মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২২৮৮
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২২৮৮হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম রহিয়াছে, যে উহা মুখস্থ করিবে বেহেশতে যাইবে। উহা হইতেছে, 'আল্লাহ্'— যিনি ব্যতীত কোন মা'বূদ নাই। 'আররহমান’– দয়াময়, যাঁহার দয়া সমগ্র বিশ্বকে ব্যাপিয়া আছে। 'আররাহীম'—দয়াবান বা বিশেষ দয়ার অধিকারী, যাহা শুধু মু'মিনদের প্রতি করা হয়। 'আলমালেক' –রাজা, বাদশাহ্। 'আলকুদ্দুস' – অতি পাক ও পবিত্র। নশ্বরতা বা কোন অপগুণ তাঁহাকে স্পর্শ করিতে পারে না। 'আসসালাম' – শান্তিময় ও নিরাপদ। কোনরূপ অশান্তি তাঁহাকে ছুইতে পারে না। 'আলমু'মিন' – নিরাপত্তাদাতা, নিরাপদকারী। 'আলমুহাইমিন' – নেগাহবান, রক্ষক। 'আলআযীয'—প্রভাবশালী, অন্যের উপর বিজয়ী। 'আলজাব্বার'—শক্তি প্রয়োগ দ্বারা সংশোধনকারী। আলমুতাকাব্বির'—অহঙ্কারের অধিকারী—যাহার অহঙ্কার করা শোভা পায়। 'আলখালেক’— প্রকল্পক, স্রষ্টা। আলবারী'— ত্রুটিহীন স্রষ্টা। 'আলমুসাব্বির' – প্রকল্পক ও নকশা অঙ্কনকারী, ডিজাইনার। আলগাফফার’– বড় ক্ষমাশীল—যিনি অপরাধ ঢাকিয়া রাখেন এবং অসংখ্য অপরাধ মার্জনা করিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আলকাহহার’—সকল বস্তু যাঁহার ক্ষমতার অধীন। ক্ষমতা প্রয়োগে যাঁহার কোন বাধা নাই। আলওয়াহ্হাব’—বড় দাতা, যাঁহার দান অবারিত। আররাযযাক’— রিযিকদাতা। 'আলফাত্তাহ্' সৃষ্টির মীমাংসাকারী, বিপদমুক্তকারী, যাঁহার দয়ার ভাণ্ডার খোলা। 'আলআলীম’—বড় জ্ঞাতা— যিনি গুপ্ত ব্যক্ত সবকিছু জানেন। 'আলকাবেয' — রিযিক ইত্যাদির সংকোচনকারী। আলবাসেত’ —উহার সম্প্রসারণকারী। আলখাফেযু’—যিনি নীচে নামান। 'আররাফিউ’—যিনি উপরে উঠান। আলমুইযযু’–সম্মান ও পূর্ণতা দাতা। 'আলমুযিল্লু' – অপমান ও অপূর্ণতাদানকারী। 'আসসামীউ’ –শ্রোতা (ছোট বড় সকল স্বরের)। 'আলবাছীর' – দর্শক (ছোট বড় সকল জিনিসের)। আলহাকামু’—নির্দেশ দানকারী, বিধানকর্তা। 'আলআদলু' – ন্যায়বিচারক—যিনি যাহা উচিত তাহাই করেন। আললাতীফু’—যিনি সৃষ্টির যখন যাহা আবশ্যক তাহা করিয়া দেন ; অনুগ্রহকারী। সূক্ষ্মদর্শী বা যিনি অতি সূক্ষ্ম বিষয়ও অবগত। আলখাবীর’– যিনি গুপ্ত ভেদ অবগত, ভিতরের বিষয় জ্ঞাতা। 'আলহালীম’—ধৈর্যশীল—যিনি অপরাধ দেখিয়াও সহজে শাস্তি দেন না। আলআযীমু’—বিরাট, বহু সম্মানী। 'আলগাফূরু' – যিনি অপরাধ ঢাকিয়া রাখেন এবং অতি জঘন্য অপরাধও ক্ষমা করেন। আশশাকূরু' – কৃতজ্ঞ, যিনি অল্পে বেশী পুরস্কার দেন। আলআলিয়্যু’—সর্বোচ্চে সমাসীন; সর্বোপরি। আলকাবীরু’—বিরাট, মহান, ধারণার উর্ধ্বে বড়। আলহাফীযু’–বড় রক্ষাকারী। যিনি বান্দাদের সব বিষয় লক্ষ্য রাখেন। আলমুকীতু’— খাদ্যদাতা; দৈহিক ও আত্মিক শক্তিদাতা। আলহাসীবু’– যিনি অন্যের জন্য যথেষ্ট হন; যিনি যাহার জন্য যাহা যথেষ্ট তাহা দান করেন। 'আলজালীলু’— গৌরবান্বিত, মহিমান্বিত—যাঁহার মহিমার তুলনা নাই। আলকারীমু’—বড় দাতা, আশার অতিরিক্ত দাতা; যিনি বিনা সওয়ালে দান করেন। আররাকীবু’—যিনি সকলের সকল বিষয় লক্ষ্য রাখেন এবং সর্বদা লক্ষ্য রাখেন। আলমুজীবু’—উত্তরদাতা, ডাকে সাড়া দাতা। আলওয়াসেউ’– সম্প্রসারণকারী; অথবা যাঁহার দান, জ্ঞান, দয়া ও রাজ্য সম্প্রসারিত ও বিপুল। 'আলহাকীমু'—প্রজ্ঞাবান তত্ত্বজ্ঞানী। যিনি সকল কাজ উত্তমরূপে ও নিখুঁতভাবে করেন। 