আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
হাদীস নং: ৩৭২০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৭২০
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদ :
৩৭২০। ইউসুফ ইবনে মুসা কাত্তান বাগদাদী (রাহঃ)... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের পরস্পরে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। আলী তাঁর কাছে এলেন; চোখ বেয়ে তাঁর অশ্রু ঝরছিল। বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি সাহাবীদের পরস্পর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমার সঙ্গে কারো ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক করিয়ে দিলেন না।
তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম তাঁকে বললেনঃ দুনিয়া ও আখিরাতে তুমি আমারই ভাই।
তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম তাঁকে বললেনঃ দুনিয়া ও আখিরাতে তুমি আমারই ভাই।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى القَطَّانُ البَغْدَادِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ صَالِحِ بْنِ حَيٍّ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ جُمَيْعِ بْنِ عُمَيْرٍ التَّيْمِيِّ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: آخَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَصْحَابِهِ فَجَاءَ عَلِيٌّ تَدْمَعُ عَيْنَاهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ آخَيْتَ بَيْنَ أَصْحَابِكَ وَلَمْ تُؤَاخِ بَيْنِي وَبَيْنَ أَحَدٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنْتَ أَخِي فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ»: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ " وَفِي البَابِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أَوْفَى
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
হাদীসটি হাসান-গারীব।
এ বিষয়ে যায়দ ইব্ন আবূ আওফা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
এ বিষয়ে যায়দ ইব্ন আবূ আওফা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, এ আগমনকারী মুহাজিরগণ বিভিন্ন গোত্র ও বিভিন্ন স্থানের ছিলেন। তখন হুযুর (ﷺ) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন কায়েম করে দিলেন। অর্থাৎ, দু'জন সাহাবীর একটি জোড়া বানিয়ে তাদের একজনকে অপরজনের ভাই বানিয়ে দিলেন। যাতে একজন অপরজনের দুঃখ দরদে ও প্রয়োজনে আপন ভাইয়ের মত কাজে আসে এবং কেউ যেন একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা অনুভব না করে। যেমন, তিনি হযরত আবু দারদা আনসারী ও হযরত সালমান ফারসীকে একে অপরের ভাই বানিয়ে দিলেন- যাদের মধ্যে পূর্ব থেকে না কোন বংশীয় সম্পর্ক ছিল, না দেশীয় সম্পর্ক। অনুরূপভাবে তিনি নিজের সকল সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিলেন। আলী রাযি. কে কারো সাথে এ বন্ধনে আবদ্ধ করলেন না, তাই তিনি একাই থেকে গেলেন। এ কারণে তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে হুযুর (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং নিবেদন করলেন যে, আপনি আপনার সকল সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন কায়েম করে দিলেন, কিন্তু আমাকে কারো এবং কাউকে আমার ভাই বানালেন না। হুযুর (ﷺ) তখন বললেন: أنت أخي في الدنيا والآخرة (অর্থাৎ, তুমি হচ্ছ, আমার ভাই দুনিয়াতেও এবং আখেরাতেও।) একথা শুনে হযরত আলী রাযি. কতটুকু খুশী ও আনন্দিত হয়েছিলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বস্তুত হুযূর (ﷺ)-এর সাথে হযরত আলী রাযি. এর যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অর্জিত ছিল, এটা কেবল তারই অংশ ছিল। যেমন, সবারই জানা কথা যে, তিনি হুযুর (ﷺ)-এর আপন চাচাত ভাই ছিলেন এবং হুযুর (ﷺ)-এর দাওয়াতে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তাছাড়া তিনি হুযুর (ﷺ)-এর জামাতা হওয়ার সৌভাগ্য ও মর্যাদাও লাভ করেছিলেন। رضى الله عنه وأرضاه
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)