আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪২. অনুমতি প্রার্থনা ও বিবিধ শিষ্টাচারের অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮২৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৮২৯
অনুমতি প্রার্থনা ও বিবিধ শিষ্টাচারের অধ্যায়
আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান বলা।
২৮২৯. হাসান ইবনে সাব্বাহ বাযযার (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস ছাড়া আর কারো জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পিতা-মাতা কুরবান- এ কথা বলেন নি। তিনি উহূদ যুদ্ধের দিন তাকে বলেছিলেন, তীর নিক্ষেপ কর তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান, আরো বলেছিলেন, তীর নিক্ষেপ কর, হে শক্তিশালী যুবক।
أبواب الاستئذان والآداب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُدْعَانَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، سَمِعَا سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ قَالَ عَلِيٌّ مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَاهُ وَأُمَّهُ لأَحَدٍ إِلاَّ لِسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ لَهُ يَوْمَ أُحُدٍ " ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي " . وَقَالَ لَهُ " ارْمِ أَيُّهَا الْغُلاَمُ الْحَزَوَّرُ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ الزُّبَيْرِ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ .
وَقَدْ رَوَى غَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ " ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي " .
وَقَدْ رَوَى غَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ " ارْمِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي " .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
এ বিষয়ে যুবাইর ও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাধীসটি হাসান-সহীহ। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। একাধিক রাবী এ হাদীসটি ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদ-সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব-সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উহুদের দিন আমার জন্য একত্র করে তাঁর ’পিতা-মাত কুরবান’- এ কথা বলেছেন।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উহুদ যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা আল্লাহ্ তা'আলার তাওফীকে সম্পূর্ণ দৃঢ়পদ ছিলেন, তাদের মধ্যে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসও অন্যতম ছিলেন। তিনি তীরান্দাজীতে অত্যন্ত সুকৌশলী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি যুদ্ধের ময়দানে হুযুর (ﷺ)-এর কাছেই ছিলেন। তীরের পর তীর চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হুযুর (ﷺ) বলেছিলেন: يا سَعْدُ ارْمِ, فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي (হে সা'দ! তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোন। এভাবেই তীর চালিয়ে যাও।)
হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা কেবল সাহস যোগানোই ছিল না; বরং অতি উত্তম শব্দ মালায় নিজের চরম আন্তরিক খুশি ও সন্তুষ্টির প্রকাশও ছিল। শরহুস সুন্নাহ কিতাবে স্বয়ং হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের বর্ণনা রয়েছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন হুযুর (ﷺ) তাঁর জন্য এ দু‘আও করেছিলেন: اللهم سدد رميته وأجب دعوته (হে আল্লাহ! তুমি সাদের তীরান্দাজীতে শক্তি যোগাও এবং তাঁর দু‘আ কবুল করে নাও।)
তিরমিযী শরীফে হযরত সা'দ রাযি.-এরই বর্ণনায় হুযুর (ﷺ) এর দু‘আর এ শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে: اللهم استجب لسعد إذا دعاك হে আল্লাহ! সা'দ যখন তোমার নিকট কোন দু‘আ করে, তখন তা তুমি কবুল করে নিয়ো।)
হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আর ফল এই ছিল যে, হযরত সা'দ যে দু‘আ করতেন তা সাধারণত কবুল হয়েই যেত। এ জন্য লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দু‘আ নিত এবং তাঁর বদ দু‘আকে খুব ভয় করত।
হুযুর (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে এটা কেবল সাহস যোগানোই ছিল না; বরং অতি উত্তম শব্দ মালায় নিজের চরম আন্তরিক খুশি ও সন্তুষ্টির প্রকাশও ছিল। শরহুস সুন্নাহ কিতাবে স্বয়ং হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের বর্ণনা রয়েছে যে, উহুদের যুদ্ধের দিন হুযুর (ﷺ) তাঁর জন্য এ দু‘আও করেছিলেন: اللهم سدد رميته وأجب دعوته (হে আল্লাহ! তুমি সাদের তীরান্দাজীতে শক্তি যোগাও এবং তাঁর দু‘আ কবুল করে নাও।)
তিরমিযী শরীফে হযরত সা'দ রাযি.-এরই বর্ণনায় হুযুর (ﷺ) এর দু‘আর এ শব্দমালা উল্লেখ করা হয়েছে: اللهم استجب لسعد إذا دعاك হে আল্লাহ! সা'দ যখন তোমার নিকট কোন দু‘আ করে, তখন তা তুমি কবুল করে নিয়ো।)
হুযুর (ﷺ)-এর এ দু‘আর ফল এই ছিল যে, হযরত সা'দ যে দু‘আ করতেন তা সাধারণত কবুল হয়েই যেত। এ জন্য লোকেরা তাঁর কাছ থেকে দু‘আ নিত এবং তাঁর বদ দু‘আকে খুব ভয় করত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)