আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৯- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
হাদীস নং: ৩৬২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৯০৯
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
২১৫৪. নবী কারীম (ﷺ) এবং সাহাবীদের মদীনা হিজরত।
৩৬২৮। যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তখন তাঁর গর্ভে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের, তিনি বলেন, আমি এমন সময় হিজরত করি যখন আমি আসন্ন প্রসবা। আমি মদীনায় এসে কুবাতে অবতরণ করি। এ কুবায়ই আমি পুত্র সন্তানটি প্রসব করি। এরপর আমি তাকে নিয়ে নবী কারীম (ﷺ)- এর কাছে এসে তাঁর কোলে দিলাম। তিনি একটি খেজুর আনলেন এবং তা চিবিয়ে তার মুখে দিলেন। কাজেই সর্বপ্রথম যে বস্তুটি আব্দুল্লাহর পাকস্থলীতে প্রবেশ করল তা হল নবী কারীম (ﷺ)- এর থুথু। নবী কারীম (ﷺ) চিবান খেজুরের সামান্য অংশ নবজাতকের মুখের ভিতর-এর তালুর অংশে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তার জন্য দুআ করলেন এবং বরকত কামনা করলেন। তিনি হলেন প্রথম নবজাতক সন্তান যিনি (হিজরতের পর) মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। খালিদ ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) উক্ত রেওয়ায়েত বর্ণনায় যাকারিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ)- এর অনুসরণ করেছেন। এতে রয়েছে যে, আসমা (রাযিঃ) গর্ভাবস্থায় হিজরত করে রাসূল (ﷺ)- এর কাছে আসেন।
كتاب المناقب
باب هِجْرَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ
3909 - حَدَّثَنِي زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَتْ: فَخَرَجْتُ وَأَنَا مُتِمٌّ فَأَتَيْتُ المَدِينَةَ فَنَزَلْتُ بِقُبَاءٍ فَوَلَدْتُهُ بِقُبَاءٍ، ثُمَّ أَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ، ثُمَّ «دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا، ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ، فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ دَخَلَ جَوْفَهُ رِيقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ حَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ ثُمَّ دَعَا لَهُ، وَبَرَّكَ عَلَيْهِ وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ» تَابَعَهُ خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا هَاجَرَتْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ حُبْلَى
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের এক রেওয়ায়াতে এই অতিরিক্ত সংযোজন রয়েছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর জন্ম গ্রহণে মুসলমানগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন, বিশেষভাবে এই কারণে যে, একথা প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল যে, ইয়াহুদীরা মুসলমানদের উপর এমন যাদু করে ফেলেছে যে, তাদের সন্তানই হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর জন্ম এটাকে ভুল প্রমাণিত করে দিল, আর মুসলমানদের যেসব শত্রু এ যাদুর কথা প্রচার করেছিল তারা লাঞ্ছিত হল।
হাদীস গ্রন্থসমূহে “তাহনীক” সম্পর্কে অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। এগুলো দ্বারা জানা গেল যে, যখন কোন পরিবারে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, তখন তাকে নিয়ে আল্লাহর কোন মকবুল ও নেককার বান্দার কাছে যাওয়া চাই, তার জন্য মঙ্গল ও বরকতের দু‘আ করানো চাই এবং তাহনীকও করা চাই। এটা ঐসব সুন্নতের একটি, যার প্রচলন এখন খুবই কমে গেছে।
হাদীস গ্রন্থসমূহে “তাহনীক” সম্পর্কে অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। এগুলো দ্বারা জানা গেল যে, যখন কোন পরিবারে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, তখন তাকে নিয়ে আল্লাহর কোন মকবুল ও নেককার বান্দার কাছে যাওয়া চাই, তার জন্য মঙ্গল ও বরকতের দু‘আ করানো চাই এবং তাহনীকও করা চাই। এটা ঐসব সুন্নতের একটি, যার প্রচলন এখন খুবই কমে গেছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)