মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

৫- নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৯৩
- নামাযের অধ্যায়
২. প্রথম অনুচ্ছেদ - প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায়
৫৯৩। হযরত আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, এটা মুনাফিকের নামায, যে বসে সূর্যের অপেক্ষা করে যে কখন তা হলুদ বর্ণ হয় এবং শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে আসে, তখন সে উঠে দাঁড়ায় এবং কপাল ঠোকরায়, তাতে সে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। -মুসলিম
كتاب الصلاة
بَابُ تَعْجِيْلِ الصَّلَوَاتِ
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِ: يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتْ وَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلا . رَوَاهُ مُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নামায মুসলমানের চোখ শীতলকারী এবং অন্তরের শান্তি দানকারী। নামাযের সময় উপস্থিত হলে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মু'মিনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। তাই মুমিন ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সময় মত নামাযে মশগুল হয়। অপরদিকে মুনাফিকের নিকট নামায খুবই অপছন্দনীয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বা কোনরূপ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সে নামায পড়ে। যেহেতু তার মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত নেই এবং বিচারের দিনেও বিশ্বাসী নয় তাই নামাযের প্রতি মুনাফিকের কোন অনুরাগ নেই। হৃদয়ের আকর্ষণ না থাকার দরুন মুনাফিক সময়মত নামায পড়তে পারে না। কোন কাজের বাহানা করে বিলম্ব করতে থাকে। কোন কাজ না থাকলেও অনর্থক বসে বসে সময় নষ্ট করে। অন্তিম সময়ে নামাযের জন্য দাঁড়ালেও মন তার নামাযের জন্য প্রস্তুত থাকে না, নামাযের আদাব ও আরকান পূর্ণভাবে আদায় করে না। তাই সবদিক থেকে তার নামায অপূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)