'আলওয়াদুদু'—যিনি বান্দার কল্যাণকে ভালবাসেন। আলমাজীদু’—অসীম অনুগ্রহকারী। আলবাত্রসু – প্রেরক, রাসূল প্রেরণকারী, রিযিক প্রেরণ কারী; কবর হইতে হাশরে প্রেরণকারী। 'আশশাহীদু’–বান্দাদের কাজের সাক্ষী। যিনি ব্যক্ত বিষয় অবগত (খাবীর—যিনি গুপ্ত বিষয় অবগত)। 'আলহাক্কু'—সত্য, সত্য প্রকাশক। যিনি প্রজ্ঞা অনুসারে কাজ করেন। 'আলওয়াকীলু'—কার্যকারক, যিনি বান্দাদের কাজের যোগাড় দেন। আলকাবিয়্যু’—শক্তিবান, শক্তির আধার। আলমাতীনু’—বড় ক্ষমতাবান, যাহার উপর কাহারও ক্ষমতা নাই। 'আলওলিয়্যু'—যিনি মু'মিনদের ভালবাসেন ও সাহায্য করেন। অভিভাবক। আলহামীদু’–প্রশংসিত, প্রশংসার যোগ্য। 'আলমুহসী'- হিসাব রক্ষক, বান্দারা যাহা করে তিনি তাহার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখেন। 'আলমুবদিউ' – বিনা নমুনায় স্রষ্টা, যিনি মডেল না দেখিয়া সৃষ্টি করেন। আলমুঈদু’—মৃত্যুর পর পুনঃ সৃষ্টিকারী। যাহার পুনঃ সৃষ্টি করার ক্ষমতা রহিয়াছে। আলমুহয়ী'—জীবনদাতা। 'আলমুমীতু’—মৃত্যুদানকারী। 'আলহাইয়্যু' – চিরঞ্জীব। “আলকাইয়্যূমু’—স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাতা। 'আলওয়াজিদু’—যিনি যাহা চান তাহা পান। 'আলমাজিদু’—বড় দাতা। 'আলওয়াহিদুল আহাদু'–এক ও একক, যাঁহার কোন অংশ বা অংশী নাই। আসসামাদু' – প্রধান, প্রভু। যিনি কাহারও মোহতাজ নহেন এবং সকলেই তাঁহার মোতাজ। আলকাদেরু'—ক্ষমতাবান, যিনি ক্ষমতা প্রয়োগে কাহারও মুখাপেক্ষী নহেন। আলমুকতাদেরু’—সকলের উপর যাঁহার ক্ষমতা রহিয়াছে। সার্বভৌম। যাঁহার বিধান চরম। 'আলমুকাদ্দিমু’—যিনি নিকটে করেন এবং আগে বাড়ান যাহাকে চাহেন। 'আলমুআখখিরু'— যিনি দূরে রাখেন বা পিছনে করেন যাহাকে চাহেন। 'আলআউয়ালু’– প্রথম, অনাদি। 'আল আখিরু’—সর্বশেষ, অনন্ত। 'আযযাহেরু’– যিনি ব্যক্ত, প্রকট গুণে ও নিদর্শনে। 'আলবাতিনু’— যিনি গুপ্ত সত্তাতে। আলওয়ালী’–অভিভাবক, মুরববী। 'আলমুতাআলী — সর্বোপরি । আলবাররু’–মুহসিন, অনুগ্রহকারী। আততাওয়্যাবু’— তওবা গ্রহণকারী। যিনি অপরাধে অনু শোচনাকারীর প্রতি পুনঃ অনুগ্রহ করেন। 'আলমুনতাকেমু— প্রতিশোধ গ্রহণকারী। 'আলআফুব্বু —বড় ক্ষমাশীল। আররাউফু’—বড় দয়ালু। 'মালিকুল মুলক' –রাজ্যাধিপতি। যাঁহার রাজ্যে তিনি যাহা ইচ্ছা তাহা করিতে পারেন। 'যুলজালালি ওয়াল ইকরাম' – মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। আলমুকসিতু' – অত্যাচার দমনকারী, উৎপীড়ক হইতে উৎপীড়িতের প্রতিশোধ গ্রহণকারী। আলজামিউ' – কেয়ামতে বান্দাদের একত্রকারী, অথবা সর্বগুণের অধিকারী। আলগানিয়্যু'—বেনিয়াজ, যিনি কাহারও মুখাপেক্ষী নহেন। 'আলমুগনিয়ু’—যিনি কাহাকেও কাহারও মুখাপেক্ষী হইতে বাঁচাইয়া রাখেন। আলমানিউ’– বিপদে বাধাদানকারী। 'আযযাররু’— যিনি ক্ষতির ক্ষমতা রাখেন। 'আননাফিউ' – যিনি উপকারের ক্ষমতা রাখেন। উপকারী। আননূর’—আলোক, প্রভা, প্রভাকর। 'আলহাদিয়ু' – পথপ্রদর্শক (যাহারা তাঁহার দিকে যাইতে চাহে তাহাদিগকে)। 'আলবাদীউ’–অদ্বিতীয়, অনুপম অথবা যিনি বিনা আদর্শে গড়েন। আলবাকী'—যিনি সর্বদা থাকিবেন। সৃষ্টি ধ্বংসের পরেও যিনি থাকিবেন। আলওয়ারিসু’— উত্তরাধিকারী, সকল শেষ হইবে আর তিনি সকলের উত্তরাধিকারী হইবেন। আররাশীদু’ কাহারও পরামর্শ বা বাতলানো ব্যতীত যাঁহার কাজ উত্তম ও ভাল হয়। আসসাবূরু’–বড় ধৈর্যশীল। —তিরমিযী। আর বায়হাকী দা'ওয়াতুল কবীরে। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।
كتاب الدعوات
