মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১১- হজ্জ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৫৪০
১. প্রথম অনুচ্ছেদ - ইহরাম ও তালবিয়াহ্
২৫৪০। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাহার এহরামের জন্য এহরাম বাঁধার পূর্বে এবং তাঁহার এহরাম খোলার জন্য (১০ তারিখে) কা'বার তওয়াফ করার পূর্বে খোশবু লাগাইয়াছি—এমন খোশবু, যাহাতে মেশক (কস্তুরী) ছিল, যেন আমি রাসূলুল্লাহ্ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীথায় এখনও খোশবু প্রব্যের ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করিতেছি, অথচ তখন তিনি মুহরিম ছিলেন। মোত্তাঃ
بَابُ الْإِحْرَامِ وَالتَّلْبِيَةِ: الْفَصْل الأول
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِإِحْرَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ بِطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ الطِّيبِ فِي مَفَارِقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

‘এহরাম'—অর্থ কোন জিনিসকে হারাম করা। এহরাম দ্বারা হজ্জপ্রার্থী নিজের উপর কতিপয় জিনিসকে হারাম করে। যথা, স্ত্রী-সহবাস, চুল ছাঁটা, নখ কাটা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা ইত্যাদি, এ কারণে ইহাকে এহরাম বলে। কিন্তু এরাম এখানে হজ্জ ও উমরার নিয়ত করা ও তালবিয়া বলা অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে। এহরাম হজ্জের প্রথম ফরয। এহরামকারীকে 'মুহরিম' বলে।
‘তালবিয়া’—অর্থ ‘লাব্বাইকা' বলা। তালবিয়ার পূর্ণ দো'আটি দ্বিতীয় হাদীসে আসিতেছে। হানাফী মাযহাব মতে তালবিয়া ব্যতীত এহরাম হয় না। ইহা এহরামের শর্ত।

‘তখন তিনি মুহরিম ছিলেন' – অর্থাৎ, আমার খোশবু লাগানোর পরক্ষণেই তিনি এহরাম বাঁধিয়াছিলেন, যাহার ফলে এহরাম বাঁধার পরও তাঁহার শরীরে খোশবুর আসর ছিল। ইহাতে বুঝা গেল যে, এহরাম বাঁধার পূর্বে লাগান খোশবুর আসর এহরাম অবস্থায় বাকী থাকিলে এহরামের কোন ক্ষতি হয় না।
'তওয়াফ’—অর্থ প্রদক্ষিণ করা। শরীঅতে ইহার অর্থ এক বিশিষ্ট নিয়মে খানায়ে কা'বার প্রদক্ষিণ করা। অর্থাৎ, 'হাজারে আসওয়াদ’-ওয়ালা কোণ হইতে আরম্ভ করিয়া পুনরায় ঐ কোণ পর্যন্ত পৌঁছাকে এক 'শাওত' বলে। এইরূপ সাত শাওত প্রদক্ষিণ করাকে এক তওয়াফ বলে। একজন হাজীর পক্ষে খানায়ে কা'বার এইরূপ তিনবার তওয়াফ করিতে হয়। প্রথমবার মক্কা পৌঁছার সাথে সাথে। ইহাকে 'তওয়াফুল কুদুম' বলে। ইহা সুন্নত। দ্বিতীয়বার ১০ই যিলহজ্জ মিনায় অবস্থানকালে তথা হইতে আসিয়া। ইহাকে 'তওয়াফুল ইফাযা' বা 'তওয়াফুযযিয়ারত' বলে। ইহা ফরয। এখানে হাদীসে এই তওয়াফের কথাই বলা হইয়াছে। তৃতীয়বার মক্কা হইতে বিদায় গ্রহণকালে। ইহাকে ‘তওয়াফুছছদর' বা 'তওয়াফুল ওদা' বলে। ইহা ওয়াজিব, তবে মক্কাবাসীর জন্য নহে।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মিশকাতুল মাসাবীহ - হাদীস নং ২৫৪০ | মুসলিম বাংলা