মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৫- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৮৪১
- নামাযের অধ্যায়
১২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সালাতে ক্বিরাআতের বর্ণনা
৮৪১। হযরত ওবায়দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একবার (আমার পিতা) ওমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) হযরত আবু ওয়াকেদ লাইছীকে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরে কি পাঠ করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয় ঈদেই সূরা কাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ এবং ইকতারাবাতিস সাআহ পাঠ করতেন। -মুসলিম
كتاب الصلاة
بَابُ الْقِرَاءَةِ فِى الصَّلَاةِ
وَعَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ سَأَلَ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ: (مَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْأَضْحَى وَالْفِطْرِ؟ فَقَالَ: كَانَ يَقْرَأُ فِيهِمَا: ب (ق وَالْقُرْآن الْمجِيد)

و (اقْتَرَبت السَّاعَة)

رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ উভয় ঈদের সালাতে সূরা কাফ ও সূরা কামার পাঠ করতেন। কোন কোন ভাষ্যকার লিখেছেন, হযরত উমর (রা)-এর এই জিজ্ঞাসা তাঁর অজানার কারণে বা ভুলে যাওয়ার কারণে ছিল না, কেননা তাঁর সম্পর্কে একথা চিন্তা করা যায় না। তার প্রশ্নের কারণ হয়ত হযরত আবূ ওয়াকিদ লায়সীর ইলম ও স্মরণ শক্তি সম্পর্কে অবগত হওয়া অথবা তাঁর মুখ থেকে অপরকে শুনানো অথবা নিজ জানা বিষয় সত্যায়িত করা।

সালাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষ কোন সূরা পাঠের নির্দেশ দেননি এবং নিজে কার্যত এরূপ করেনও নি। তবে হ্যাঁ, কোন কোন সালাতে বিশেষ বিশেষ সূরা পাঠের বিষয়টি তাঁর থেকে প্রমাণিত।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ (র) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায়' বলেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ কোন কোন সালাতে বিশেষ গুরুত্ব ও উপকারিতা লক্ষ্য করে বিশেষ সূরা পাঠ করা পসন্দ করতেন। কিন্তু না তিনি অকাট্যভাবে নির্দিষ্ট করে গেছেন আর না অন্যকে তা করার তাগিদ দিয়েছেন। সুতরাং সালাতে যদি কেউ তাঁর অনুসরণ করে, তবে তা উত্তম, আর কেউ যদি তা না করে তবে তাতে কোন দোষ নেই।" (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা: দ্বিতীয় পর্ব)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)