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَه هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْغَفَّارُ الْقَهَّارُ الْوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْخَافِضُ الرَّافِعُ الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْحَكَمُ الْعَدْلُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ الْحَلِيمُ الْعَظِيمُ الْغَفُورُ الشَّكورُ العَلِيُّ الكَبِيرُ الحَفيظُ المُقِيتُ الْحَسِيبُ الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ الرَّقِيبُ الْمُجِيبُ الْوَاسِعُ الْحَكِيمُ الْوَدُودُ الْمَجِيدُ الْبَاعِثُ الشَّهِيدُ الْحَقُّ الْوَكِيلُ الْقَوِيُّ الْمَتِينُ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ الْمُحْصِي الْمُبْدِئُ الْمُعِيدُ الْمُحْيِي المُميتُ الحَيُّ القَيُّومُ الواجِدُ الماجِدُ الواحِدُ الأحَدُ الصَّمَدُ الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ الْمُقَدِّمُ الْمُؤَخِّرُ الْأَوَّلُ الْآخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْوَالِي الْمُتَعَالِي الْبَرُّ التَّوَّابُ الْمُنْتَقِمُ العَفُوُّ الرَّؤوفُ مَالِكُ الْمُلْكِ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ الْمُقْسِطُ الْجَامِعُ الْغَنِيُّ الْمُغْنِي الْمَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الْهَادِي الْبَدِيعُ الْبَاقِي الْوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ والبيهقيُّ فِي الدَّعواتِ الْكَبِير. وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. 'রাহমান ও রাহীম'—উভয় একই মূল 'রহমত' হইতে উৎপন্ন, যাহার অর্থ দয়া, কিন্তু উভয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রহিয়াছে। 'রাহমান' অর্থ দয়াময় — যাঁহার দয়া সমগ্র বিশ্বকে ব্যাপিয়া রহিয়াছে, যাঁহার দয়া হইতে অপরাধীরাও বঞ্চিত নহে, দুনিয়াতে তাহারাও রিযিক পাইতেছে, ধন-দৌলত পাইতেছে। আর ‘রাহীম' অর্থ বিশেষ দয়া প্রকাশক, যাঁহার বিশেষ দয়া কেয়ামতে শুধু মু'মিনদের প্রতিই হইবে। কেবল মু'মিনদিগকেই তিনি সেদিন বেহেশত দান করিবেন। এভাবে আরও বহু নামের অর্থের মধ্যে স্থূল সাদৃশ্য ও সূক্ষ্ম পার্থক্য রহিয়াছে, যাহার বিস্তারিত বিবরণদান এখানে সম্ভব নয়।
২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) এর হাদীসের শুরুর অংশ হুবহু তাই, যা সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের বরাতে বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য এ হাদীসে নিরানব্বইটি পূত নাম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে- যা বুখারী মুসলিমের রিওয়ায়াতে নাই। এ জন্যে কোন কোন মুহাদ্দিস ও ভাষ্যকারের অভিমত হচ্ছে এই যে, মারফু' হাদীস যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উক্তি শুধু ততটুকুই, যা সহীহ্ কিতাবদ্বয়ে বর্ণিত হয়েছে অর্থাৎ
إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةَ وَتِسْعِيْنَ إِسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
"আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম এক কম এক শ'-যে ব্যক্তি তা কণ্ঠস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আর তিরমিযীর এ রিওয়ায়াতে এবং অনুরূপভাবে ইবনে মাজা ও হাকিম প্রমুখের রিওয়ায়াতে যে নিরান্নব্বই নাম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা মহানবীর বাণী নয়, বরং আবু হুরায়রা (রা)-এর কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শাগরিদ তা হাদীসের ব্যাখ্যা স্বরূপ কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত আল্লাহ তা'আলার পবিত্র নামগুলিও বর্ণনা করে দিয়েছেন। মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষায় এ আসমাউল হুসনাগুলো মুদরাজ (مدرج), এরূপ মনে করার একটি সঙ্গত কারণ এই যে, তিরমিযী, ইবনে মাজা ও হাকিমের বর্ণনায় নিরানব্বইটি পবিত্র নামের যে বিবরণ বর্ণিত হয়েছে, তাতে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যদি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ এ নামগুলো বলে দিতেন তাহলে তাতে এত ফারাক থাকাটা ছিল অসম্ভব ব্যাপার।
যাই হোক, এতো হলো হাদীস শাস্ত্র এবং এর রিওয়ায়াত 'সংক্রান্ত আলোচনা। কিন্তু এ ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেন যে, তিরমিযীর উপরোক্ত বর্ণনায় এবং অনুরূপ ইবনে মাজা প্রমুখের রিওয়ায়াতে বর্ণিত ৯৯টি পবিত্র নাম কুরআন মজীদ ও হাদীস থেকেই নেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিরানব্বইটি নাম মুখস্থ করার বিনিময়ে যে সুসংবাদ শুনিয়েছেন সে সুসংবাদের অবশ্যই তাঁরা যোগ্য বিবেচিত হবে যারা বিশুদ্ধ চিত্তে ভক্তি সহকারে আসমাউল হুসনা মুখস্থ করবেন এবং এগুলির মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করবেন। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (র) তার কারণ ও রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে লিখেন: আল্লাহ তা'আলার কামালিয়তের যে গুণাবলী তাঁর জন্যে সাব্যস্ত করা বা যে সমস্ত অপূর্ণতা থেকে তাঁর সত্তাকে মুক্ত প্রতিপন্ন করা চাই, উপরোক্ত আসমাউল হুসনায় তার সবকটিই এসে যায়। এ হিসাবে এ আসমাউল হুসনা আল্লাহ তা'আলার মা'রিফতের পরিপূর্ণ নিসাব বা কোর্স বিশেষ। আর এজন্যে সামগ্রিকভাবে এগুলোর মধ্যে অসাধারণ বরকত রয়েছে এবং ঊর্ধ্বজগতে এর বিরাট কবুলিয়ত রয়েছে। যখন কোন বান্দার আমলনামায় এ আসমাউল হুসনা লিপিবদ্ধ থাকে, তখন তা আল্লাহর রহমতের ফয়সালার হেতু হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তিরমিযী শরীফের উক্ত রিওয়ায়াতে বর্ণিত ৯৯টি নামের দুই তৃতীয়াংশ কুরআন শরীফে এবং অবশিষ্ট নামগুলি বিভিন্ন হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
হযরত জা'ফর সাদিক প্রমুখ বুযুর্গান যে দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম কুরআন মজীদেই রয়েছে, সেগুলি একটু পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে এবং এগুলির ব্যাপারে 'হাফিয ইবনে হাজারের সর্বশেষ গবেষণার বরাতও দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু কুরআন শরীফ থেকেই ঐ নিরানব্বইটি পবিত্র নাম খুঁজে বের করেছেন। কুরআন শরীফে এসব নাম অবিকল এভাবেই মওজুদ রয়েছে।
সেই সব মুহাদ্দিসীন ও ভাষ্যকারগণের উপরোক্ত অভিমত যদি মেনে নেয়া হয় যে, উপরোক্ত রিওয়ায়াতে আসমাউল হুসনা রূপে যে পবিত্র নামগুলি বর্ণিত হয়েছে, তা হাদীসে মরফু (مرفوع)-এর অংশ নয়, বরং কোন রাবীর পক্ষ থেকে মুদরাজ বা পরিবর্ধিত অংশ বিশেষ অর্থাৎ হাদীছের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কেউ এ বিশদ বিবরণটিও জুড়ে দিয়েছেন-যা কুরআন ও হাদীসে পাওয়া যায়, তা হলে হাফিয ইবনে হাজার কর্তৃক পেশকৃত ফিরিস্তিই অগ্রগণ্য হওয়া উচিত। কেননা, তাঁর উল্লেখ করা পবিত্র নামগুলো হুবহু কুরআন মজীদ থেকে নেয়া-নিজে এগুলোর মধ্যে তিনি কোনরূপ হস্তক্ষেপ করেননি। আমরা নিচে 'ফাৎহুল বারী' থেকে তাঁর প্রদত্ত সেই ফিরিস্তিটি উদ্ধৃত করছি। তিনি আল্লাহর আসল নাম আল্লাহকেও ঐ নিরানব্বই নামের মধ্যে গণনা করেছেন। বরং ঐ পবিত্র নাম দিয়েই তিনি তাঁর ফিরিস্তি শুরু করেছেন।
