আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৪. কুরআনে কারীমের ফযীলত ও আদব

হাদীস নং: ২৮৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৮৩
কুরআনে কারীমের ফযীলত ও আদব
সূরা আলে-ইমরান এর ফযীলত।
২৮৮৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআন এবং আহলে কুরআন যারা দুনিয়ায় এতদানুসারে আমল করেছেন সেই কুরআন পন্থীগণ (কিয়ামতের দিন) আসবে এমন অবস্থায় যে তাদের আগে আগে থাকবে সূরা বাকারা ও আলে ইমরান।

নাওওয়াস (রাযিঃ) বলেনঃ এতদুভয়ের আগমনের তিনটি উদাহরণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উল্লেখ করেছেন যা আমি এখনও ভুলিনি। তিনি বলেছিলেনঃ এ দু’টো আসবে দুটো ছায়ার মত; এতদুভয়ের মাঝে থাকবে আলোর ঝলকানি বা দু’টো কৃঞ্চবর্ণের মেঘের মত বা ডানা ছড়ানো পাখির ছায়ার মত। এরা উভয়েই তাদের ধারকদের পক্ষে (আল্লাহর দরবারে) বিতর্ক করবে।সহীহ মুসলিম

এ বিষয়ে বুরায়দা এবং আবু উমামা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব।

আলিমগণের মতে এ হাদীসটির মর্ম হল যে, এ সূরা পাঠের সাওয়াব আগমন করবে। কোন কোন আলিম এ হাদীস এবং এ ধরনের আরো যত হাদীস আছে সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, হাশরের দিন কুরআন পাঠের সাওয়াবের আগমন হবে। তাঁদের এ ব্যাখ্যার প্রমাণ নাওওয়াস ইবনে সামআন (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ রিওয়ায়াতটিতে পাওয়া যায়। নবী (ﷺ) এতে বলেছেনঃ আহলে কুরআন যারা দুনিয়াতে এর উপর আমল করেছেন কুরআনের সে সব ধারকগণ ...। এতেও প্রমাণিত হয় যে কিয়ামতের দিন আমলের সাওয়াবের আগমন হবে।
أبواب فضائل القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ الْعَطَّارِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ نَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَأْتِي الْقُرْآنُ وَأَهْلُهُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا تَقْدُمُهُ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَآلُ عِمْرَانَ " . قَالَ نَوَّاسٌ وَضَرَبَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَمْثَالٍ مَا نَسِيتُهُنَّ بَعْدُ قَالَ " تَأْتِيَانِ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ وَبَيْنَهُمَا شَرْقٌ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ سَوْدَاوَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا ظُلَّةٌ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُجَادِلاَنِ عَنْ صَاحِبِهِمَا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يَجِيءُ ثَوَابُ قِرَاءَتِهِ كَذَا فَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنَ الأَحَادِيثِ أَنَّهُ يَجِيءُ ثَوَابُ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ . وَفِي حَدِيثِ النَّوَّاسِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا يَدُلُّ عَلَى مَا فَسَّرُوا إِذْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَأَهْلُهُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا " . فَفِي هَذَا دِلاَلَةٌ أَنَّهُ يَجِيءُ ثَوَابُ الْعَمَلِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসটির বিষয়বস্তু প্রায় হযরত আবু উমামা বাহেলী রাযি.-এর বর্ণিত হাদীসের মতই। হযরত আবূ উমামা বাহেলী রাযি. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, এটা তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। (বিশেষ করে) এর দু'টি নূরানী সূরা 'বাকারা' ও 'আলে ইমরান' পাঠ করে যাও। কেননা, এগুলো কেয়ামতের দিন তার পাঠকারীদেরকে এভাবে ছায়া করে নিয়ে আসবে যে, এগুলো যেন দু'টি মেঘখণ্ড অথবা শামিয়ানা অথবা পাখির ঝাঁক। এগুলো তার পাঠকদের পক্ষ থেকে (আযাব) প্রতিরোধ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কেননা, এটা অর্জন করা খুবই বরকতের বিষয় আর বর্জন করা অত্যন্ত আক্ষেপ ও অনুতাপের ব্যাপার। আর অলস লোকেরা এটা করতে পারবে না।


কেয়ামত ও হাশরের ময়দানের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা একটু চিন্তা করুন এবং এটাও ভেবে দেখুন যে, কত ভাগ্যবান হবে আল্লাহর ঐসব বান্দারা, যারা কুরআনের সাথে মহব্বত ও সম্পর্ক রাখার কারণে এবং এর আহকামের অনুসরণের বরকতে হাশরের ঐ ভয়াবহ ময়দানে এ অবস্থায় আসবে যে, আল্লাহর পাক কালাম তাদের সুপারিশকারী ও উকিল হয়ে তাদের সাথে থাকবে। কুরআনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ নূরানী সূরা, সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের উপর ছায়াপাত করে থাকবে। এসব হাদীসের উপর অবগতি লাভের পরও যেসব বান্দা এ সৌভাগ্য অর্জনে ত্রুটি করবে, নিঃসন্দেহে তারা চরম বঞ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)