মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৫- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৪১
- নামাযের অধ্যায়
৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মাসজিদ ও সালাতের স্থান
৭৪১। হযরত আবু উমামাহ বাহেলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, জনৈক ইয়াহুদী পণ্ডিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল যে, যমিনের মধ্যে উত্তম স্থান কোনটি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন যে, তুমি নীরব থাক, জিবরাঈলের আগমন পর্যন্ত। এই বলে তিনি নিজেও নীরবে থাকলেন ঐ আলিমও নীরব থাকল। অতঃপর জিবরাঈল আগমন করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বিষয়টি তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। জিবরাঈল বললেন, প্রশ্নকারী অপেক্ষা প্রশ্নকৃত ব্যক্তি অধিক জ্ঞাত নয়; কিন্তু আমি আমার প্রতিপালককে জিজ্ঞেস করব। অতঃপর জিবরাঈল বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! আমি আল্লাহর এত নিকটবর্তী হয়েছিলাম, যতটা এর পূর্বে কখনও হইনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কিভাবে এবং কত নিকটে গিয়েছিলেন? জিবরাঈল বললেন, আমার মধ্যে এবং তাঁর মধ্যে মাত্র সত্তর হাজার নূরের পর্দা বাকী ছিল। তখন আল্লাহ্ পাক বলে দিলেন, যমিনের নিকৃষ্টতম স্থান হলো বাজারসমূহ এবং উৎকৃষ্টতম স্থান হলো মসজিদসমূহ। -ইবনে মাজাহ
كتاب الصلاة
وَعَن أبي أُمَامَة قَالَ: إِنَّ حَبْرًا مِنَ الْيَهُودِ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْبِقَاعِ خَيْرٌ؟ فَسَكَتَ عَنْهُ وَقَالَ: «أَسْكُتُ حَتَّى يَجِيءَ جِبْرِيلُ» فَسَكَتَ وَجَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَسَأَلَ فَقَالَ: مَا المسؤول عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ أَسْأَلُ رَبِّيَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى. ثُمَّ قَالَ جِبْرِيلُ: يَا مُحَمَّدُ إِنِّي دَنَوْتُ مِنَ اللَّهِ دُنُوًّا مَا دَنَوْتُ مِنْهُ قطّ. قَالَ: وَكَيف كَانَ ياجبريل؟ قَالَ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ حِجَابٍ مِنْ نُورٍ. فَقَالَ: شَرُّ الْبِقَاعِ أَسْوَاقُهَا وَخَيْرُ الْبِقَاع مساجدها
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মানব জীবনের দু'টি ধারা রয়েছে। একটি হলো আধ্যাত্মিক এবং অপরটি বৈষয়িক ও পাশবিক। আধ্যাত্মিক অনিবার্য দাবি হলো, আল্লাহর ইবাদাত, যিকর-আযকার ও অপরাপর সৎকাজে মশগুল থাকা। এভাবে এ ধারার উৎকর্ষ সাধিত হয় এবং এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ্ বিশেষ রহমত লাভ করে এবং তাঁর প্রিয় বান্দা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। উল্লেখ্য এ সকল কাজ আঞ্জাম দেওয়ার শ্রেষ্ঠতম স্থান হলো মসজিদ। কেননা ইবাদত ও যিকর-আযকারের জন্যই মূলত মসজিদ নির্মিত হয়ে থাকে। এদিক থেকে বায়তুল্লাহর সাথে রয়েছে এর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। এজন্যই মানুষের আবাস গৃহের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় স্থান হলো মসজিদ। পক্ষান্তরে হাট-বাজার মানুষের বৈষয়িক ও পাশবিক প্রবৃত্তির দাবি পূরণের কেন্দ্ররূপে বিবেচিত। আর মানুষ সেখানে প্রবেশ করে আল্লাহ্ সম্পর্কে বে-খবর হয়ে পড়ে। এর ফলে তার অন্তরে পাপাচারের ময়লার স্তূপ জমে যায়। এজন্যেই বাজার আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষের আবাসগৃহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট স্থান বলে বিবেচিত।
তবে হাদীসের মূল দাবি হচ্ছে এই যে, মু'মিন লোকদের উচিত বেশির ভাগ সময় মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং তা মিলন কেন্দ্রে পরিণত করা এবং একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে বাজারে যাওয়া। তবে বাজারের কলুষিত পরিবেশের সাথে যাতে অন্তর বদ্ধমূল হয়ে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা চাই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়া, প্রতারণা করা, খিয়ানত করা ইত্যাদি কাজ থেকে নিজকে হিফাযত রাখা একান্ত কর্তব্য। এ সকল বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেই কেবল হাট-বাজারের সাথে সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য এহেন সদাচারী ও সত্যপন্থী ব্যবসায়ীদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ জান্নাত লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। বাজারকে পায়খানার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কেননা পায়খানা অপসন্দনীয় ও রুচি পরিপন্থী স্থান তবুও যেমন প্রয়োজনে সেখানে যেতে হয়, বাজারের বিষয়টিও তদ্রূপ। বরং মানুষ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কাজ যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ﷺ প্রদর্শিত নির্দেশ মুতাবিক সম্পন্ন করে, তবে সেজন্য রয়েছে বিরাট সাওয়াব ও প্রতিদান।
তবে হাদীসের মূল দাবি হচ্ছে এই যে, মু'মিন লোকদের উচিত বেশির ভাগ সময় মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা এবং তা মিলন কেন্দ্রে পরিণত করা এবং একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে বাজারে যাওয়া। তবে বাজারের কলুষিত পরিবেশের সাথে যাতে অন্তর বদ্ধমূল হয়ে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা চাই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, মিথ্যার আশ্রয় নেয়া, প্রতারণা করা, খিয়ানত করা ইত্যাদি কাজ থেকে নিজকে হিফাযত রাখা একান্ত কর্তব্য। এ সকল বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেই কেবল হাট-বাজারের সাথে সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলাবাহুল্য এহেন সদাচারী ও সত্যপন্থী ব্যবসায়ীদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ জান্নাত লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। বাজারকে পায়খানার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কেননা পায়খানা অপসন্দনীয় ও রুচি পরিপন্থী স্থান তবুও যেমন প্রয়োজনে সেখানে যেতে হয়, বাজারের বিষয়টিও তদ্রূপ। বরং মানুষ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কাজ যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ﷺ প্রদর্শিত নির্দেশ মুতাবিক সম্পন্ন করে, তবে সেজন্য রয়েছে বিরাট সাওয়াব ও প্রতিদান।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)