মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৯- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
হাদীস নং: ২১৬৯
- কুরআনের ফাযাঈল অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
২১৬৯। হযরত আইফা ইবনে আব্দ কালায়ী (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কোরআনের কোন্ সূরা অধিকতর মর্যাদাবান ? তিনি বলিলেনঃ কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, কোরআনের কোন আয়াত অধিকতর মর্যাদাবান ? তিনি বলিলেন, আয়াতুল কুরসী – “আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম।” সে আবার জিজ্ঞাসা করিল! ইয়া নবিয়্যাল্লাহ্! কোরআনের কোন আয়াত এমন, যাহার বরকত আপনার এবং আপনার উম্মতের প্রতি পৌছিতে আপনি ভালবাসেন? তিনি বলিলেন, সূরা বাকারার শেষের দিক। কেননা, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার আরশের নীচের ভাণ্ডার হইতে উহা এই উম্মতকে দান করিয়াছেন। দুনিয়া ও আখেরাতের এমন কোন কল্যাণ নাই যাহা ইহাতে নাই। —দারেমী
كتاب فضائل القرآن
وَعَنْ أَيْفَعَ بْنِ عَبْدٍ الْكَلَاعِيِّ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ سُورَةِ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ)
قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: آيَةُ الْكُرْسِيِّ (اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ)
قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ تُحِبُّ أَنْ تُصِيبَكَ وَأُمَّتَكَ؟ قَالَ: «خَاتِمَةُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فَإِنَّهَا مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ تَحْتِ عَرْشِهِ أَعْطَاهَا هَذِهِ الْأُمَّةَ لَمْ تتْرك خيرا من يخر الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟ قَالَ: آيَةُ الْكُرْسِيِّ (اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ)
قَالَ: فَأَيُّ آيَةٍ يَا نَبِيَّ اللَّهِ تُحِبُّ أَنْ تُصِيبَكَ وَأُمَّتَكَ؟ قَالَ: «خَاتِمَةُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فَإِنَّهَا مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ تَحْتِ عَرْشِهِ أَعْطَاهَا هَذِهِ الْأُمَّةَ لَمْ تتْرك خيرا من يخر الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ সম্পর্কে হাদীসে যে বলা হয়েছে, এটা আল্লাহ তা'আলার বিশেষ রহমতের ভাণ্ডারের সম্পদ, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। শুরুতে آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ থেকে لا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ পর্যন্ত ঈমানের শিক্ষা বিবৃত হয়েছে। তারপর سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا এর মধ্যেও আনুগত্যের অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তারপর رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ অংশে সে সব ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অপরাধের ক্ষমা ও মার্জনার প্রার্থনা রয়েছে যা ঈমান ও আনুগত্যের অঙ্গীকারের পরও বান্দা দ্বারা সংঘটিত হয়ে যায় তারপর لا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا তে দুর্বল বান্দাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপর এমন কোন বোঝা চাপানো হয় না, যা তার সাধ্যাতীত। তারপর رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক দুয়া বান্দাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ আয়াতগুলো এমনিতেই আল্লাহর রহমতের ভাণ্ডার স্বরূপ। আল্লাহ তা'আলা এগুলোর মূল্যায়ন করার এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)