আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৪. কুরআনে কারীমের ফযীলত ও আদব

হাদীস নং: ২৯১০
আন্তর্জাতিক নং: ২৯১০
কুরআনে কারীমের ফযীলত ও আদব
যে কুরআনের একটি হরফ পড়বে তার সাওয়াব কী হবে।
২৯১০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করবে তার নেকী হবে। আর নেকী হয় দশ গুণ হিসাবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম মিলে একটি হয়ফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, এবং মীম আরেকটি হরফ।

হাদীসটি এই সূত্রে হাসান সহীহ-গারীব। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমার কাছে তথ্য আছে যে, নবী (ﷺ) এর জীবদ্দশাতেই মুহাম্মাদ ইবনে কুরাযী (রাহঃ) এর জন্ম হয়েছে।

এই হাদীসটি অন্যভাবেও ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে। আবুল আহওয়াস (রাহঃ) এটি আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে কোন কোন রাবী এটি মারফূ’রূপে রিওয়ায়াত করেছেন আর কোন কোন রাবী মাউকুফ রূপে রিওয়ায়াত করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব কুরাযী (রাহঃ) এর কুনিয়ত হল আবু হামযা।
أبواب فضائل القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِيمَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنَ القُرْآنِ مَالَهُ مِنَ الأَجْرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ " . وَيُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَرَوَاهُ أَبُو الأَحْوَصِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَفَعَهُ بَعْضُهُمْ وَوَقَفَهُ بَعْضُهُمْ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ بَلَغَنِي أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ كَعْبٍ الْقُرَظِيَّ وُلِدَ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ يُكْنَى أَبَا حَمْزَةَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ্ তা'আলার এ অনুগ্রহমূলক বিধানটি যে একটি নেকীর কাজের উপর দশটি নেকীর সমান সওয়াব দান করা হবে, কুরআন মজীদেও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আন'আমে বলা হয়েছে: من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها অর্থাৎ, যে ব্যক্তি একটি নেকীর কাজ করবে, তাকে এমন দশটি নেকীর সওয়াব দান করা হবে।

উপরের হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ উম্মতকে এ সুসংবাদ শুনিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করবে, তার প্রতিটি অক্ষরের তেলাওয়াত একটি নেকী হিসাবে গণ্য হবে, যা প্রতিদানের দিক দিয়ে দশটি নেকীর সমান হবে। এ হাদীসেরই বায়হাকীর এক রেওয়ায়তে রয়েছে যে, হুযুর ﷺ বলেছেন: আমি বলছি না যে, "বিসমিল্লাহ" একটি অক্ষর; বরং 'বা একটি অক্ষর, 'সীন' একটি অক্ষর ও 'মীম' একটি অক্ষর। আর আমি একথাও বলছি না যে, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর; বরং 'আলিফ' একটি অক্ষর, 'লাম' একটি অক্ষর ও 'মীম' একটি অক্ষর। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে ইয়াকীন ও বিশ্বাসের দৌলত দান করুন। এ আয়াতে আল্লাহর পাক কালাম তেলাওয়াতকারীদের জন্য বড়ই সুসংবাদ রয়েছে। সত্যিই তারা কত বড় ভাগ্যবান।

এ হাদীস থেকে একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত এও পাওয়া গেল যে, কুরআন শরীফ তেলাওয়াতে সওয়াব লাভের জন্য এটা জরুরী নয় যে, এ তেলাওয়াত অর্থ ও মর্ম বুঝেই করতে হবে। কেননা, আলিফ-লাম-মীম ও সকল হরফে মুকাত্তাআত এর তেলাওয়াত অর্থ ও মর্ম না বুঝেই করা হয়ে থাকে, অথচ হাদীসে স্পষ্ট বলে দিয়েছে যে, এ সকল অক্ষর পাঠকারীদেরকেও প্রতি অক্ষরে দশটি করে নেকী দান করা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)