আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৭. কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ

হাদীস নং: ২৪৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৪৮৭
কিয়ামত-মৃত্যুপরবর্তী জগতের বিবরণ
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।
২৪৮৯. হুসাইন ইবনে হাসান মারওয়াযী (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন মদীনায় এলেন তখন মুহাজিরগণ তাঁর কাছে এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা যে জাতির কাছে এসেছি তাদের মত প্রাচুর্যের অবস্থায় এবং অপ্রাচুর্যের অবস্থায় (আল্লাহর পথে) এত ব্যয় করতে এবং এত উত্তম সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে আর কাউকে আমরা দেখিনি। তারা আমাদের সকল প্রয়োজনে যথেষ্ট ছিলেন এবং তাদের শ্রমলব্ধ সম্পদে আমাদের অংশীদার বানিয়েছেন। এমনকি আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে সব সাওয়াব তারাই নিয়ে যাবেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ শোন যতদিন তোমরা তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করবে এবং তাদের প্রশংসা করবে (ততদিন তোমাদেরও সাওয়াব হতে থাকবে)।
أبواب صفة القيامة والرقائق والورع عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابٌ
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، بِمَكَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ أَتَاهُ الْمُهَاجِرُونَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْنَا قَوْمًا أَبْذَلَ مِنْ كَثِيرٍ وَلاَ أَحْسَنَ مُوَاسَاةً مِنْ قَلِيلٍ مِنْ قَوْمٍ نَزَلْنَا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ لَقَدْ كَفَوْنَا الْمُؤْنَةَ وَأَشْرَكُونَا فِي الْمَهْنَإِ حَتَّى خِفْنَا أَنْ يَذْهَبُوا بِالأَجْرِ كُلِّهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ مَا دَعَوْتُمُ اللَّهَ لَهُمْ وَأَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কা মুআযযামা থেকে হিজরত করে পবিত্র মদীনায় এলেন, আর সাথে মুহাজিরদের এক বড় দল ছিল, যারা তাঁর পূর্বে বা পরে নিজ নিজ ঘর ছেড়ে পবিত্র মদীনায় এসেছিলেন, একথা সর্বজনবিদিত যে, প্রাথমিক দিনগুলোতে তাঁদের সবাইকে মদীনার আনসারগণ আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের মেহমান করেছিলেন, জমি-জমা ও অন্যান্য কাজে নিজেরা পরিশ্রম করতেন আর তা থেকে যা উপার্জিত হত তাতে মুহাজিরদের শরীক করে নিতেন। সেই আনসারগণের মধ্যে বিত্তশালীও ছিলেন আবার দরিদ্রও ছিলেন। তবে নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী মুহাজিরগণের সেবায় সবাই অংশ গ্রহণ করতেন। যাঁরা বিত্তশালী ছিলেন তাঁরা পূর্ণ প্রশস্ত হৃদয়ে মুহাজিরদের পেছনে নিজেদের সম্পদ দ্বিধাহীন চিত্তে ব্যয় করতেন। আর যাঁরা দরিদ্র ছিলেন তাঁরা নিজেদের পেট ক্ষুধার্ত রেখে তাঁদের খিদমত ও মেহমানদারী করতেন।

এমতাবস্থায় মুহাজিরগণের হৃদয়ে এ ধারণা জন্মাল, এমন না হয় যে, আনসারদের এ অসাধারণ আত্মত্যাগ ও ইহসানের কারণে আমাদের হিজরত ও ইবাদত ইত্যাদির সওয়াবও আমাদের ইহসানকারী অতিথিপরায়ণরা নিয়ে নেয়। আর আমরা লোকসানে থেকে যাই। তাঁরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে নিজেদের এ আশংকার কথা পেশ করলেন। তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করলেন যে, এরূপ হবে না। তবে শর্ত হচ্ছে তোমরা তাঁদের এ ইহসানের পরিবর্তে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করবে এবং অন্তরে ও মুখে তাদের ইহসানের স্বীকারোক্তি ও শুকরিয়া আদায় করে চলবে। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের এ কাজকেই তাদের ইহসানের বিনিময়ে কবুল করবেন এবং তোমাদের পক্ষ হতে তাদের এই ইহসান ও আত্মত্যাগের পূর্ণ প্রতিদান তাদের দান করবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান