আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
হাদীস নং: ৩৪৪০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৪০
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাবতীয় দোয়া-জিকির
সফর থেকে ফিরে এসে কী দুআ পড়বে
৩৪৪০. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন কোন সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন বলতেনঃ
آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
আমরা প্রত্যাবর্তনকারী,আমরা তওবকরী,আমরা ইবাদতকারী,আমরা আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী।
আবু দাউদ,
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ছাওরী (রাহঃ) এ হাদীসটি আবু ইসহাক-বারা সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তিনি রাবী ইবনে বারা (রাহঃ) এর উল্লেখ করেন নি। শু’বা (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটি আধিক সহীহ।
এ বিষয়ে ইবনে উমর, আনাস (রাযিঃ) ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ
আমরা প্রত্যাবর্তনকারী,আমরা তওবকরী,আমরা ইবাদতকারী,আমরা আমাদের প্রভুর প্রশংসাকারী।
আবু দাউদ,
হাদীসটি হাসান-সহীহ। ছাওরী (রাহঃ) এ হাদীসটি আবু ইসহাক-বারা সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তিনি রাবী ইবনে বারা (রাহঃ) এর উল্লেখ করেন নি। শু’বা (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটি আধিক সহীহ।
এ বিষয়ে ইবনে উমর, আনাস (রাযিঃ) ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
أبواب الدعوات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا يَقُولُ إِذَا قَدِمَ مِنَ السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الرَّبِيعَ بْنَ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ قَالَ " آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى الثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ الْبَرَاءِ وَرِوَايَةُ شُعْبَةَ أَصَحُّ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
দু'আটিতে রয়েছে আল্লাহ তা'আলার প্রতি বান্দার অভিমুখিতা ও তাঁর প্রতি তার আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ। সুতরাং বলা হয়েছে- آيِبونَ (আমরা প্রত্যাবর্তনকারী)। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার দয়া-অনুগ্রহেই আমরা সফর থেকে আপন ঠিকানায় ফিরে আসতে পেরেছি। আর আমরা যখন যেখানে যে অবস্থায়ই থাকি না কেন, সর্বাবস্থায় আমাদের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে। আমরা শরীর ও মনে তাঁরই অভিমুখী।
تَائِبُونَ (আমরা তাওবাকারী)। এ সফরকালে হয়তো আমাদের দ্বারা কোনও অন্যায়-অনুচিত কাজ হয়ে গেছে। সেজন্য আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে তাওবা করছি। আমরা তাওবা করছি আমাদের বিগত জীবনের যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ থেকে। 'তাওবা'-এর আক্ষরিক অর্থ ফিরে আসা, আল্লাহর পথে ফিরে আসা। পাপকর্ম দ্বারা বান্দা আল্লাহর পথ হারিয়ে ফেলে, শয়তানের পথে চলে যায়। তারপর যখন তার চেতনা ফিরে আসে, তখন অনুতপ্ত হয়ে সে পথ পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহ তা'আলার সরল-সঠিক পথে ফিরে আসে। এ ফিরে আসাটাই তাওবা। তো আমরা তাওবাকারী মানে আমরা সকল ভুল-ভ্রান্ত পথ পরিত্যাগ করে আল্লাহ তা'আলার সত্য-সরল পথে প্রত্যাবর্তনকারী।
عَابِدُونَ سَاجِدُونَ (আমরা ইবাদতকারী। আমরা সিজদাকারী)। অর্থাৎ আমরা আনুগত্যের পরম নিদর্শনরূপে তাঁর সামনে মাটিতে মাথা রাখি। আমরা ঘরে থাকি বা বাইরে, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার ইবাদতকারীই। তাঁর ইবাদত করার জন্যই আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটাই আমাদের জীবনের আসল কাজ। তাই বাড়িতে থাকি বা সফরে, কখনওই আমাদের এ আসল কাজ থেকে বিমুখ হওয়া চলে না। সুতরাং আমরা ইবাদতকারীরূপেই বাঁচতে চাই এবং ইবাদতকারীরূপেই মৃত্যুবরণ করতে চাই। আমাদের জীবন ও মরণ আল্লাহরই জন্য। এভাবে এ কথাটি যেন জীবনভর আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে রত থাকা ও যত বেশি সম্ভব সিজদা করতে থাকার এক প্রতিশ্রুতি।
