আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
হাদীস নং: ৩৬৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৬৫৭
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
আবু বাকর (রাযিঃ)-এর মর্যাদা ও গুণাবলী
৩৬৫৭। আহমাদ ইবন ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ)... আব্দুল্লাহ্ ইব্ন শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলামঃ সাহাবীগণের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন কে?
তিনি বললেনঃ আবু বাকর। আমি বললামঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ উমর।
আমি বললামঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ। আমি বললামঃ তারপর কে? তিনি চুপ করে রইলেন।
তিনি বললেনঃ আবু বাকর। আমি বললামঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ উমর।
আমি বললামঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ। আমি বললামঃ তারপর কে? তিনি চুপ করে রইলেন।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مناقب أبي بكر الصديق رضي الله عنه
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ الجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ: أَيُّ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ؟ قَالَتْ: «أَبُو بَكْرٍ»، قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَتْ: «عُمَرُ»، قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَتْ: «ثُمَّ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الجَرَّاحِ»، قُلْتُ: ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: فَسَكَتَتْ: «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ»
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
হাদীসটি হাসান-সাহীহ।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. অর্থাৎ, সাহাবাদের মধ্যে সাধারণত এই ধারণা পোষণ করা হইত যে, হযরত আবু বকর এবং ওমরের পর খেলাফতের জন্য সর্বাপেক্ষা যোগ্য ব্যক্তি হইলেন আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ্। এই জন্যই হযরত ওমর তাঁহার অন্তিমকালে বলিয়াছিলেন, আজ যদি আবু ওবায়দা জীবিত থাকিতেন, তবে আমি নির্দ্বিধায় তাহাকেই আমার স্থলবর্তী মনোনীত করিয়া যাইতাম।
২. উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভিমত, অনুরাগ ও সংকল্প সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলেন। তিনি হুযুর (ﷺ)-এর যে ব্যবহার হযরত আবু বকর, উমর ও আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযি.-এর সাথে দেখেছিলেন, এর ভিত্তিতে তিনি এ অভিমত পেশ করেছেন। বিশেষভাবে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ব্যাপারে তো হুযূর (ﷺ) এটা প্রকাশও করে দিয়েছিলেন। হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতার বর্ণনায় হযরত আয়েশা রাযি.-এরই বর্ণনা আছে যে, হুযুর (ﷺ) হযরত আয়েশাকে রোগের সূচনাতেই বলেছিলেন যে, তোমার পিতা হযরত আবু বকর এবং ভাই আব্দুর রহমানকে ডেকে নিয়ে আস। আমি আবু বকরের খেলাফতের ব্যাপারে ওসিয়্যতনামা লিখে দিয়ে যাব। তবে পরে তিনি এটা লিখানোর প্রয়োজন মনে করলেন না এবং নিজের এ বিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ করলেন যে يأبى الله والمؤمنون إلا أبا بكر অর্থাৎ আমার বিশ্বাস যে, আল্লাহ্ ও মু'মিনগণ আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করবেন না। তারপর হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. যেভাবে নিজের পরবর্তী সময়ের জন্য হযরত উমর রাযি.-কে নিজের পরবর্তী খলীফা নির্বাচন করলেন এবং যেভাবে তখনকার মুসলিম উম্মাহ এটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করে নিলেন, এর দ্বারাও হযরত উমর রাযি.-এর ব্যাপারে হযরত আয়েশা রাযি.-এর অভিমতের সত্যায়ন হয়ে গেল।
