মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
হাদীস নং: ২২২৭
- যাবতীয় দোয়া-যিক্র
প্রথম অনুচ্ছেদ
২২২৭। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন: বন্দার দো'আ কবুল করা হয়, যাবৎ না সে গোনাহর কাজের অথবা আত্মীয়তা বন্ধন ছেদের দোআ করে এবং যাবৎ না সে তাড়াতাড়ি করে। জিজ্ঞাসা করা হইল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তাড়াতাড়ি করা কি? তিনি বলিলেন: এইরূপ বলা, আমি (এই) দো'আ করিয়াছি, আমি (ঐ) দোআ করিয়াছি, কৈ আমার দো'আ তো কবুল হইতে দেখিলাম না – অতঃপর সে অবসাদগ্রস্ত হইয়া পড়ে এবং দোআ ছাড়িয়া দেয়। —মুসলিম
كتاب الدعوات
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ» . قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الِاسْتِعْجَالُ؟ قَالَ: يَقُولُ: قَدْ دَعَوْتُ وَقَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ أَرَ يُسْتَجَابُ لِي فَيَسْتَحْسِرُ عِنْدَ ذَلِكَ وَيَدَعُ الدُّعاءَ . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এর মর্ম হচ্ছে এই যে, নিজের তাড়াহুড়া ও অস্থিরতার জন্যে বান্দা তার কুবূলিয়তের যোগ্যতা হারিয়ে বসে। এজন্যে বান্দার উচিত সর্বদা তাঁর দরজার ফকীর হয়ে থাকা এবং সর্বদা দু'আ করতে থাকা। তার এ দৃঢ় প্রত্যয় ও আশা পোষণ করা উচিত যে, ত্বরা হোক আর দেরীতেই হোক, আমার মনিব মাওলা অবশ্যই আমার দু'আ শুনবেন। তাঁর রহমতের দৃষ্টি আমার দিকে নিবিষ্ট হবে। কখনো কখনো কোন বিশুদ্ধচিত্ত যাচ্ঞাকারীর আন্তরিক দু'আও এজন্যে তাৎক্ষণিকভাবে কবুল করা হয় না, যেন সে তার এ নির্মল চিত্তের আন্তরিক দু'আ সে অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যায়, যা তার উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম বা ওসীলা হয়ে যায়। তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সে দু'আ কবুল করে ফেললে এ বিরাট নিয়ামত থেকে সে বঞ্চিত রয়ে যেতো!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)