আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির

হাদীস নং: ৩৪৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৬৮
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
৩৪৬৮. ইসহাক ইবনে মুসা আনসারী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি
(لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) -
এই কালিমা দিনে একশবার পাঠ করে তবে দশজন গোলাম স্বাধীন করার সাওয়াব তার হবে এবং তার জন্য ১০০ নেকী লেখা হবে ১০০ গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে আর ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য শয়তান থেকে রক্ষার একটি উপায় বলে গণ্য হবে। যে ব্যক্তি এই আমলটি সবচেয়ে বেশী করেছে সে ব্যতীত আর কোন ব্যক্তি তদপেক্ষা অধিক ফযীলত সম্পন্ন আমলের অধিকারী হবে না।

বুখারি ও মুসলিম

এই সনদেই নবী (ﷺ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ কেউ যদি একশবার ″সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী″ পাঠ করে তবে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা অপেক্ষা বেশী হলেও তা মাফ করে দেওয়া হবে।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عِدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلاَّ أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ " .
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নিঃসন্দেহে কালিমায়ে তাওহীদ-যাতে কলিমায়ে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাথে এমন কিছু শব্দের সংযোজন আছে যদ্বারা তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক বক্তব্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হয়ে যায়- তা এতই মাহাত্ম্যপূর্ণ ও বরকতময়, যা এ হাদীসখানাতে উক্ত হয়েছে। মৃত্যুর পর ইনশাআল্লাহ তা আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ করবো। যে সমস্ত হাদীসে কোন কালিমার এতবড় বড় ছওয়াবের কথা আছে, সেগুলো নিয়ে কারো কারো মনে সংশয়-সন্দেহের উদ্রেক হয়ে থাকে। অথচ তারা নিজেরাই হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন বা তাদের অভিজ্ঞতায় তা থাকতে পারে যে, অমঙ্গল ও ফ্যাসাদের এক একটি উক্তি অনেক সময় এমনি আগুন লাগিয়ে দেয় এবং তার অশুভপ্রভাব বছরের পর বছর ধরে কত পরিবার ও কত সম্প্রদায়ের জীবনকে দুর্বিষহ করে রাখে। অনুরূপভাবে কোন কোন সদিচ্ছা নিয়ে বলা কোন কোন সদুক্তি ফ্যাসাদের লেলিহান অগ্নিশিখা নির্বাপণে ঠাণ্ডা পানির মত কাজ করে থাকে। ফলে অশান্তি ও তিক্ততায়পূর্ণ বিষাদময় জীবনকে শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে পূর্ণ করে দেয়। এ দুনিয়ায় মানুষের মুখ নিঃসৃত আয় এর সুদূর প্রসার প্রভাব সম্পর্কে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে পারলৌকিক ক্ষেত্রে তার চাইতে সুদূর প্রসারী ফলদায়ক বাণীর প্রভাব উপলব্ধি করা আর তেমন কঠিন থাকে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)