মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২- ঈমানের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩২
- ঈমানের অধ্যায়
৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের আযাব
১৩২। হযরত উছমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি কোন কবরের নিকট দাঁড়ালেই ক্রন্দন শুরু করতেন। তাতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, হযরত! আপনি বেহেশত দোযখের প্রসঙ্গ উঠলে তখন তো এরূপ ক্রন্দন করেন না, অথচ কবরের কাছে এলে কাঁদেন (এইরূপ কাঁদার কারণ কি)? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, পারলৌকিক মঞ্জিলসমূহের মধ্যে প্রথম মঞ্জিল হল কবর। এই মঞ্জিল হতে রেহাই পাওয়া গেলে পরবর্তী মঞ্জিলগুলোতে রেহাই পাওয়া আসান হয়ে যায়। আর এই মঞ্জিল হতে রেহাই না পাওয়া গেলে পরবর্তী মঞ্জিলগুলি আরও ভয়াবহ হয়। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও ইরশাদ করেছেন যে, আমি এমন কোন ভয়ানক স্থান দেখি নি যে, কবর তাহতে অধিকতর ভয়ানক নয়। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব।
كتاب الإيمان
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني
وَعَن عُثْمَان رَضِي الله عَنهُ أَنه إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَأَيْت منْظرًا قطّ إِلَّا الْقَبْر أَفْظَعُ مِنْهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيث غَرِيب

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কবরের ভয়ঙ্কর দৃশ্য সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) যে সব ইরশাদ করেছেন কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তা তাঁর স্মরণ হওয়ার কারণে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হন এবং কাঁদতে থাকেন।

আলমে বারযাখের বিভিন্ন অবস্থা বহুসংখ্যক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আখিরাতের যিন্দেগীর প্রথম মনযিলের অবস্থা খুবই কঠিন। খোদাভীরু ব্যক্তিগণ মনযিল উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে সর্বদাই কাকুতি মিনতি করে থাকে। হযরত উসমান (রা)-এর তাকওয়া অতুলনীয়। তিনি তাঁর সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে আজীবন ইসলামের খেদমত করেছেন।

ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় তিনি তাঁর অনেক সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর অন্যতম। এতদসত্ত্বেও তিনি কবরের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কথা শুনে বিচলিত হতেন এবং কাঁদতেন। বস্তুত আখিরাতের প্রথম মনযিল এমন ভয়ঙ্কর ও কঠিন যে, খোদাভীরু ব্যক্তিগণ তা স্মরণ করে কাঁদেন।

যদি কোন ব্যক্তি আখিরাতের প্রথম মনযিলে ব্যর্থ হয় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ লাভকরতে সক্ষম না হয়, তাহলে তার আখিরাতের অবশিষ্ট মনযিলসমূহ আরও কঠিন এবং বিপদসঙ্কুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রথম মনয়িলে সাওয়াল জাওয়াবের উপর ব্যক্তির আলমে বারযাখের জীবন পরিপূর্ণ নির্ভরশীল। বারযাখের জীবনকে জান্নাত বা জাহান্নামের সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিয়ামত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত সময় বান্দাহর রূহকে বারযাখের জীবনের কষ্ট বা আরাম ভোগ করতে বাধ্য করা হয়।

বারযাখের জীবনে যদি কোন ব্যক্তি কষ্টের মধ্যে থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে, সে আখিরাতের শেষ মনযিলে আল্লাহর আদালতে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থার সম্মুখীন হবে।

মানুষের দুনিয়া এবং আখেরাতের জীবন মোটেই পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং অবিচ্ছিন্ন এবং ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে সেভাবেই তার মৃত্যু হয় এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের অবস্থা অনুযায়ী কবরের অবস্থা সাধারণত হয়ে থাকে। কবরের প্রথম পরীক্ষার প্রভাব বারযাখের গোটা জীবনের উপর স্থায়ী থাকে পুনরুত্থান পর্যন্ত। অতঃপর আখিরাতের শেষ পরীক্ষায় সেই ব্যক্তিই উত্তীর্ণ হয়, যে বারযাখের জীবনে আরাম আয়েশের মধ্যে ছিল এবং অনুত্তীর্ণ বা জাহান্নামী সেই ব্যক্তি হয়, যে বারযাখের জীবনে কষ্টদায়ক পরিস্থিতির মধ্যে ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান