আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৭. কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ

হাদীস নং: ২৫১২
আন্তর্জাতিক নং: ২৫১২
কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।
২৫১৪. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ দুটি গুণ এমন যার মধ্যে এ দুটি গুণ পাওয়া যায় তাকে আল্লাহ তাআলা শোকর-গুযার এবং ধৈর্যশীল হিসাবে লিখে নিবেন। আর যার মধ্যে এই দুটি গুণ নেই তাকে তিনি শোকর-গুযার এবং ধৈর্যশীল হিসাবে লিখেন না। তা হল, দ্বীনের ব্যাপারে যে ব্যক্তি তার উপরের জনের দিকে তাকায় এবং এ ক্ষেত্রে সে তার অনুসরণ করে। আর তার জাগতিক ব্যাপারে সে তার নিজের স্তরের দিকে তাকায় এবং এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তাকে যে মর্যদা দিয়েছেন তজ্জন্য সে আল্লাহর প্রশংসা করে। আল্লাহ তাআলা তাকে শোকরগুযার এবং ধৈর্যশীল হিসাবে লিখে নেন। যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাপারে তার নীচের স্তরের দিকে তাকায় আর জাগতিক ব্যাপারে তার উপরের স্তরের দিকে তাকায় এবং পার্থিব সম্পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সে আফসোস করে আল্লাহ তাআলা তাকে শোকরগুযার ও ধৈর্যশীল হিসাবে লিখেন না।
أبواب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَصْلَتَانِ مَنْ كَانَتَا فِيهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا وَمَنْ لَمْ تَكُونَا فِيهِ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلاَ صَابِرًا مَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَاقْتَدَى بِهِ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا فَضَّلَهُ بِهِ عَلَيْهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا وَمَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَأَسِفَ عَلَى مَا فَاتَهُ مِنْهُ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلاَ صَابِرًا " .
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ الرَّجُلُ الصَّالِحُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَلَمْ يَذْكُرْ سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِيهِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

মূসা ইবনে হিযাম (রাহঃ) ... আমর ইবনে শুআয়ব তার পিতা তার পিতামহ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। সুওয়ায়দ তার সনদে’তার পিতা থেকে’ শব্দটি উল্লেখ করেন নাই।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দীনের ব্যাপারে নজর উর্ধ্বমুখী করার মধ্যে ফায়দা রয়েছে। সৎকর্মের জন্য মনের মধ্যে ঈর্ষা পোষণ করা বা ভাল কাজ করার জন্য কারো সাথে প্রতিযোগিতা করার মধ্যে কোন লোকসান নেই, বরং কল্যাণ রয়েছে। যে সৎ নিয়্যত সহকারে দীনি কাজে প্রতিযোগিতা করে, সে নিজেকে উন্নত করে। যে দীনি কাজে ঊর্ধ্বতন মর্যাদার অধিকারীর দিকে দৃষ্টিপাত করে এবং তাকে অনুসরণ করে, সে দীনের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য শ্রম ও মেহনত করে। অনেক লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বস্তু ত্যাগ করে এবং নফসের অনেক দাবি প্রত্যাখ্যান করে। বস্তুত নফসের সাথে অবিরাম সংগ্রাম করার কারণে সে নিজের মধ্যে সবর ও শোকরের গুণাবলী সৃষ্টি করে।

অনুরূপভাবে যখন সে দুনিয়ার ব্যাপারে তার চেয়ে কম সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী ব্যক্তির দিকে নজর করে, তখন সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং নিজের বিত্ত ও সম্পদের উপর সন্তুষ্ট থাকে। বান্দা যখন তার অবস্থার উপর সন্তুষ্ট থাকে এবং যা আল্লাহ তাকে দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তখন আল্লাহও তার উপর সন্তুষ্ট হন। দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। তাই এ দুটো গুণের অধিকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ সবর ও শোকরের বুলন্দ মাকাম দান করেন।

হাদীসের শেষাংশে বলা হয়েছে, এ দুটো স্বভাবের বিপরীত স্বভাব যাদের রয়েছে তাদেরকে শোকরগুযার ও সবরকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না। যার ভিতর এ দুটো গুণ নেই, তার মধ্যে বিপরীতধর্মী দুটো মন্দ অভ্যাস সৃষ্টি হয়। দীনের ব্যাপারে সে নীচের দিকে নজর দেয়ার কারণে তার তরক্কী না হয়ে বরং অবনতি হয় এবং দুনিয়ার ব্যাপারে উপরের দিকে নজর দেয়ার কারণে তার মন হিংসা ও অশান্তির অনলে পুড়তে থাকে। বান্দা যখন তার দোষে নিজেকে অশান্তি ও অবনতির দিকে ঠেলে দেয়, তখন আল্লাহ তাকে কি করে সবর ও শোকরের আলীশান মাকাম দান করতে পারেন? বরং এ দুটো বদ অভ্যাসের কারণে বান্দা যদি সীমা অতিক্রম করে বসে, তাহলে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট ও নারায হবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)