মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২২৫৯
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২২৫৯। হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে কোন মুসলমান যে কোন দো'আ করে যাহাতে কোন গোনাহর কাজ অথবা আত্মীয়তা বন্ধন ছেদের কথা নাই, নিশ্চয়, আল্লাহ্ তাহাকে এই তিনটির একটি দান করেন। তাহাকে তাহার চাওয়া বস্তু দুনিয়াতে দান করেন অথবা উহা তাহার পরকালের জন্য জমা রাখেন অথবা উহার অনুরূপ কোন অমঙ্গলকে তাহা হইতে দূরে রাখেন। সাহাবীগণ বলিলেন, তবে তো আমরা অনেক লাভ করিব। হুযূর বলিলেন, আল্লাহ্ ইহা অপেক্ষাও অধিক দেন। – আহমদ
كتاب الدعوات
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عنهُ من السُّوءِ مثلَها قَالُوا: إِذنْ نُكثرُ قَالَ: «الله أَكثر» . رَوَاهُ أَحْمد
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর কাছে রক্ষিত সম্পদ ভাণ্ডার অনন্ত অসীম এবং চিরস্থায়ী। যদি সকল বান্দা অহরহ তার দরবারে প্রার্থনা করতে থাকে আর তিনি প্রত্যেককেই দানের ফয়সালা করেন, তবুও তাঁর নিয়ামত রাশিতে সামান্যও ঘাটতি পড়বে না। মুস্তাদরকে হাকিমে হযরত জাবির (রা) বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, আল্লাহ তা'আলা যখন সেই বান্দাকে পরকালের জন্যে সঞ্চিত তার দুনিয়ার প্রার্থনা সমূহের বিনিময়ে রক্ষিত নিয়ামতরাশি দেখাবেন- যে দুনিয়াতে অনেক বেশি দু'আ করেছে অথচ বাহ্যত: দুনিয়ায় তা কবুল হয়নি তখন ঐ বান্দা বলে উঠবে:
يَا لَيْتَهُ لَمْ يُعَجِّلْ لَهُ شَيْءٌ مِنْ دُعَائِهِ (كنز العمال)
হায়, যদি দুনিয়ায় আমার কোন দু'আই কবুল না হতো আর এখানেই আমি সবগুলি দু'আর বিনিময় পেতাম তা হলে কতই না উত্তম হতো।
-(কানযুল উম্মাল পৃ: ৫৭ জিলদ-২)
يَا لَيْتَهُ لَمْ يُعَجِّلْ لَهُ شَيْءٌ مِنْ دُعَائِهِ (كنز العمال)
হায়, যদি দুনিয়ায় আমার কোন দু'আই কবুল না হতো আর এখানেই আমি সবগুলি দু'আর বিনিময় পেতাম তা হলে কতই না উত্তম হতো।
-(কানযুল উম্মাল পৃ: ৫৭ জিলদ-২)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)