আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৩৯. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত জাহান্নামের বিবরণ
হাদীস নং: ২৬০১
আন্তর্জাতিক নং: ২৬০১
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত জাহান্নামের বিবরণ
এই বিষয়ে আরেকটি অনুচ্ছেদ।
২৬০২. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামের মত এমন কিছু দেখিনি যে এর থেকে আত্মরক্ষাকারী এমন ঘুমিয়ে থাকে আবার জান্নাতের মত এমন কিছু দেখিনি যে, এর অভিলাষী এমনভাবে ঘুমিয়ে থাকে।
ইয়াহয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ্ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এই হাদীসকে আমরা জানি। হাদীসবিদগণের মতে ইয়াহয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ্ যঈফ। শু’বা (রাহঃ) তার সমালোচনা করেছেন।
ইয়াহয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ্ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এই হাদীসকে আমরা জানি। হাদীসবিদগণের মতে ইয়াহয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ্ যঈফ। শু’বা (রাহঃ) তার সমালোচনা করেছেন।
أبواب صفة جهنم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ مِنْهُ
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا وَلاَ مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طَالِبُهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ . وَيَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ تَكَلَّمَ فِيهِ شُعْبَةُ وَيَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ مَوْهَبٍ وَهُوَ مَدَنِيٌّ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এটা হল মানুষের প্রকৃতি যে, যখন মানুষ কোন হিংস্র প্রাণী বা শক্তিশালী যালিম শত্রুর সম্মুখীন হয় তখন সে এমন ভাবে পালিয়ে যেতে চায় যে তার নিরাপত্তাবোধ না হওয়া পর্যন্ত সে ঘুমাতেও পারে না এবং আরামও করতে পারে না। অনুরূপভাবে মানুষ যখন তার প্রিয় এবং পছন্দনীয় জিনিস অর্জন করার জন্য চেষ্টা সাধনা করে তখন সে তার আহার নিদ্রা এবং বিশ্রাম পরিহার করে প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু জাহান্নাম এবং জান্নাতের ব্যাপারে মানুষের আচরণ খুবই অদ্ভুত। জাহান্নামের চেয়ে ভয়ঙ্কর কোন বালা-মুসিবত নেই এবং যা থেকে পরিত্রাণ লাভ করার জন্য মানুষের পালিয়ে যাওয়া উচিত। অথচ মানুষ এ সম্পর্কে মারাত্মকভাবে উদাসীন। অনুরূপভাবে জান্নাত এমন এক অতুলনীয় সম্পদ যা অর্জন করার জন্য মানুষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজন অথচ এ বিষয়েও মানুষ পরিপূর্ণভাবে উদাসীন।
মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা দাবী করে যে, দোযখের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে নাযাত লাভের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করবে এবং জান্নাতের প্রাচুর্য লাভ করার জন্য বে-ইনতেহা মেহনত করবে। কারণ দোযখ থেকে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কোন জিনিস এবং জান্নাতের চেয়ে সুন্দর ও মহান কোন জিনিস আল্লাহ্ রাব্বুল ইযযত তৈরী করেন নি। এ বাস্তব জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষ তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উক্ত হাদীসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা দাবী করে যে, দোযখের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে নাযাত লাভের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করবে এবং জান্নাতের প্রাচুর্য লাভ করার জন্য বে-ইনতেহা মেহনত করবে। কারণ দোযখ থেকে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কোন জিনিস এবং জান্নাতের চেয়ে সুন্দর ও মহান কোন জিনিস আল্লাহ্ রাব্বুল ইযযত তৈরী করেন নি। এ বাস্তব জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষ তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উক্ত হাদীসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)