মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২৩০৬
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হাম্দুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) ও তাকবীর (আল্ল-হু আকবার)- বলার সাওয়াব
২৩০৬। হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ শ্রেষ্ঠ যিকর হইল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”, আর শ্রেষ্ঠ দো'আ হইল, “আলহামদু লিল্লাহ্।” – তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ্
كتاب الدعوات
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفْضَلُ الذِّكْرِ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَفْضَلُ الدُّعَاءِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. কাহারও দানের কারণে তাহার প্রশংসা করাকে বলে 'হামদ'। সুতরাং 'হামদ' করার মধ্যে দান তলব করাই নিহিত রহিয়াছে।
২. হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রা. বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, সর্বোত্তম কালিমা হচ্ছে এ চারটি সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ১ এবং আল্লাহু আকবার। হযরত জাবিরের হাদীছে বলা হল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সর্বোত্তম যিকির। আসলে ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীর তাবৎ কালিমা বা শব্দ থেকে ঐ চারটি কালিমাই সর্বোত্তম; কিন্তু এ চারটির মধ্যেও তুলনামূলকভাবে সর্বোত্তম হচ্ছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। কেননা, এর মধ্যে অবশিষ্ট তিনটির মর্মও পরোক্ষভাবে নিহিত রয়েছে। যখন বান্দা বলে মা'বুদ বরহক একমাত্র আল্লাহ, তিনি ব্যতীত আর কেউই নন, তখন পরোক্ষে একথাও স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, ঐ পবিত্র সত্তা সকল কমতি ও ত্রুটি থেকেও মুক্ত ও পবিত্র। কামালিয়তের সমস্ত গুণ তাঁর রয়েছে। প্রাধান্য ও মাহাত্ম্যের দিক থেকেও তাঁর উপরে কেউ নেই। কেননা যিনি লা-শরীক মা'বুদ হবেন, তাঁর মধ্যে এসব গুণ থাকতেই হবে। এজন্যে যে ব্যক্তি কেবল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললো, সে যেন সব কিছুই বললো যা সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে। এছাড়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে কালিমায়ে ঈমান। এ জন্যে এটি হচ্ছে সকল নবীর শিক্ষার পয়লা সবক। উপরন্তু নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে আরিফ সূফীগণ এ ব্যাপারে যেন ঐকমত্য পোষণ করেন যে, আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতার জন্যে এবং হৃদয়কে সবদিক থেকে ফিরিয়ে একমাত্র আল্লাহ মুখী করার ব্যাপারে এ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর যিকিরই হচ্ছে সর্বাধিক কার্যকরী যিকির। এজন্যে এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈমানী অবস্থাকে অন্তরের মধ্যে চাঙা করে তোলার জন্যে এবং তার উন্নতি বিধানের জন্যে এই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমা অধিক পরিমাণে যিকির করার আদেশ দিয়েছেন।
২. হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রা. বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, সর্বোত্তম কালিমা হচ্ছে এ চারটি সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ১ এবং আল্লাহু আকবার। হযরত জাবিরের হাদীছে বলা হল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সর্বোত্তম যিকির। আসলে ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীর তাবৎ কালিমা বা শব্দ থেকে ঐ চারটি কালিমাই সর্বোত্তম; কিন্তু এ চারটির মধ্যেও তুলনামূলকভাবে সর্বোত্তম হচ্ছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। কেননা, এর মধ্যে অবশিষ্ট তিনটির মর্মও পরোক্ষভাবে নিহিত রয়েছে। যখন বান্দা বলে মা'বুদ বরহক একমাত্র আল্লাহ, তিনি ব্যতীত আর কেউই নন, তখন পরোক্ষে একথাও স্বীকার করে নেওয়া হয় যে, ঐ পবিত্র সত্তা সকল কমতি ও ত্রুটি থেকেও মুক্ত ও পবিত্র। কামালিয়তের সমস্ত গুণ তাঁর রয়েছে। প্রাধান্য ও মাহাত্ম্যের দিক থেকেও তাঁর উপরে কেউ নেই। কেননা যিনি লা-শরীক মা'বুদ হবেন, তাঁর মধ্যে এসব গুণ থাকতেই হবে। এজন্যে যে ব্যক্তি কেবল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বললো, সে যেন সব কিছুই বললো যা সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার মাধ্যমে বলা হয়ে থাকে। এছাড়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হচ্ছে কালিমায়ে ঈমান। এ জন্যে এটি হচ্ছে সকল নবীর শিক্ষার পয়লা সবক। উপরন্তু নিজ নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে আরিফ সূফীগণ এ ব্যাপারে যেন ঐকমত্য পোষণ করেন যে, আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতার জন্যে এবং হৃদয়কে সবদিক থেকে ফিরিয়ে একমাত্র আল্লাহ মুখী করার ব্যাপারে এ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর যিকিরই হচ্ছে সর্বাধিক কার্যকরী যিকির। এজন্যে এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈমানী অবস্থাকে অন্তরের মধ্যে চাঙা করে তোলার জন্যে এবং তার উন্নতি বিধানের জন্যে এই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমা অধিক পরিমাণে যিকির করার আদেশ দিয়েছেন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)