মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৪৭৩
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশ্রয় প্রার্থনা করা
২৪৭৩। হযরত আবুল ইয়াসার (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এইরূপ দো'আ করিতেন, “আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই (আমার উপর) কিছু ধসিয়া পড়া হইতে। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই উপর হইতে পড়া, পানিতে ডুবা, আগুনে পোড়া ও বার্ধক্য হইতে। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই মউতের সময় আমাকে শয়তান যেন গোমরাহ না করে এবং আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই যাহাতে তোমার রাস্তায় পিঠ দিয়া না মরি এবং তোমার নিকট আশ্রয় চাই আমি যেন দংশিত হইয়া না মরি।”—আবু দাউদ ও নাসায়ী। নাসায়ীর অপর এক বর্ণনায় অধিক রহিয়াছে, “ও শোক” হইতে।
كتاب الدعوات
وَعَن أبي الْيُسْر أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَمِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرْقِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا»
رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى «الْغم»
رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى «الْغم»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন প্রাচীর ইত্যাদির নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু বা কোন উঁচু স্থান থেকে পতিত হয়ে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু অথবা আগুনে পুড়ে বা সর্প ইত্যাদি বিষাক্ত প্রাণীর ছোবলে মৃত্যু-এসবই হচ্ছে অপমৃত্যু, আকস্মিক মৃত্যু। মানুষ অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যুর তুলনায় এ জাতীয় মৃত্যুকে বেশি ভয় করে থাকে। এ ছাড়া আরেকটি দিক হলো এ জাতীয় মৃত্যু হলে মানুষ মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণের, ঈমানের নবায়নের তাওবা ইস্তিগফারের বা ইত্যাকার ব্যাপারের কোন সুযোগই পায় না- যা সচরাচর স্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্বে পেয়ে থাকে। এ জন্যে একজন মু'মিনের এ জাতীয় মৃত্যু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।
অনুরূপভাবে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকালীন মৃত্যু থেকেও আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। কেননা, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটি একটি জঘন্য অপরাধ যে, বান্দা তারই পথে জিহাদ করতে গিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে।
অনুরূপভাবে মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যও আল্লাহর দরবারে অণুক্ষণ পানাহ চাওয়া উচিত, যেন শয়তান সেই নিদারুণ সময়ে ঈমান হারা ও বিভ্রান্ত করতে না পারে। কেননা, অন্তিম সময়ের ভালমন্দের উপরই একজন মানুষের সবকিছু নির্ভর করে।
মৃত্যুর যে সব আকস্মিক কারণ থেকে এ হাদীসে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে, অন্য অনেক হাদীসে এগুলোকে শহীদী মৃত্যু বলে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এ দু'টি বক্তব্যের মধ্যে কোন বিরোধ-বৈপরীত্য নেই। নিজেদের মানবিক দুর্বলতার দিকে খেয়াল রেখে এরূপ আকস্মিক মৃত্যু থেকে আমাদের পানাহ্ চাওয়াই উচিত। কিন্তু যদি কারো ভাগ্যে আল্লাহর লিখন এরূপ মৃত্যুরই থাকে, তাহলে আরহামুর রাহিমীন-সকল দয়ালুর বড় দয়ালু আল্লাহর দয়ার প্রতি আশা রেখে আমাদের আশা করা উচিত আল্লাহ তা'আলা এ আকস্মিক মৃত্যুর জন্যেই তাকে শহীদী মৃত্যুর সম্মানে ভূষিত করবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আকীদা-বিশ্বাস ও আমলের দিক থেকে অবকাশ থাকলে মহান দয়ালু আল্লাহ্ মু'আমালা এরূপই হবে-এতে কোন সন্দেহ নেই।
إِنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
- নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
অনুরূপভাবে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকালীন মৃত্যু থেকেও আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত। কেননা, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটি একটি জঘন্য অপরাধ যে, বান্দা তারই পথে জিহাদ করতে গিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে।
অনুরূপভাবে মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যও আল্লাহর দরবারে অণুক্ষণ পানাহ চাওয়া উচিত, যেন শয়তান সেই নিদারুণ সময়ে ঈমান হারা ও বিভ্রান্ত করতে না পারে। কেননা, অন্তিম সময়ের ভালমন্দের উপরই একজন মানুষের সবকিছু নির্ভর করে।
মৃত্যুর যে সব আকস্মিক কারণ থেকে এ হাদীসে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে, অন্য অনেক হাদীসে এগুলোকে শহীদী মৃত্যু বলে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এ দু'টি বক্তব্যের মধ্যে কোন বিরোধ-বৈপরীত্য নেই। নিজেদের মানবিক দুর্বলতার দিকে খেয়াল রেখে এরূপ আকস্মিক মৃত্যু থেকে আমাদের পানাহ্ চাওয়াই উচিত। কিন্তু যদি কারো ভাগ্যে আল্লাহর লিখন এরূপ মৃত্যুরই থাকে, তাহলে আরহামুর রাহিমীন-সকল দয়ালুর বড় দয়ালু আল্লাহর দয়ার প্রতি আশা রেখে আমাদের আশা করা উচিত আল্লাহ তা'আলা এ আকস্মিক মৃত্যুর জন্যেই তাকে শহীদী মৃত্যুর সম্মানে ভূষিত করবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আকীদা-বিশ্বাস ও আমলের দিক থেকে অবকাশ থাকলে মহান দয়ালু আল্লাহ্ মু'আমালা এরূপই হবে-এতে কোন সন্দেহ নেই।
إِنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
- নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)