড়াল করে নিতে হবে। আবূ দাউদ শরীফে হযরত আয়েশা রাযি.-এর রেওয়ায়াত রয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, "আমরা কিছু মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। (ইহরামের কারণে আমরা মুখে নেকাব পরতাম না।) কিন্তু যখন পুরুষরা আমাদের সামনে দিয়ে যেত, তখন আমরা আমাদের চাদরটিই মাথার উপর দিয়ে ঝুলিয়ে নিতাম এবং এভাবে পর্দার ব্যবস্থা করে নিতাম। তারপর পুরুষরা যখন আমাদেরকে অতিক্রম করে যেত, তখন আমরা আমাদের মুখমণ্ডল খুলে দিতাম।"
হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ বর্ণনা দ্বারা একথাটি একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, ইহরামের অবস্থায় মহিলাদের জন্য নেকাব ব্যবহার করা নিষেধ; কিন্তু যখন ভিন্ন পুরুষদের সামনে পড়ে যাবে, তখন চাদর অথবা অন্য কোন জিনিস দিয়ে মুখ আড়াল করে নিতে হবে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)