কানযুল উম্মালে মুসনাদে আহমদ ও ইবনে জারীর প্রমুখের বরাতে এ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, হযরত উমর রাযি. শামদেশ জয় করার পর যখন সেখানকার নেতৃবৃন্দের অনুরোধে শামের দিকে রওয়ানা হলেন এবং 'সারাগ' নামক স্থানে পৌছলেন, তখন তাঁকে বলা হল যে, বর্তমানে শামদেশে প্রচণ্ড আকারে মহামারী দেখা দিয়েছে আর প্রচুর লোক মৃত্যু গ্রাসের শিকার হচ্ছে। এ সংবাদ প্রদানকারীদের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, আপনি এ মুহূর্তে শাম যাবেন না। কিন্তু তিনি শামের দিকে সফর অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তখন এ কথাও বললেন:
إِنْ أَدْرَكَنِي أَجَلِي وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ حَيٌّ اسْتَخْلَفْتُهُ فَإِنْ سَأَلَنِي اللَّهُ لِمَ اسْتَخْلَفْتَهُ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ أَمِينًا وَأَمِينِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاح
(অর্থাৎ, আমার যদি মৃত্যু এসে যায়, আর আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ তখন জীবিত থাকে, তাহলে আমি তাঁকে খলীফা নির্বাচন করে যাব। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, আবু উবায়দাকে কেন খলীফা নির্বাচন করলে, তাহলে আমি উত্তর দিব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আমি বলতে শুনেছি, প্রত্যেক নবীর একজন অতিবিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর আমার অতি বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ।) (কানযুল উম্মাল) কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা ও ইচ্ছা অনুযায়ী হযরত উমর রাযি. তো শাম থেকে সহীহ সালামতে ফিরে আসলেন, আর হযরত আবু উবায়দা প্লেগে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন। وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَّقْدُورًا
কানযুল উম্মালেরই অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত উমর রাযি. বলেছিলেন,
لو أدركت أبا عبيدة بن الجراح لاستخلفته وما شاورت، فإن سئلت عنه قلت: استخلفت أمين الله وأمين رسوله.
অর্থাৎ, আমি যদি আবু উবায়দাকে পাই, তাহলে কারো সাথে পরামর্শ করা ছাড়াই তাঁকে খলীফা নির্বাচন করে যাব। তারপর যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাঁকে কেন খলীফা নির্বাচন করলেন? তাহলে আমি উত্তর দিব যে, আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট আমীন হিসাবে স্বীকৃত লোকটিকেই আমি খলীফা নির্বাচন করেছি।
সম্ভবত এ কথাটি তিনি তখন বলেছিলেন, যখন চরম কমবখত আবু লুলু মাজুসী নামাযের মধ্যে ছুরিকাঘাতে তাঁকে এমন জখম করল যে, এরপর আর বেঁচে থাকার আশা রইল না এবং পরবর্তী সময়ের জন্য খলীফা নির্বাচন করার অথবা না করার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিল।
বস্তুতঃ হযরত উমর রাযি.-এর এসব বক্তব্য দ্বারাও উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ ধারার পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি নিজের পরবর্তী সময়ের জন্য খলীফা নির্বাচন করতেন, তাহলে প্রথম নাম্বারে হযরত আবু বকর সিদ্দীক, দ্বিতীয় নাম্বারে হযরত উমর এবং এরপর হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহকে খলীফা ঘোষণা করে যেতেন। নিঃসন্দেহে হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহের এ মর্যাদা ও স্থানই ছিল। رضي الله عنه وأرضاه
২. উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভিমত, অনুরাগ ও সংকল্প সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলেন। তিনি হুযুর (ﷺ)-এর যে ব্যবহার হযরত আবু বকর, উমর ও আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাযি.-এর সাথে দেখেছিলেন, এর ভিত্তিতে তিনি এ অভিমত পেশ করেছেন। বিশেষভাবে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ব্যাপারে তো হুযূর (ﷺ) এটা প্রকাশও করে দিয়েছিলেন। হুযুর (ﷺ)-এর ওফাতকালীন অসুস্থতার বর্ণনায় হযরত আয়েশা রাযি.-এরই বর্ণনা আছে যে, হুযুর (ﷺ) হযরত আয়েশাকে রোগের সূচনাতেই বলেছিলেন যে, তোমার পিতা হযরত আবু বকর এবং ভাই আব্দুর রহমানকে ডেকে নিয়ে আস। আমি আবু বকরের খেলাফতের ব্যাপারে ওসিয়্যতনামা লিখে দিয়ে যাব। তবে পরে তিনি এটা লিখানোর প্রয়োজন মনে করলেন না এবং নিজের এ বিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ করলেন যে يأبى الله والمؤمنون إلا أبا بكر অর্থাৎ আমার বিশ্বাস যে, আল্লাহ্ ও মু'মিনগণ আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করবেন না। তারপর হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. যেভাবে নিজের পরবর্তী সময়ের জন্য হযরত উমর রাযি.-কে নিজের পরবর্তী খলীফা নির্বাচন করলেন এবং যেভাবে তখনকার মুসলিম উম্মাহ এটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করে নিলেন, এর দ্বারাও হযরত উমর রাযি.-এর ব্যাপারে হযরত আয়েশা রাযি.-এর অভিমতের সত্যায়ন হয়ে গেল।
