আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী রহঃ

আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ

হাদীস নং: ১৫৮
আল-আদাবুল মুফরাদের পরিচ্ছেদসমূহ
৮২- সদ্ব্যবহার।
১৫৮. হযরত আলী (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ)-এর অস্তিম কথা ছিলঃ নামায। নামায। তােমাদের মালিকানাধীন দাসদাসীদের সম্পর্কে আল্লাহুকে ভয় করিবে।
أبواب الأدب المفرد للبخاري
بَابُ حُسْنِ الْمَلَكَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، عَنْ عَلِيٍّ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ‏:‏ كَانَ آخِرُ كَلاَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ الصَّلاَةَ، الصَّلاَةَ، اتَّقُوا اللَّهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ‏.‏

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এ দুনিয়া থেকে এবং আপন উম্মত থেকে চির বিদায়ের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মতকে বিশেষভাবে দু'টি বিষয়ের তাকীদ ও ওসিয়্যত করেছিলেন। একটি এই যে, নামাযের প্রতি যত্নবান থাকবে, এতে যেন উদাসীনতা ও ত্রুটি না হয়। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং বান্দার উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় হক। দ্বিতীয়টি এই যে, দাস-দাসীদের সাথে আচরণের সময় ঐ মহা প্রতাপশালী আল্লাহকে ভয় করবে, যার আদালতে সবাইকে হাযির হতে হবে এবং মযলুমকে যালেম থেকে বদলা দেওয়া হবে। দাস-দাসী ও অধীনস্থদের বেলায় এটা কত বড় মর্যাদার কথা যে, রহমতের নবী (ﷺ) এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সর্বশেষ বাক্য আল্লাহর হকের সাথে তাদের হক আদায় ও তাদের সাথে উত্তম আচরণের ওসিয়্যত করেছেন।

এ হাদীস অনুযায়ী হুযুর (ﷺ)-এর মুখ থেকে সর্বশেষ যে বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল و(اتقوا الله فيما) ملكت أيمانكم আর হযরত আয়েশা রাযি.-এর এক বর্ণনা দ্বারা যা বুখারী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে, জানা যায় যে, সর্বশেষ বাক্য যা হুযুর (ﷺ)-এর মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, সেটা ছিল «اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلَى» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মহান বন্ধু! হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ এ দু'টি হাদীসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় বিধান করেছেন যে, উম্মতকে সম্বোধন করে তিনি ওসিয়্যত হিসাবে শেষকথা তো সেটাই বলেছিলেন, যা হযরত আলী রাযি.-এর উপরের হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। আর এরপরে আল্লাহ তা'আলাকে সম্বোধন করে শেষ বাক্য ওটাই বলেছিলেন, যা হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান