আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৬- তায়াম্মুমের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৪
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
২৩৩। তায়াম্মুমের অধ্যায়।
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا، فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]
এবং তোমরা পানি না পেলে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে এবং তা তোমরা তোমাদের মুখ ও হাতে বুলাবে (৫ঃ৬)।
৩২৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কোন এক সফরে বেরিয়েছিলাম। যখন আমরা ‘বায়যা’ অথবা ‘যাতুল জায়শ’ নামক স্থানে পৌছলাম তখন আমার একখানা হার হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে হারের খোঁজে থেমে গেলেন আর লোকেরাও তাঁর সঙ্গে থেমে গেলেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে ছিলেন না। তখন লোকেরা আবু বকর (রাযিঃ) এর কাছে এসে বললেনঃ আয়িশা কি করেছে আপনি কি দেখেন নি? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে নেই এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই।
আবু বকর (রাযিঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। তারপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন।
উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) বলেছেনঃ হে আবু বকরের পরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাঁড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নীচে পড়ে আছে।
كتاب التيمم
كِتَابُ التَّيَمُّمِ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا، فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]
334 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ القَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ بِذَاتِ الجَيْشِ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي، فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التِمَاسِهِ، وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، فَقَالُوا: أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ؟ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسِ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ، فَقَالَ: حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسَ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَجَعَلَ يَطْعُنُنِي بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي، فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلَّا مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى فَخِذِي، «فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا» ، فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ الحُضَيْرِ: مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: فَبَعَثْنَا البَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ، فَأَصَبْنَا العِقْدَ تَحْتَهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত হাদীসে যে তায়াম্মুমের আয়াত সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তা সম্ভবত সূরা নিসার নিম্নোক্ত আয়াত:
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
"তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী-সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা মুখ ও হাতে মাসেহ করবে। আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।" (৪, সূরা নিসাঃ ৪৩)
সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ সূরা মায়িদার দ্বিতীয় রুকুতেও অনুরূপ আয়াত রয়েছে। কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, পূর্বোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ তাফসীরকারদের মতে সূরা নিসায় বর্ণিত আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)