আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ১৩২৪
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
৬৩৯- তোমার লজ্জা-শরম না থাকলে যাহা ইচ্ছাতাই করতে পারো।
১৩২৪. হযরত আবু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) ফরমাইয়াছেন যে সমস্ত নবুওয়াতী বাণী মানুষ এপর্যন্ত আয়ত্ত করিতে পারিয়াছে, তন্মধ্যে শ্রেষ্ঠ হইলঃ যখন তোমার লজ্জাবোধ রহিত হইয়া যায় তখন তুমি যাহা ইচ্ছা করিতে পার ।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ: سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسَ مِنْ كَلاَمِ النُّبُوَّةِ الأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের কালাম সঠিকভাবে সংরক্ষিত না থাকার কারণে আমরা তাঁদের ওয়ায নসীহত ও শিক্ষামূলক কথা জানতে পারিনি। তাঁরাও মানুষের আখলাক ও আমল সুন্দর ও সংশোধন করার জন্য বহু অমূল্য উপদেশ দান করেছেন। আলোচ্য হাদীসে নবী করীম ﷺ তাঁদের একটি উপদেশ সত্যায়িত করেছেন। এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে, পূর্ববর্তী নবীগণও তাঁদের উম্মতকে হায়া অবলম্বন করার উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আফসোস, তাঁদের দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁদের অনুসারিগণ ঈমানের নূর হারানোর সাথে সাথে হায়ার দৌলতও হারিয়ে ফেলেছে।
'যদি তোমার হায়া না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তা কর' কথার অর্থ হল, যে ব্যক্তির অন্তরে হায়ার আলো নেই সে যে কোন মন্দ আমল করতে পারে। বস্তুত হায়াশূন্য ব্যক্তি যে কোন গর্হিত কাজ করলেও আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কোন কারণ নেই। যার হায়া নেই তার ঈমান নেই এবং যার ঈমান নেই তার উপর আল্লাহ তা'আলা শয়তানকে লেলিয়ে দেন এবং শয়তান যার দোস্ত সে দুনিয়ার এমন কোন অকর্ম ও কুকর্ম নেই, যা করতে পারে না।
'যদি তোমার হায়া না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তা কর' কথার অর্থ হল, যে ব্যক্তির অন্তরে হায়ার আলো নেই সে যে কোন মন্দ আমল করতে পারে। বস্তুত হায়াশূন্য ব্যক্তি যে কোন গর্হিত কাজ করলেও আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কোন কারণ নেই। যার হায়া নেই তার ঈমান নেই এবং যার ঈমান নেই তার উপর আল্লাহ তা'আলা শয়তানকে লেলিয়ে দেন এবং শয়তান যার দোস্ত সে দুনিয়ার এমন কোন অকর্ম ও কুকর্ম নেই, যা করতে পারে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)