মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
৫- নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৫৮
- নামাযের অধ্যায়
৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - আযানের ফযীলত ও মুয়াযযিনের উত্তর দান
৬৫৮। হযরত ওমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন মুয়াযযিন বলে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আর তখন কেউ (কোন শ্রোতা) আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলে, তারপর যখন মুয়াযযিন বলে আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আর তখন শ্রোতা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, তারপর যখন মুয়াযযিন বলে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ আর তখন শ্রোতা আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলে, তারপর যখন মুয়াযযিন বলে হাইয়্যা আলাছ ছালাহ, হাইয়্যা আলাল ফালাহ তখন কেউ বলে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ, তারপর যখন মুয়াযযিন বলে আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, তখন কেউ তাই বলে। তারপর যখন মুয়াযযিন বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু তখন কেউ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু তার অন্তর হতে বলে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। -মুসলিম
كتاب الصلاة
بَابُ فَضْلِ الْاَذَانِ وَاِجَابَةِ الْـمُؤَذِّنِ
وَعَنْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ أَحَدُكُمُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ قَالَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِنْ قَلْبِهِ دخل الْجنَّة» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ইতোপূর্বে পাঠকগণ জানতে পেরেছেন যে, আযানের দু'টি বিশিষ্ট দিক রয়েছে ১. জামা'আতের সাথে সালাত আদায়ের ঘোষণা দেওয়া এবং ২. ঈমান ও দীনের দাওয়াত। প্রথমটি তথা আযান শুনার পর প্রত্যেক মুসলমানের জামা'আতের সাথে সালাত আদায়ের লক্ষ্যে মসজিদের উদ্দেশ্য রওনা করা একান্ত প্রয়োজন। দ্বিতীয়টি অর্থাৎ আযানের ধ্বনি শুনার সাথে সাথে এর প্রতিশব্দের ঈমানী দাওয়াতে সাড়া দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য এবং মুখে ও অন্তরে তার প্রত্যয় ঘোষণা করা চাই। অনুরূপভাবে প্রত্যেক আযানের সময় ঈমানের বলে বলীয়ান হওয়া চাই। নবী কারীম ﷺ আযানের জবাবে দানের এবং দু'আয় কালিমা শাহাদাত পাঠের যে নির্দেশ দিয়েছেন ও অনুপ্রাণিত করেছেন এটাই তার রহস্য। এর দ্বারা একথাও পরিষ্কার বুঝা যায় যে, আযানের মৌখিক জবাব আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ আমল মনে হলেও এর উপর ভিত্তি করে জান্নাতবাসী হওয়ার সুসংবাদ দানের রহস্য কী?
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)