আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ৩১১
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
১৪৫- মু’মিন খোঁটা দিতে পারে না
৩১১। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, একদা কয়েকজন ইয়াহূদী নবী করীম (ﷺ)-এর খেদমতে আসিল। তাহারা আসিয়াই সম্ভাষণ করিল : আস্সামু আলায়কুম—“তোমার মৃত্যু হোক”! তখন হযরত আয়েশা (রাযিঃ) তাহাদের জবাবে বলিয়া উঠিলেন—ও আলাইকুম ও লা’আনাকুমুল্লাহ্ ও গাযিবুল্লাহু আলায়কুম—“এবং তোমাদের উপরও, আল্লাহ্ তোমাদিগকে অভিশপ্ত করুন ও গযবে নিঃপতিত করুন।” তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ ধীরে আয়েশা! নম্রতা অবলম্বন কর এবং কখনও অশ্লীল ও রুক্ষভাষা ব্যবহার করিও না । তখন আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আপনি কি শুনেন নাই তাহারা কি বলিল ? বলিলেনঃ তুমি কি শুননাই আমি কী বলিয়াছি ? আমি তো তাহাদের জবাব (ওয়া আলাইকুম বলিয়া) দিয়া দিয়াছি। তাহাদের ব্যাপারে আমার দুআ তো কবূল হইয়া যাইবে অথচ আমার ব্যাপারে তাহাদের বক্তব্য কবূল হইবে না।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
وَعَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ يَهُودًا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: السَّامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: وَعَلَيْكُمْ، وَلَعَنَكُمُ اللَّهُ، وَغَضِبُ اللَّهُ عَلَيْكُمْ، قَالَ: مَهْلاً يَا عَائِشَةُ، عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ، وَإِيَّاكِ وَالْعُنْفَ وَالْفُحْشَ، قَالَتْ: أَوَ لَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا؟ قَالَ: أَوَ لَمْ تَسْمَعِي مَا قُلْتُ؟ رَدَدْتُ عَلَيْهِمْ، فَيُسْتَجَابُ لِي فِيهِمْ، وَلاَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ فِيَّ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এসব ইয়াহূদী নবী করীম ﷺ-এর সাথে খুব অভদ্র ও নিন্দনীয় আচরণ করেছিল। তারা নবী করীম ﷺ-কে বলেছিল, তোমার মৃত্যু হোক। উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) তা বরদাশত করতে পারেননি এবং মন্দ বাক্যের জবাব মন্দ বাক্যের দ্বারা দিয়েছিলেন। নবী করীম ﷺ ইয়াহুদীদের অভদ্র আচরণে হয়ত অন্তরে ব্যথা পেয়েছিলেন এবং এরূপ ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি ব্যথিত অবস্থায়ও মন্দকে মন্দের দ্বারা প্রতিরোধ করতে পসন্দ করেননি। কারণ নবী করীম ﷺ-এর অভ্যাস হল ক্রোধকে দমন করা, মানুষের প্রতি সদয় থাকা এবং তাঁর শিক্ষা হল উত্তম তরীকার দ্বারা মন্দকে দূর করা। ওয়াযের চেয়ে আমল মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের উচিত, নবী করীম ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব নমুনা পেশ করা, যাতে আল্লাহর বান্দাগণ সহজে বুঝতে পারে যে, মুসলমানগণ আখেরী নবীর আদর্শের বাস্তব অনুসারী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)