কুরআন মজীদে উল্লেখিত আল্লাহর নিরানব্বইটি পবিত্র নাম
১. اَللّٰهُ (আল্লাহ)
২. اَلرَّحْمٰنُ (আর রাহমান)
৩: ُاَلرَّحِيْم (আর রাহীম)
৪. اَلْمَلِكُ (আল মালিকু)
৫. اَلْقُدُّوْسُ (আল কুদ্দুস)
৬. اَلسَّلَامُ (আস সালাম)
৭. اَلْمُؤْمِنُ (আল মু'মিন)
৮. ُاَلْمُهَيْمِن (আল মুহাইমিন)
৯. اَلْعَزِيْزُ (আল আযীয)
১০. اَلْجَبَّارُ (আল জাব্বার)
১১. اَلْمُتَكَبِّرُ (আল মুতাকাব্বির)
১২. اَلْخَالِقُ (আল খালিক)
১৩. اَلْبَارِئُ (আল বারিউ)
১৪. اَلْمُصَوِّرُ (আল মুসাব্বির)
১৫. اَلْغَفَّارُ (আল গাফফার)
১৬. اَلْقَهَّارُ (আল কাহ্হার)
১৭. اَلتَّوَّابُ (আ-তাওয়াবু)
১৮. اَلْوَهَّابُ (আল-ওহ্হাবু)
১৯. اَلْفَتَّاحُ (আল খাল্লাকু)
২০. اَلْعَلَيْمُ (আল আলীম)
২১. اَلْقَابِضُ (আল কাবিয)
২২. اَلْبَاسِطُ (আল বাসিত)
২৩. اَلْخَافِضُ (আল খাফি)
২৪. الرَّافِعُ (আর রাফি)
২৫. اَلْمُعِزُّ (আল মুইয)
২৬. اَلْمُذِلَّ (আল-মুযিল)
২৭ ُاَلسَّمِيْع (আস সামিউ)
২৮. اَلْبَصِيْرُ (আল বাসিরু)
২৯. اَلْحَكَمُ (আল হাকামু)
৩০. اَلْعَدْلُ (আল আদল)
৩১. اَللَّطِيْفُ (আল লতীফ)
৩২. اَلْخَبِيْرُ (আল খাবীর)
৩৩. اَلْحَلِيْمُ (আল হালীম)
৩৪. اَلْعَظِيْمُ (আল আযীম)
৩৫. اَلْغَفُوْرُ (আল গাফুর)
৩৬. اَلشَّكُوْرُ (আশ শাকুর)
৩৭. اَلْعَلَيُّ (আল আলীয়্যূ)
৩৮. اَلْكَبِيْرُ (আল কাবীরু)
৩৯. اَلْحَفِيْظُ (আল হাফীযু)
৪০. اَلْمُقِيْتُ (আল মুকীতু)
৪১. اَلْحَسِيْبُ (আল হাসীব)
৪২ اَلْجَلِيْلُ (আল জালীল)
৪৩. اَلْكَرِيْمُ (আল কারীম)
৪৪. اَلرَّقِيْبُ (আর রাকীব)
৪৫ اَلْمُجِيْبُ (আল মুজীব)
৪৬. اَلْوَاسِعُ (আল ওয়াসিউ)
৪৭ اَلْحَكِيْمُ (আল হাকীম)
৪৮. اَلْوَدُوْدُ (আল ওদূদ)
৪৯. اَلْمَجِيْدٌ (আল মজীদ)
৫০. اَلْبَائِثُ (আল বাইসু)
৫১. اَلشَّهِيْدُ (আশ শাহীদ)
৫২. اَلْحَقُّ (আল হক)
৫৩. اَلْوَكِيْلُ (আল ওকীল)
৫৪. أَلْقَوِيُّ (আল কভী)
৫৫. اَلْمَتِيْنُ (আল মতীন)
৫৬. اَلْوَلِيُّ (আল ওলী)
৫৭. اَلْحَمِيْدُ (আল হামীদ)
৫৮. اَلْمُحْصَيْ (আল মুহসী)
৫৯. اَلْمُبْدِئُ (আল মুবদিউ)
৬০. اَلْمُعِيدُ (আল মুইদ)
৬১ اَلْمُحْيِى (আল মুহঈ)
৬২. اَلْمُمِيْتُ (আল মুমীত)
৬৩. اَلْحَيُّ (আল হাইউ)
৬৪. أَلْقَيُّوْمُ (আল কাইয়্যূম)
৬৫. اَلْوَاجِدُ (আল ওয়াজিদ)
৬৬ الْمَجِيْدُ (আল মাজিদু)
৬৭. اَلْوَاحِدُ (আল ওয়াহিদু)
৬৮. اَلْاَحَدُ (আল আহাদ)
৬৯. اَلصَّمَدُ (আস সামাদ)
৭০. اَلْقَدِيْرُ (আল কাদির)
৭১. اَلْمُقْتَدِرُ (আল মুকতাদির)
৭২. الْمُقَدِّمُ (আল মুকাদ্দিম)
৭৩. اَلْمُؤَخِّرُ (আল মুআখ্যির)
৭৪. اَلْاَوَّلُ (আল আওয়াল)
৭৫. اَلْآخِرُ (আল আখিরু)
৭৬. اَلظَّاهِرُ (আয যাহিরু)
৭৭. اَلْبَاطِنُ (আল বাতিন)
৭৮. اَلْوَالِيُ (আল ওয়ালী)
৭৯. اَلْمُتَعَالِى (আল মুতাআলী)
৮০. اَلْبَرُّ (আল বাররু)
৮১. اَلتَّوَّابُ (আত তাওয়াব)
৮২. الْمُنْتَقِمُ (আল মুনতাকিম)
৮৩. ُّاَلْعَفُو (আল আফুউ)
৮৪.. اَلرَّؤُوفُ (আর রাউফ)
৮৫. مَلِكُ الْمُلْكِ (মালিকুল মুলক)
৮৬. ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ (যুল জালালি ওয়াল ইকরাম)
