আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ৬০৩
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
২৭১- লজ্জাশীলতা।
৬০৩. হযরত সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ) হযরত উসমান (রাযিঃ) ও হযরত আয়েশা (রাযিঃ)-এর প্রমুখাৎ বর্ণনা করেন যে, একদা হযরত আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাক্ষাত কামনা করিলেন। তখন তিনি আয়েশার চাদর পরিয়া আয়েশার বিছানায় শোয়া ছিলেন। তিনি এই অবস্থায় থাকিয়াই আবু বকরকে (কক্ষে) প্রবেশের অনুমতি দিলেন। হযরত আবু বকর (রাযিঃ) তাহার কাজ সমাধা করিয়া চলিয়া গেলেন। অতঃপর হযরত উমর (রাযিঃ) আসিয়া তাঁহার সম্মুখে হাযির হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করিলেন। তিনি তাঁহাকেও অনুমতি প্রদান করিলেন এবং নিজে পূর্বাবস্থায় শায়িতই রহিলেন। তিনি তাঁহার কাজ সমাধা করিয়া চলিয়া গেলেন। হযরত উসমান (রাযিঃ) বলেন : অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করিলাম। তিনি তখন উঠিয়া বসিলেন এবং হযরত আয়েশাকে বলিলেনঃ আয়েশা! তুমি তোমার কাপড়-চোপড়ও একটু গুছাইয়া লও! হযরত উসমান (রাযিঃ) বলেনঃ অতঃপর আমিও আমার কাজ সমাধা করিয়া প্রস্থান করিলাম। তখন আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি লক্ষ্য করিলাম, আবু বকর ও উমরের আগমনে আপনি ততটুকু সতর্ক হন নাই, যেমন হইয়াছেন উসমানের আগমনে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ উসমান হইতেছে অতিশয় লজ্জাশীল প্রকৃতির লোক, আমার আশংকা হইতেছিল যে যদি আমি তাহাকে উক্ত অবস্থায় ঘরে ঢুকিবার অনুমতি প্রদান করিতাম তবে তিনি তাহার কাজ সমাধা না করিয়াই ফিরিয়া যাইতেন।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ أَخْبَرَهُ، أَنَّ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ، حَدَّثَاهُ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِ عَائِشَةَ لاَبِسًا مِرْطَ عَائِشَةَ، فَأَذِنَ لأَبِي بَكْرٍ وَهُوَ كَذَلِكَ، فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ‏.‏ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذَلِكَ، فَقَضَى إِلَيْهِ حَاجَتَهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ‏.‏ قَالَ عُثْمَانُ‏:‏ ثُمَّ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ، فَجَلَسَ وَقَالَ لِعَائِشَةَ‏:‏ اجْمَعِي إِلَيْكِ ثِيَابَكِ، قَالَ‏:‏ فَقَضَيْتُ إِلَيْهِ حَاجَتِي، ثُمَّ انْصَرَفْتُ، قَالَ‏:‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، لَمْ أَرَكَ فَزِعْتَ لأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا كَمَا فَزِعْتَ لِعُثْمَانَ‏؟‏ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم‏:‏ إِنَّ عُثْمَانَ رَجُلٌ حَيِيٌّ، وَإِنِّي خَشِيتُ إِنْ أَذِنْتُ لَهُ، وَأَنَا عَلَى تِلْكَ الْحَالِ، أَنْ لاَ يَبْلُغَ إِلَيَّ فِي حَاجَتِهِ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, হযরত উসমান রাযি.-এর মধ্যে লাজুকতার কি পরিমাণ প্রাবল্য ছিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি কি পরিমাণ খেয়াল রাখতেন।

অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর প্রশ্নের উত্তরে হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: "ألا أستحي من رجل تستحي منه الملائكة" (আমি কি এমন ব্যক্তির লেহায করব না, ফিরিশতারাও যার লেহায করে।)

এখানে এ কথাটিও উল্লেখ করার মত যে, বাহ্যত এ ঘটনাটি ঐ যুগের, যখন হিজাব তথা পর্দার বিধান নাযিল হয়নি। কেননা, হযরত উমর রাযি.-ও হযরত আয়েশা রাযি.-এর জন্য গায়রে মাহরাম ছিলেন। তাঁর আগমনে হুযুর (ﷺ) হযরত আয়েশাকে আলাদাভাবে কাপড় গায়ে দেওয়ার হুকুম করেননি, হযরত উসমানের আগমনে যার হুকুম দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)