আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির

হাদীস নং: ৩৫৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৫৪৪
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
আল্লাহ তাআলা একশত রহমত সৃষ্টি করেছেন
৩৫৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে আবু ছালজ (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন নবী (ﷺ) মসজিদে এসে প্রবেশ করলেন। তখন সেখানে এক ব্যক্তি নামায শেষ করে দুআ করছিল। সে তার দুআয় বলছিলঃ

اللَّهُمَّ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

″হে আল্লাহ! আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই। তুমিই তো অনুগ্রহদাতা। আকাশমন্ডলির ও পৃথিবীর উপমাহীন সৃষ্টিকর্তা, প্রতাপশালী ও মর্যাদাবান।″

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান, সে কিসের ওসীলায় দুআ করেছে? এতো আল্লাহ তাআলার ইসমে আযমের মাধ্যমে দুআ করেছে। এর ওসীলায় দুআ করলে অবশ্যই তা কবুল করা হয়, যাচঞা করা হলে অবশ্যই প্রদান করা হয়।ইবনে মাজাহ

হাদীসটি এই সূত্রে গারীব। এই হাদীসটি অন্য সূত্রেও আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب خَلْقِ اللَّهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الثَّلْجِ، - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَغْدَادَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ صَاحِبُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَرْبِيٍّ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، وَثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ وَرَجُلٌ قَدْ صَلَّى وَهُوَ يَدْعُو وَيَقُولُ فِي دُعَائِهِ اللَّهُمَّ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَدْرُونَ بِمَ دَعَا اللَّهَ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ أَنَسٍ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বিভিন্ন হাদীস গভীর মনোনিবেশ সহকারে পাঠ করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তা'আলার বিশেষ কোন নামকে ইসমে আ'যম বলা হয়নি; বরং এ কথাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত মনে হয় যে, আল্লাহর বিভিন্ন নাম যে বিশেষ ভঙ্গিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে তাঁর যে ব্যাপক মর্ম বুঝে আসে, তাকেই ইসমে আ'যম বলে অভিহিত করা হয়েছে।

হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ্ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ)-কে আল্লাহ তা'আলা এ জাতীয় ইলম ও মা'রিফত বিশেষ দান করেছেন। তিনি এসব হাদীস পাঠে এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন।১ আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

টিকা ১. শাহ সাহেব হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় বলেনঃ (পৃ ৭৭, জিলদ ২)

اعلم أن الاسم الاعظم الذي اذا سئل به اعطى واذا دعي به أجاب هو الاسم الذي يدل على اجمع تدل من تدليات الحق والذى تداوله الملأ الأعلى اكثر تداول ونطقت به التراجمة في كل عصر وهذا معنى يصدق على انت اللّٰه لا اله الا انت الاحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد وعلى لك الحمد لا اله الا انت الحنان المنان بديع السموات والارض يا ذا الجلال والإكرام يا حي يا قيوم ويصدق على اسماء تضاهي ذلك (حجة اللّٰه البالغة ص ٧٧ جلد (٦)

স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসমে আ'যম এমন নাম, যে নামের সাহায্যে যাচ্ঞা করা হলে দেয়া হয়, দু'আ করা হলে তা কবুল হয়। তা এমন নাম যা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে ব্যাপক উপায় বুঝায় এবং ঊর্ধ্ব মন্ডলে এ নামকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় এবং সকল যুগে (অদৃশ্য লোকের) বার্তা বাহকরা তা উচ্চারণ করে এসেছে।
أنْتَ اللّٰهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
-তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি একক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি এবং কেউ তাঁর সমকক্ষও নেই-এ অর্থ ইসমে আযম সম্পর্কে প্রযোজ্য হয়।
لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
সমস্ত প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই তো হান্নান, মান্নান, তুমিই দয়াময় ও অনুগ্রহশীল, আসমান-যমীনের সৃষ্টিকর্তা, হে জালাল ও ইকরামের অধিকারী, হে হাই ও কাইয়্যুম হে চিরঞ্জীব ও সবকিছুর রক্ষক। এ সব নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও আসমাউল হুসনা প্রযোজ্য। -(হুজ্জাতুল্লাহ আল-বালিগাহ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৭)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান