আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ৭৩৫
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
৩০৩- যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
৭৩৫. হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) চরম পরীক্ষা অলক্ষুণে পাওয়া, শত্রুদের বিদ্বেষ এবং ভাগ্য বিপর্যয় হইতে আল্লাহর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেন।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ سُمَيٍّ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، " كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ جَهْدِ الْبَلاءِ ، وَدَرْكِ الشَّقَاءِ ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে বাহ্যিক ভাবে তো চারটি বস্তু থেকে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে দুনিয়া ও আখিরাতের কোন অনিষ্ট, কোন কষ্ট, কোন বালা-মুসীবত এবং পেরেশানী এমন খুঁজে পাওয়া যায়না, যা এ চারটির কোন না কোনটির আওতায় পড়ে না।
এ চারটির প্রথমটি হচ্ছে جَهْدُ البَلاءِ (জাহদুল বালা)-কোন বালা-মুসীবতের প্রাবল্য। বালা হচ্ছে এমন প্রতিটি অবস্থা, যা মানুষের জন্য বিব্রতকর ও কষ্টদায়ক হয়ে থাকে এবং যাতে তার কঠিন পরীক্ষা হয়ে থকে। এটা দুনিয়াবীও হতে পারে আবার। তা দীনীও হতে পারে, ব্যক্তিগত পর্যায়েরও হতে পারে, আবার তা সমষ্টিগতও হতে পারে। মোদ্দা কথা, এই একটি মাত্র শব্দ সমস্ত বালা-মুসীবত ও আপদ-বিপদের ব্যাপারেই প্রযোজ্য। দ্বিতীয় যে বস্তুটি থেকে এ হাদীসে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তা হলো دَرْكُ الشَّقَاءِ বা ভাগ্য বিড়ম্বনায় পেয়ে যাওয়া। তৃতীয় ব্যাপার হচ্ছে سُوءُ القَضَاءِ বা মন্দ তকদীর। এ দুটি ব্যাপারে ব্যাপকতাও ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। যে বান্দা সর্বপ্রকার ভাগ্য বিড়ম্বনা ও মন্দ তকদীর থেকে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় ও হিফাযত লাভ করেছে, নিঃসন্দেহে সে সবকিছুই পেয়ে গিয়েছে। সর্বশেষে যে ব্যাপারটি থেকে এ দু'আতে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে, তা হচ্ছে شَمَاتَةُ الْأَعْدَاءِ বা শত্রুর উল্লাস অর্থাৎ কোন বিপদ বা ব্যর্থতা দেখে শত্রুদের হাসাহাসি। নিঃসন্দেহে শত্রুদের এ হাসাহাসি এবং খোঁটা দেওয়া অনেক সময় অত্যন্ত মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে তা থেকে বিশেষ ভাবে আশ্রয় প্রার্থনার জন্যে স্বতন্ত্রভাবে বলা হয়েছে-যদিও পূর্বের তিনটির মধ্যেও এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এ আদেশের তা'মিল এবং উক্ত চারটি ব্যাপার থেকে আশ্রয় প্রার্থনার যথার্থ শব্দমালা হবে এরূপঃ
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرْكَ الشَّقَاءِ وَسُوءِ القَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
"হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি বালা-মুসীবতের প্রাবল্য থেকে, ভাগ্য বিড়ম্বনায় পাওয়া থেকে, মন্দ তাকদীর থেকে এবং শত্রুর হাসাহাসি বা খোঁটা থেকে।"
এ চারটির প্রথমটি হচ্ছে جَهْدُ البَلاءِ (জাহদুল বালা)-কোন বালা-মুসীবতের প্রাবল্য। বালা হচ্ছে এমন প্রতিটি অবস্থা, যা মানুষের জন্য বিব্রতকর ও কষ্টদায়ক হয়ে থাকে এবং যাতে তার কঠিন পরীক্ষা হয়ে থকে। এটা দুনিয়াবীও হতে পারে আবার। তা দীনীও হতে পারে, ব্যক্তিগত পর্যায়েরও হতে পারে, আবার তা সমষ্টিগতও হতে পারে। মোদ্দা কথা, এই একটি মাত্র শব্দ সমস্ত বালা-মুসীবত ও আপদ-বিপদের ব্যাপারেই প্রযোজ্য। দ্বিতীয় যে বস্তুটি থেকে এ হাদীসে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তা হলো دَرْكُ الشَّقَاءِ বা ভাগ্য বিড়ম্বনায় পেয়ে যাওয়া। তৃতীয় ব্যাপার হচ্ছে سُوءُ القَضَاءِ বা মন্দ তকদীর। এ দুটি ব্যাপারে ব্যাপকতাও ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। যে বান্দা সর্বপ্রকার ভাগ্য বিড়ম্বনা ও মন্দ তকদীর থেকে আল্লাহ তা'আলার আশ্রয় ও হিফাযত লাভ করেছে, নিঃসন্দেহে সে সবকিছুই পেয়ে গিয়েছে। সর্বশেষে যে ব্যাপারটি থেকে এ দু'আতে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে, তা হচ্ছে شَمَاتَةُ الْأَعْدَاءِ বা শত্রুর উল্লাস অর্থাৎ কোন বিপদ বা ব্যর্থতা দেখে শত্রুদের হাসাহাসি। নিঃসন্দেহে শত্রুদের এ হাসাহাসি এবং খোঁটা দেওয়া অনেক সময় অত্যন্ত মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে তা থেকে বিশেষ ভাবে আশ্রয় প্রার্থনার জন্যে স্বতন্ত্রভাবে বলা হয়েছে-যদিও পূর্বের তিনটির মধ্যেও এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এ আদেশের তা'মিল এবং উক্ত চারটি ব্যাপার থেকে আশ্রয় প্রার্থনার যথার্থ শব্দমালা হবে এরূপঃ
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ وَدَرْكَ الشَّقَاءِ وَسُوءِ القَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
"হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি বালা-মুসীবতের প্রাবল্য থেকে, ভাগ্য বিড়ম্বনায় পাওয়া থেকে, মন্দ তাকদীর থেকে এবং শত্রুর হাসাহাসি বা খোঁটা থেকে।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)