৮৭. اَلْمُقْسِطُ (আল মুকসিত)
৮৮. اَلْجَامِعُ (আল জামিউ)
৮৯. اَلْغَنِيُّ (আল গনী)
৯০. اَلْمُغْنِي (আল মুগনী)
৯১. اَلْمَانِعُ (আল মানি)
৯২. اَلضَّارُّ (আদ দার)
৯৩ اَلنَّافِعُ (আন নাফিউ)
৯৪. اَلنُّوْرُ (আন নূর)
৯৫. أَلْهَادِي (আল হাদী)
৯৬. اَلْبَدِيعُ (আল বাদীউ)
৯৭. اَلْبَاقِي (আল বাকী)
৯৮. اَلْوَارِثُ (আল ওয়ারিসু)
৯৯. اَلرَّشِيْدُ (আর রশীদ)
১০০. الصَّبُوْرُ (আস সাবুর)
( فتح البارى جز ٢٦ : ٨٣)
(আস-সামাদ-আল্লাযী লাম য়ালিদ ওয়ালাম য়ূলাদ ওলাম য়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ) (ফতহুল বারী ২৬ পারা পৃষ্ঠা-৮৩)
তিরমিযীর রিওয়ায়াতে উল্লিখিত এবং কুরআন মজীদ থেকে হাফিয ইবনে হাজার কর্তৃক সংকলিত নিরানব্বই আসমাউল হুসনা বা পবিত্র নামের প্রত্যেকটিই মা'রিফাতে ইলাহীর এক একটি দরজা স্বরূপ। উলামায়ে কিরাম বিভিন্ন যুগে এ পবিত্র নাম সমূহের ব্যাখ্যা সম্বলিত কিতাবদি রচনা করেছেন। কঠিন কঠিন সমস্যার সময় এগুলোর মাধ্যমে দু'আ করা আল্লাহওয়ালা বুযুর্গগণের চিরাচরিত অভ্যাস। এটি দু'আ কবুলের একটি পরীক্ষিত পন্থা।
২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) এর হাদীসের শুরুর অংশ হুবহু তাই, যা সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের বরাতে বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য এ হাদীসে নিরানব্বইটি পূত নাম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে- যা বুখারী মুসলিমের রিওয়ায়াতে নাই। এ জন্যে কোন কোন মুহাদ্দিস ও ভাষ্যকারের অভিমত হচ্ছে এই যে, মারফু' হাদীস যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উক্তি শুধু ততটুকুই, যা সহীহ্ কিতাবদ্বয়ে বর্ণিত হয়েছে অর্থাৎ
إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةَ وَتِسْعِيْنَ إِسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ.
"আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম এক কম এক শ'-যে ব্যক্তি তা কণ্ঠস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আর তিরমিযীর এ রিওয়ায়াতে এবং অনুরূপভাবে ইবনে মাজা ও হাকিম প্রমুখের রিওয়ায়াতে যে নিরান্নব্বই নাম বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা মহানবীর বাণী নয়, বরং আবু হুরায়রা (রা)-এর কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শাগরিদ তা হাদীসের ব্যাখ্যা স্বরূপ কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত আল্লাহ তা'আলার পবিত্র নামগুলিও বর্ণনা করে দিয়েছেন। মুহাদ্দিসীনদের পরিভাষায় এ আসমাউল হুসনাগুলো মুদরাজ (مدرج), এরূপ মনে করার একটি সঙ্গত কারণ এই যে, তিরমিযী, ইবনে মাজা ও হাকিমের বর্ণনায় নিরানব্বইটি পবিত্র নামের যে বিবরণ বর্ণিত হয়েছে, তাতে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যদি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ এ নামগুলো বলে দিতেন তাহলে তাতে এত ফারাক থাকাটা ছিল অসম্ভব ব্যাপার।
