আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৬. কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৩২৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৯৭
কুরআনের তাফসীর অধ্যায়
সূরা আল-ওয়াকি’আ
৩২৯৭. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রাযিঃ) একদিন বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বললেনঃ আমাকে হুদ, ওয়াকি’আ, মুরসালাত, আম্মা-ইয়াতাসা আলুন- এবং ইযাশ-শামসু কুওবিরাত-এই সূরাগুলো বৃদ্ধ করে ফেলেছে।
أبواب تفسير القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ: وَمِنْ سُورَةِ الوَاقِعَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ . قَالَ " شَيَّبَتْنِي هُودٌ وَالْوَاقِعَةُ وَالْمُرْسَلاَتُ وَ عمَّ يَتَسَاءَلُونَ وَإذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَرَوَى عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ نَحْوَ هَذَا . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ شَيْءٌ مِنْ هَذَا مُرْسَلاً .
وَرَوَى أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ شَيْبَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ الْهَرَوِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ .
وَرَوَى أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ شَيْبَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَاشِمُ بْنُ الْوَلِيدِ الْهَرَوِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়া ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর রিওয়ায়াত হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানানেই। আলী ইবনে আবি সালিহ (রাহঃ) এ হাদীসটি আবু ইসহাক ... আবু জুহাইফা (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ইসহাক ... আবু মায়সারা (রাহঃ) সুত্রেও মুরসাল রূপে এরূপ কিছু বিষয় বর্ণিত আছে।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবী করীম ﷺ প্রকৃতিগতভাবে উৎকৃষ্ট স্বাস্থ্য ও শারীরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন। বার্ধক্যের প্রভাব তাঁর শরীরে ও স্বাস্থ্যের উপর বিলম্বে প্রকাশ পাওয়া খুব স্বাভাবিক ছিল। কুরআনের উপরোল্লিখিত সূরাসমূহে আখিরাত ও আখিরাতে অবিশ্বাসীদের শাস্তির বিবরণ রয়েছে। এসব সূরা নবী করীম ﷺ-এর শরীরের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এসব সূরার অধ্যয়ন তাঁর মনে প্রবল আল্লাহ-ভীতির সৃষ্টি করত। যেহেতু মানুষের মনের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক রয়েছে, তাই তাঁর মানসিক অবস্থা তাঁর শরীরের উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এই হাদীস থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর ভয় ও পরকালের চিন্তায় নবী করীম ﷺ-এর মনের অবস্থা কিরূপ ছিল। বস্তুত ভয় ও চিন্তা মানুষকে দ্রুত বৃদ্ধ করে ফেলে। পবিত্র কুরআনেও একথা বলা হয়েছে যে, "কিয়ামতের দিন শিশুদের বৃদ্ধ করে ফেলবে।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)