لِرَبَّنَا حَامِدُونَ (আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী)। অর্থাৎ এই যে সফরের কার্যাবলি সমাপ্ত করে আমরা বাড়িতে ফেরার জন্য রওয়ানা করছি, এটা আল্লাহ তা'আলারই অনুগ্রহ। এজন্য আমরা তাঁর শোকর আদায় করছি। তাছাড়া সফরে থাকি বা বাড়িতে, আমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নি'আমত ও অনুগ্রহ ভোগ করে থাকি। সেজন্য আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই শোকর আদায় করি।
হাদীছ থেকে শিক্ষণীয়:
ক. নিজ ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য যত বেশি সম্ভব তাওবা-ইস্তিগফার করা উচিত।
খ. আমাদেরকে অবশ্যই জীবনভর আল্লাহ তা'আলার ইবাদত-বন্দেগীতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।
গ. আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহের জন্য সর্বদা শোকরগুযার থাকা উচিত।
ঘ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিশেষ সাহায্য ও অনুগ্রহ আমাদের জন্যও বিরাট নি'আমত। তাই জীবনভর তা স্মরণ করা এবং সেজন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা একান্ত কর্তব্য।
تَائِبُونَ (আমরা তাওবাকারী)। এ সফরকালে হয়তো আমাদের দ্বারা কোনও অন্যায়-অনুচিত কাজ হয়ে গেছে। সেজন্য আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে তাওবা করছি। আমরা তাওবা করছি আমাদের বিগত জীবনের যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ থেকে। 'তাওবা'-এর আক্ষরিক অর্থ ফিরে আসা, আল্লাহর পথে ফিরে আসা। পাপকর্ম দ্বারা বান্দা আল্লাহর পথ হারিয়ে ফেলে, শয়তানের পথে চলে যায়। তারপর যখন তার চেতনা ফিরে আসে, তখন অনুতপ্ত হয়ে সে পথ পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহ তা'আলার সরল-সঠিক পথে ফিরে আসে। এ ফিরে আসাটাই তাওবা। তো আমরা তাওবাকারী মানে আমরা সকল ভুল-ভ্রান্ত পথ পরিত্যাগ করে আল্লাহ তা'আলার সত্য-সরল পথে প্রত্যাবর্তনকারী।
عَابِدُونَ سَاجِدُونَ (আমরা ইবাদতকারী। আমরা সিজদাকারী)। অর্থাৎ আমরা আনুগত্যের পরম নিদর্শনরূপে তাঁর সামনে মাটিতে মাথা রাখি। আমরা ঘরে থাকি বা বাইরে, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার ইবাদতকারীই। তাঁর ইবাদত করার জন্যই আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটাই আমাদের জীবনের আসল কাজ। তাই বাড়িতে থাকি বা সফরে, কখনওই আমাদের এ আসল কাজ থেকে বিমুখ হওয়া চলে না। সুতরাং আমরা ইবাদতকারীরূপেই বাঁচতে চাই এবং ইবাদতকারীরূপেই মৃত্যুবরণ করতে চাই। আমাদের জীবন ও মরণ আল্লাহরই জন্য। এভাবে এ কথাটি যেন জীবনভর আল্লাহ তা'আলার ইবাদতে রত থাকা ও যত বেশি সম্ভব সিজদা করতে থাকার এক প্রতিশ্রুতি।
لِرَبَّنَا حَامِدُونَ (আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী)। অর্থাৎ এই যে সফরের কার্যাবলি সমাপ্ত করে আমরা বাড়িতে ফেরার জন্য রওয়ানা করছি, এটা আল্লাহ তা'আলারই অনুগ্রহ। এজন্য আমরা তাঁর শোকর আদায় করছি। তাছাড়া সফরে থাকি বা বাড়িতে, আমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নি'আমত ও অনুগ্রহ ভোগ করে থাকি। সেজন্য আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই শোকর আদায় করি।
হাদীছ থেকে শিক্ষণীয়:
ক. নিজ ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য যত বেশি সম্ভব তাওবা-ইস্তিগফার করা উচিত।
খ. আমাদেরকে অবশ্যই জীবনভর আল্লাহ তা'আলার ইবাদত-বন্দেগীতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।
গ. আল্লাহ তা'আলার নি'আমতসমূহের জন্য সর্বদা শোকরগুযার থাকা উচিত।
ঘ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিশেষ সাহায্য ও অনুগ্রহ আমাদের জন্যও বিরাট নি'আমত। তাই জীবনভর তা স্মরণ করা এবং সেজন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা একান্ত কর্তব্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)