আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
হাদীস নং: ৩৫৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৫৬৮
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
নবী (ﷺ)-এর দুআ এবং প্রত্যেক নামাযের শেষে তাঁর তাআওউয পাঠ
৩৫৬৮. আহামাদ ইবনে হাসান (রাহঃ) ...... আয়িশা বিনতে সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস তৎপিতা সা’দ ইবনে আবু ওয়ক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এক মহিলার কাছে গেলেন। উক্ত মহিলার সামনে তখন কিছু খেজুর-বীচি ছিল। এগুলো দিয়ে তিনি তাসবীহ পাঠ করছিলেন। নবীজী (ﷺ) তাকে বললেনঃ এর চেয়ে সহজ ও উত্তম উপায় সম্পর্কে কি তোমাকে অবহিত করব? (তা হলঃ)
سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ
(আবু ঈসা বলেন) সা’দ (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব।
سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ
(আবু ঈসা বলেন) সা’দ (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب فِي دُعَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَتَعَوُّذِهِ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ خُزَيْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ قَالَ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ " . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سَعْدٍ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল যে, অধিক যিকির এর দ্বারা যেমন অধিক ছওয়াব হাসিল করা যায়, তেমনি তার একটি সহজ তরীকা বা পন্থা হলো তার সাথে এমন শব্দসমূহ জুড়ে দেয়া, যার দ্বারা সংখ্যার আধিক্য বুঝায়। যেমনটা উপরোক্ত হাদীসে রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন।
এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।
হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত হাদীসের দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবী করীম ﷺ-এর যুগে তসবীহ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল না ঠিক, তবে এ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ খেজুর বীচি বা পাথর কণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁদেরকে তা করতে বারণ করেননি। বলাবাহুল্য, তাসবীহ এবং এ পন্থার মধ্যে কোনই প্রভেদ নেই। বরং তাসবীহ তারই উন্নততর সংস্করণ। যারা তাসবীহকে বেদ'আত বলে অভিহিত করেছেন, তাঁরা আসলে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেছেন।
এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।
হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত সা'দ ইব্ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত হাদীসের দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবী করীম ﷺ-এর যুগে তসবীহ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল না ঠিক, তবে এ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ খেজুর বীচি বা পাথর কণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁদেরকে তা করতে বারণ করেননি। বলাবাহুল্য, তাসবীহ এবং এ পন্থার মধ্যে কোনই প্রভেদ নেই। বরং তাসবীহ তারই উন্নততর সংস্করণ। যারা তাসবীহকে বেদ'আত বলে অভিহিত করেছেন, তাঁরা আসলে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)