মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৭- যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৯৫৫
৯. প্রথম অনুচ্ছেদ - দান করে দান ফেরত না নেবার বর্ণনা
১৯৫৫। হযরত বুরায়দা (রাঃ) বলেন, একদা আমি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসিয়াছিলাম, এমন সময় তাঁহার নিকট একটি স্ত্রীলোক আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমি আমার মাকে একটি বাদী দান করিয়াছিলাম। তিনি মারা গিয়াছেন (এবং বাদীটি আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা হইয়াছি, ইহা কি দান ফিরাইয়া লওয়ার অন্তর্গত হইবে)? হুযূর (ছাঃ) বলিলেন: তোমার সওয়াব নির্ধারিত হইয়া গিয়াছে, আর উত্তরাধিকার উহা তোমাকে ফিরাইয়া দিয়াছে।
অতঃপর স্ত্রীলোকটি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাহার একমাসের রোযা বাকি রহিয়াছে। আমি কি তাঁহার পক্ষ হইতে ঐ রোযা রাখিতে পারি? হুযুর বলিলেন, হ্যাঁ, তাঁহার পক্ষ হইতে রোযা রাখিতে পার। পুনরায় স্ত্রীলোকটি জিজ্ঞাসা করিল, তিনি কখনও হজ্জ করেন নাই। আমি কি তাঁহার পক্ষ হইতে হজ্জ করিতে পারি? হুযুর বলিলেন, হ্যাঁ, তাঁহার পক্ষ হইতে হজ্জ করিতে পার। —মুসলিম
অতঃপর স্ত্রীলোকটি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাহার একমাসের রোযা বাকি রহিয়াছে। আমি কি তাঁহার পক্ষ হইতে ঐ রোযা রাখিতে পারি? হুযুর বলিলেন, হ্যাঁ, তাঁহার পক্ষ হইতে রোযা রাখিতে পার। পুনরায় স্ত্রীলোকটি জিজ্ঞাসা করিল, তিনি কখনও হজ্জ করেন নাই। আমি কি তাঁহার পক্ষ হইতে হজ্জ করিতে পারি? হুযুর বলিলেন, হ্যাঁ, তাঁহার পক্ষ হইতে হজ্জ করিতে পার। —মুসলিম
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَت يَا رَسُول الله إِنِّي كنت تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِجَارِيَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ قَالَ: «وَجَبَ أَجَرُكِ وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاثُ» . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أفأصوم عَنْهَا قَالَ: «صومي عَنْهَا» . قَالَت يَا رَسُول الله إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ: «نعم حجي عَنْهَا» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এবাদত তিন প্রকার (১) নিছক মালী এবাদত— যাহা মাল দ্বারা আদায় করা হয়, যথা— যাকাত। (২) নিছক বদনী বা শারীরিক এবাদত – যাহা শুধু শরীর দ্বারা আদায় করা হয়, যথা—নামায ও রোযা এবং (৩) মালী ও বদনী — যাহা মাল ও বদন উভয় দ্বারা এক সাথে আদায় করা হয়, যথা— হজ্জ। প্রথম প্রকারের এবাদতে প্রতিনিধিত্ব জায়েয আছে যদিও উহা সে নিজেই আদায় করার ক্ষমতা রাখে, যথা— কোন ব্যক্তি যাকাতের টাকা নিজের হাতে গরীবকে না দিয়া নিজের প্রতিনিধির হাতে দেওয়াইল। দ্বিতীয় প্রকারের এবাদতে প্রতিনিধিত্ব জায়েয নহে। কেননা, অপর হাদীসে রহিয়াছে, “কেহ যেন কাহারও পক্ষ হইতে রোযা না রাখে এবং কেহ যেন কাহারও পক্ষ হইতে নামায না পড়ে বরং মিসকীনকে খানা খাওয়াইয়া দেয় অর্থাৎ, ফিদিয়া দেয়।" সকল ইমামের ইহাই মত। কিন্তু ইমাম আহমদ (রঃ) এই বুরায়দার হাদীস অনুসারে রোযায় প্রতিনিধিত্ব জায়েয মনে করেন। তৃতীয় প্রকার এবাদতে তাহার স্বয়ং আদায় করার ক্ষমতা থাকিলে উহাতেও প্রতিনিধিত্ব জায়েয নহে। অবশ্য ক্ষমতা না থাকিলে তখন প্রতিনিধির দ্বারা আদায় করা যাইতে পারে। —আশেঅ্যা'