কানযুল উম্মালে মুসনাদে আহমদ ও ইবনে জারীর প্রমুখের বরাতে এ ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যে, হযরত উমর রাযি. শামদেশ জয় করার পর যখন সেখানকার নেতৃবৃন্দের অনুরোধে শামের দিকে রওয়ানা হলেন এবং 'সারাগ' নামক স্থানে পৌছলেন, তখন তাঁকে বলা হল যে, বর্তমানে শামদেশে প্রচণ্ড আকারে মহামারী দেখা দিয়েছে আর প্রচুর লোক মৃত্যু গ্রাসের শিকার হচ্ছে। এ সংবাদ প্রদানকারীদের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, আপনি এ মুহূর্তে শাম যাবেন না। কিন্তু তিনি শামের দিকে সফর অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তখন এ কথাও বললেন:
إِنْ أَدْرَكَنِي أَجَلِي وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ حَيٌّ اسْتَخْلَفْتُهُ فَإِنْ سَأَلَنِي اللَّهُ لِمَ اسْتَخْلَفْتَهُ عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ أَمِينًا وَأَمِينِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاح
(অর্থাৎ, আমার যদি মৃত্যু এসে যায়, আর আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ তখন জীবিত থাকে, তাহলে আমি তাঁকে খলীফা নির্বাচন করে যাব। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন যে, আবু উবায়দাকে কেন খলীফা নির্বাচন করলে, তাহলে আমি উত্তর দিব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আমি বলতে শুনেছি, প্রত্যেক নবীর একজন অতিবিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর আমার অতি বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ।) (কানযুল উম্মাল) কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা ও ইচ্ছা অনুযায়ী হযরত উমর রাযি. তো শাম থেকে সহীহ সালামতে ফিরে আসলেন, আর হযরত আবু উবায়দা প্লেগে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন। وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَّقْدُورًا
কানযুল উম্মালেরই অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত উমর রাযি. বলেছিলেন,
لو أدركت أبا عبيدة بن الجراح لاستخلفته وما شاورت، فإن سئلت عنه قلت: استخلفت أمين الله وأمين رسوله.
অর্থাৎ, আমি যদি আবু উবায়দাকে পাই, তাহলে কারো সাথে পরামর্শ করা ছাড়াই তাঁকে খলীফা নির্বাচন করে যাব। তারপর যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাঁকে কেন খলীফা নির্বাচন করলেন? তাহলে আমি উত্তর দিব যে, আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট আমীন হিসাবে স্বীকৃত লোকটিকেই আমি খলীফা নির্বাচন করেছি।
সম্ভবত এ কথাটি তিনি তখন বলেছিলেন, যখন চরম কমবখত আবু লুলু মাজুসী নামাযের মধ্যে ছুরিকাঘাতে তাঁকে এমন জখম করল যে, এরপর আর বেঁচে থাকার আশা রইল না এবং পরবর্তী সময়ের জন্য খলীফা নির্বাচন করার অথবা না করার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিল।
বস্তুতঃ হযরত উমর রাযি.-এর এসব বক্তব্য দ্বারাও উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ ধারার পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি নিজের পরবর্তী সময়ের জন্য খলীফা নির্বাচন করতেন, তাহলে প্রথম নাম্বারে হযরত আবু বকর সিদ্দীক, দ্বিতীয় নাম্বারে হযরত উমর এবং এরপর হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহকে খলীফা ঘোষণা করে যেতেন। নিঃসন্দেহে হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহের এ মর্যাদা ও স্থানই ছিল। رضي الله عنه وأرضاه
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)