যাই হোক, এতো হলো হাদীস শাস্ত্র এবং এর রিওয়ায়াত 'সংক্রান্ত আলোচনা। কিন্তু এ ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেন যে, তিরমিযীর উপরোক্ত বর্ণনায় এবং অনুরূপ ইবনে মাজা প্রমুখের রিওয়ায়াতে বর্ণিত ৯৯টি পবিত্র নাম কুরআন মজীদ ও হাদীস থেকেই নেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিরানব্বইটি নাম মুখস্থ করার বিনিময়ে যে সুসংবাদ শুনিয়েছেন সে সুসংবাদের অবশ্যই তাঁরা যোগ্য বিবেচিত হবে যারা বিশুদ্ধ চিত্তে ভক্তি সহকারে আসমাউল হুসনা মুখস্থ করবেন এবং এগুলির মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করবেন। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (র) তার কারণ ও রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে লিখেন: আল্লাহ তা'আলার কামালিয়তের যে গুণাবলী তাঁর জন্যে সাব্যস্ত করা বা যে সমস্ত অপূর্ণতা থেকে তাঁর সত্তাকে মুক্ত প্রতিপন্ন করা চাই, উপরোক্ত আসমাউল হুসনায় তার সবকটিই এসে যায়। এ হিসাবে এ আসমাউল হুসনা আল্লাহ তা'আলার মা'রিফতের পরিপূর্ণ নিসাব বা কোর্স বিশেষ। আর এজন্যে সামগ্রিকভাবে এগুলোর মধ্যে অসাধারণ বরকত রয়েছে এবং ঊর্ধ্বজগতে এর বিরাট কবুলিয়ত রয়েছে। যখন কোন বান্দার আমলনামায় এ আসমাউল হুসনা লিপিবদ্ধ থাকে, তখন তা আল্লাহর রহমতের ফয়সালার হেতু হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তিরমিযী শরীফের উক্ত রিওয়ায়াতে বর্ণিত ৯৯টি নামের দুই তৃতীয়াংশ কুরআন শরীফে এবং অবশিষ্ট নামগুলি বিভিন্ন হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
হযরত জা'ফর সাদিক প্রমুখ বুযুর্গান যে দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলার নিরানব্বইটি নাম কুরআন মজীদেই রয়েছে, সেগুলি একটু পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে এবং এগুলির ব্যাপারে 'হাফিয ইবনে হাজারের সর্বশেষ গবেষণার বরাতও দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু কুরআন শরীফ থেকেই ঐ নিরানব্বইটি পবিত্র নাম খুঁজে বের করেছেন। কুরআন শরীফে এসব নাম অবিকল এভাবেই মওজুদ রয়েছে।
সেই সব মুহাদ্দিসীন ও ভাষ্যকারগণের উপরোক্ত অভিমত যদি মেনে নেয়া হয় যে, উপরোক্ত রিওয়ায়াতে আসমাউল হুসনা রূপে যে পবিত্র নামগুলি বর্ণিত হয়েছে, তা হাদীসে মরফু (مرفوع)-এর অংশ নয়, বরং কোন রাবীর পক্ষ থেকে মুদরাজ বা পরিবর্ধিত অংশ বিশেষ অর্থাৎ হাদীছের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কেউ এ বিশদ বিবরণটিও জুড়ে দিয়েছেন-যা কুরআন ও হাদীসে পাওয়া যায়, তা হলে হাফিয ইবনে হাজার কর্তৃক পেশকৃত ফিরিস্তিই অগ্রগণ্য হওয়া উচিত। কেননা, তাঁর উল্লেখ করা পবিত্র নামগুলো হুবহু কুরআন মজীদ থেকে নেয়া-নিজে এগুলোর মধ্যে তিনি কোনরূপ হস্তক্ষেপ করেননি। আমরা নিচে 'ফাৎহুল বারী' থেকে তাঁর প্রদত্ত সেই ফিরিস্তিটি উদ্ধৃত করছি। তিনি আল্লাহর আসল নাম আল্লাহকেও ঐ নিরানব্বই নামের মধ্যে গণনা করেছেন। বরং ঐ পবিত্র নাম দিয়েই তিনি তাঁর ফিরিস্তি শুরু করেছেন।
কুরআন মজীদে উল্লেখিত আল্লাহর নিরানব্বইটি পবিত্র নাম
১. اَللّٰهُ (আল্লাহ)
২. اَلرَّحْمٰنُ (আর রাহমান)
৩: ُاَلرَّحِيْم (আর রাহীম)
৪. اَلْمَلِكُ (আল মালিকু)
৫. اَلْقُدُّوْسُ (আল কুদ্দুস)
৬. اَلسَّلَامُ (আস সালাম)
৭. اَلْمُؤْمِنُ (আল মু'মিন)
৮. ُاَلْمُهَيْمِن (আল মুহাইমিন)
৯. اَلْعَزِيْزُ (আল আযীয)
১০. اَلْجَبَّارُ (আল জাব্বার)
১১. اَلْمُتَكَبِّرُ (আল মুতাকাব্বির)
১২. اَلْخَالِقُ (আল খালিক)
১৩. اَلْبَارِئُ (আল বারিউ)
১৪. اَلْمُصَوِّرُ (আল মুসাব্বির)
১৫. اَلْغَفَّارُ (আল গাফফার)
১৬. اَلْقَهَّارُ (আল কাহ্হার)
১৭. اَلتَّوَّابُ (আ-তাওয়াবু)
১৮. اَلْوَهَّابُ (আল-ওহ্হাবু)
১৯. اَلْفَتَّاحُ (আল খাল্লাকু)
২০. اَلْعَلَيْمُ (আল আলীম)
২১. اَلْقَابِضُ (আল কাবিয)
