আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৪৯- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল

হাদীস নং: ৩৪২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৮৯
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
২০৮৫. উমর ইবনে খাত্তাব আবু হাফস কুরাইশী-আদাবী (রাযিঃ)- এর ফযীলত ও মর্যাদা
৩৪২৪। ইয়াহয়া ইবনে কাযাআ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে অনেক মুহাদ্দাস (যার অন্তরে সত্য কথা অবতীর্ণ হয়) ব্যক্তি ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ মুহাদ্দাস হন তবে সে ব্যক্তি উমর।
যাকারিয়া (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কতিপয় লোক ছিলেন, যাঁরা নবী ছিলেন না বটে তবে ফিরিশতাগণ তাঁদের সাথে কথা বলতেন। আমার উম্মতে এমন কোন লোক হলে সে হবে উমর (রাযিঃ)। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) (কুরআনের আয়াতে) ولا محدث অতিরিক্ত বলেছেন।
كتاب المناقب
باب مَنَاقِبُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَبِي حَفْصٍ الْقُرَشِيِّ الْعَدَوِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
3689 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ مُحَدَّثُونَ، فَإِنْ يَكُ فِي أُمَّتِي أَحَدٌ، فَإِنَّهُ عُمَرُ»
زَادَ زَكَرِيَّاءُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَقَدْ كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ رِجَالٌ، يُكَلَّمُونَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونُوا أَنْبِيَاءَ، فَإِنْ يَكُنْ مِنْ أُمَّتِي مِنْهُمْ أَحَدٌ فَعُمَرُ» قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: «مِنْ نَبِيٍّ وَلاَ مُحَدَّثٍ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

'মুহাদ্দাস' আল্লাহ তা'আলার ঐ সব ভাগ্যবান বান্দাকে বলা হয়, যাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অধিক পরিমাণে ইলহাম ও অন্তর্নিক্ষিপ্ত বার্তা আসে এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ আচরণ ও ভাব থাকে। তবে তিনি নবী হন না; বরং কোন নবীর উম্মত হয়ে থাকেন।

হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম এই যে, পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন ধরনের লোক থাকতেন, আর আমার উম্মতের মধ্যে যদি কাউকে এ নেয়ামত দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি হচ্ছেন উমর রাযি.।

হাদীসের শব্দমালা দ্বারা কারো যেন ভুলবুঝাবুঝি না হয় যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয় ছিল। তাঁর উম্মত যেহেতু শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের চেয়ে উত্তম, তাই এ কথা স্পষ্ট যে, এ উম্মতের মধ্যেও এমন ভাগ্যবান বান্দা থাকবেন, যারা অধিক পরিমাণে ইলহাম দ্বারা ধন্য হবেন। হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী হচ্ছে এ ক্ষেত্রে হযরত উমর রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেওয়া। আর নিঃসন্দেহে এ নেয়ামতের বেলায় হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষত্ব অর্জিত ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)