আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪১. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত ইলমের অধ্যায়

হাদীস নং: ২৬৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৬৭৭
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত ইলমের অধ্যায়
সুন্নত দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করা এবং বিদআত থেকে দূরে থাকা।
২৬৭৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... কাছীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ তৎপিতা তৎপিতামহ আমর ইবনে আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বিলাল ইবনে হারিছ (রাযিঃ)-কে বলেছিলেনঃ জেনে রাখ। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কি জেনে রাখব? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন সুন্নত যিন্দা করবে, যা আমার পর লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তদনুসারে যারা আমল করবে তাদের সাওয়াবের অনুরূপ সাওয়াব ঐ ব্যক্তির (যিন্দাকারীর) হবে। তবে তাদের সাওয়াব থেকে কিছু হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কোন গুমরাহীর বিদ’আত প্রচলন করে তার উপর আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট নন, তার উপর যারা চলবে তাদের সকলের গুনাহর সমপরিমাণ গুনাহ ঐ ব্যক্তির উপরও বর্তাবে। কিন্তু এতে তাদের গুনাহ্ থেকে কোন কিছু হ্রাস হবে না। - ইবনে মাজাহ

হাদীসটি হাসান। এ মুহাম্মাদ ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) হলেন, মিস্সীসী শামী। কাছীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ এর পিতা আব্দুল্লাহ্ হলেন ইবনে আমর ইবনে আওফ মুযানী (রাযিঃ)।
أبواب العلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الأَخْذِ بِالسُّنَّةِ وَاجْتِنَابِ الْبِدَعِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِبِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ " اعْلَمْ " . قَالَ مَا أَعْلَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " اعْلَمْ يَا بِلاَلُ " . قَالَ مَا أَعْلَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " أَنَّهُ مَنْ أَحْيَا سُنَّةً مِنْ سُنَّتِي قَدْ أُمِيتَتْ بَعْدِي فَإِنَّ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلَ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنِ ابْتَدَعَ بِدْعَةَ ضَلاَلَةٍ لاَ يَرْضَاهَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ كَانَ عَلَيْهِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ عَمِلَ بِهَا لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَوْزَارِ النَّاسِ شَيْئًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ هُوَ مِصِّيصِيٌّ شَامِيٌّ وَكَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيُّ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসের বিষয়-বস্তু নিম্ন বর্ণিত দৃষ্টান্ত দ্বারা উত্তম রূপে বুঝা যেতে পারে যে, মনে করুন কোন অঞ্চলে মুসলমানদের মধ্যে যাকাত আদায় করা অথবা যেমন পিতার ত্যাজ্য বিত্তে কন্যাদের অংশ দেওয়ার প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আল্লাহর কোন বান্দার চেষ্টা ও পরিশ্রমে এই গোমরাহী ও দীনী অনিষ্টতার সংশোধন হল। এরপর মানুষ যাকাত দিতে শুরু করল এবং কন্যাদেরকে শরী'আতী অংশ দিতে লাগল, এরপর ঐ অঞ্চলের যত মানুষই, যাকাত প্রদান করবে আর বোনদেরকে সম্পত্তি থেকে তাদের শরী'আতী অংশ দেবে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে একাজের জন্য তারা যত সাওয়াব পাবে, সব কাজের একত্রিত সাওয়াব সেই বান্দাকে দেওয়া হবে, যে এই দীনী আহকাম ও আমলকে পুনরায় জীবন্ত ও প্রচলনের চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছিল। আর এই বিরাট কাজের পারিশ্রমিক আল্লাহ্ তা'আলারই নিকট হতে বিশেষ পুরস্কার স্বরূপ প্রদান করা হবে। আমলকারীদের পারিশ্রমিক থেকে কিছু কেটে নেওয়া হবে না এবং তাদের কমও দেওয়া হবে না। আমাদের যুগেরই এর এক বাস্তব দৃষ্টান্ত হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের দীনী শিক্ষা-দীক্ষার জন্য এ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, প্রত্যেক মুসলমান যুবক হোক বা বৃদ্ধ, ধনী হোক বা দরিদ্র, বিদ্বান হোক বা মূর্খ, দীনের আবশ্যকীয় জ্ঞান অর্জন করবে এবং দীনের ওপর চলবে। আর নিজের অবস্থা ও শক্তি অনুযায়ী অন্যদেরকেও শিক্ষা-দীক্ষা প্রদানের জন্য পরিশ্রম ও চেষ্টা করবে। কিন্তু কতক ঐতিহাসিক কারণে যুগের বিবর্তনের সাথে এ পদ্ধতি দুর্বল হতে থাকে। কয়েক শতাব্দী থেকে অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, নিষ্ঠাবান উলামা ও দীনের বিশেষ লোকদের হালকা ও পরিধিতে দীনের চিন্তা অবশিষ্ট রয়েছে।

এমতাবস্থায় আমাদের যুগেরই আল্লাহর এক অকপট বান্দা ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক ভক্ত উম্মত দীনের চিন্তা ও মেহনতের সেই সাধারণ পদ্ধতিকে পুনরায় চালু করতে ও এ পদ্ধতি বাস্তবায়িত করার জন্যে চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছেন। এজন্য নিজের জীবন ওয়াক্ফ ও কুরবান করেছেন। যার এই ফল আমাদের চোখের সামনে যে, এখন (যখন চৌদ্দ'শ হিজরী শেষ হয়ে পনের'শ হিজরী শুরু হয়েছে) (বর্তমানে ১৪২৬ হিজরী-অনুবাদক) দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের বিভিন্ন শ্রেণীর সেই লাখো লোক যাদের না দীনের সাথে সম্পর্ক ছিল, না আমলের সাথে, তাদের অন্তর আখিরাতের চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল, তারা দীনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। এখন তারা আখিরাতকেই সামনে রেখে স্বয়ং নিজেদের জীবনকে আল্লাহ্ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আহ্কাম মুতাবিক তৈরি করার এবং অন্যদের মধ্যেও এ চিন্তা জাগ্রত ও পয়দা করতে মেহনত ও চেষ্টা করছেন। এ পথে কুরবানি দিচ্ছেন ও কষ্টসমূহ সহ্য করছেন। নিঃসন্দেহে এটা সুন্নাত জীবন্ত করার মহান দৃষ্টান্ত। আল্লাহ্ তা'আলা এ কুরবানি কবুল করুন। আর এর মাধ্যমে উম্মতের মধ্যে, এরপর গোটা মনুষ্য জগতে হিদায়াতকে ব্যাপক করুন।
وَمَا ذَالِكَ عَلَى اللَّهِ بِعَزِيزِ
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
rabi
বর্ণনাকারী:
জামে' তিরমিযী - হাদীস নং ২৬৭৭ | মুসলিম বাংলা