২২. اَلْبَاسِطُ (আল বাসিত)
২৩. اَلْخَافِضُ (আল খাফি)
২৪. الرَّافِعُ (আর রাফি)
২৫. اَلْمُعِزُّ (আল মুইয)
২৬. اَلْمُذِلَّ (আল-মুযিল)
২৭ ُاَلسَّمِيْع (আস সামিউ)
২৮. اَلْبَصِيْرُ (আল বাসিরু)
২৯. اَلْحَكَمُ (আল হাকামু)
৩০. اَلْعَدْلُ (আল আদল)
৩১. اَللَّطِيْفُ (আল লতীফ)
৩২. اَلْخَبِيْرُ (আল খাবীর)
৩৩. اَلْحَلِيْمُ (আল হালীম)
৩৪. اَلْعَظِيْمُ (আল আযীম)
৩৫. اَلْغَفُوْرُ (আল গাফুর)
৩৬. اَلشَّكُوْرُ (আশ শাকুর)
৩৭. اَلْعَلَيُّ (আল আলীয়্যূ)
৩৮. اَلْكَبِيْرُ (আল কাবীরু)
৩৯. اَلْحَفِيْظُ (আল হাফীযু)
৪০. اَلْمُقِيْتُ (আল মুকীতু)
৪১. اَلْحَسِيْبُ (আল হাসীব)
৪২ اَلْجَلِيْلُ (আল জালীল)
৪৩. اَلْكَرِيْمُ (আল কারীম)
৪৪. اَلرَّقِيْبُ (আর রাকীব)
৪৫ اَلْمُجِيْبُ (আল মুজীব)
৪৬. اَلْوَاسِعُ (আল ওয়াসিউ)
৪৭ اَلْحَكِيْمُ (আল হাকীম)
৪৮. اَلْوَدُوْدُ (আল ওদূদ)
৪৯. اَلْمَجِيْدٌ (আল মজীদ)
৫০. اَلْبَائِثُ (আল বাইসু)
৫১. اَلشَّهِيْدُ (আশ শাহীদ)
৫২. اَلْحَقُّ (আল হক)
৫৩. اَلْوَكِيْلُ (আল ওকীল)
৫৪. أَلْقَوِيُّ (আল কভী)
৫৫. اَلْمَتِيْنُ (আল মতীন)
৫৬. اَلْوَلِيُّ (আল ওলী)
৫৭. اَلْحَمِيْدُ (আল হামীদ)
৫৮. اَلْمُحْصَيْ (আল মুহসী)
৫৯. اَلْمُبْدِئُ (আল মুবদিউ)
৬০. اَلْمُعِيدُ (আল মুইদ)
৬১ اَلْمُحْيِى (আল মুহঈ)
৬২. اَلْمُمِيْتُ (আল মুমীত)
৬৩. اَلْحَيُّ (আল হাইউ)
৬৪. أَلْقَيُّوْمُ (আল কাইয়্যূম)
৬৫. اَلْوَاجِدُ (আল ওয়াজিদ)
৬৬ الْمَجِيْدُ (আল মাজিদু)
৬৭. اَلْوَاحِدُ (আল ওয়াহিদু)
৬৮. اَلْاَحَدُ (আল আহাদ)
৬৯. اَلصَّمَدُ (আস সামাদ)
৭০. اَلْقَدِيْرُ (আল কাদির)
৭১. اَلْمُقْتَدِرُ (আল মুকতাদির)
৭২. الْمُقَدِّمُ (আল মুকাদ্দিম)
৭৩. اَلْمُؤَخِّرُ (আল মুআখ্যির)
৭৪. اَلْاَوَّلُ (আল আওয়াল)
৭৫. اَلْآخِرُ (আল আখিরু)
৭৬. اَلظَّاهِرُ (আয যাহিরু)
৭৭. اَلْبَاطِنُ (আল বাতিন)
৭৮. اَلْوَالِيُ (আল ওয়ালী)
৭৯. اَلْمُتَعَالِى (আল মুতাআলী)
৮০. اَلْبَرُّ (আল বাররু)
৮১. اَلتَّوَّابُ (আত তাওয়াব)
৮২. الْمُنْتَقِمُ (আল মুনতাকিম)
৮৩. ُّاَلْعَفُو (আল আফুউ)
৮৪.. اَلرَّؤُوفُ (আর রাউফ)
৮৫. مَلِكُ الْمُلْكِ (মালিকুল মুলক)
৮৬. ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ (যুল জালালি ওয়াল ইকরাম)
৮৭. اَلْمُقْسِطُ (আল মুকসিত)
৮৮. اَلْجَامِعُ (আল জামিউ)
৮৯. اَلْغَنِيُّ (আল গনী)
৯০. اَلْمُغْنِي (আল মুগনী)
৯১. اَلْمَانِعُ (আল মানি)
৯২. اَلضَّارُّ (আদ দার)
৯৩ اَلنَّافِعُ (আন নাফিউ)
৯৪. اَلنُّوْرُ (আন নূর)
৯৫. أَلْهَادِي (আল হাদী)
৯৬. اَلْبَدِيعُ (আল বাদীউ)
৯৭. اَلْبَاقِي (আল বাকী)
৯৮. اَلْوَارِثُ (আল ওয়ারিসু)
৯৯. اَلرَّشِيْدُ (আর রশীদ)
১০০. الصَّبُوْرُ (আস সাবুর)
( فتح البارى جز ٢٦ : ٨٣)
(আস-সামাদ-আল্লাযী লাম য়ালিদ ওয়ালাম য়ূলাদ ওলাম য়াকুল লাহূ কুফুওয়ান আহাদ) (ফতহুল বারী ২৬ পারা পৃষ্ঠা-৮৩)
তিরমিযীর রিওয়ায়াতে উল্লিখিত এবং কুরআন মজীদ থেকে হাফিয ইবনে হাজার কর্তৃক সংকলিত নিরানব্বই আসমাউল হুসনা বা পবিত্র নামের প্রত্যেকটিই মা'রিফাতে ইলাহীর এক একটি দরজা স্বরূপ। উলামায়ে কিরাম বিভিন্ন যুগে এ পবিত্র নাম সমূহের ব্যাখ্যা সম্বলিত কিতাবদি রচনা করেছেন। কঠিন কঠিন সমস্যার সময় এগুলোর মাধ্যমে দু'আ করা আল্লাহওয়ালা বুযুর্গগণের চিরাচরিত অভ্যাস। এটি দু'আ কবুলের একটি পরীক্ষিত পন্থা।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)