আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৮- নবীগণের আঃ আলোচনা
হাদীস নং: ৩২০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৪৯
- নবীগণের আঃ আলোচনা
২০৪৬. ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)- এর অবতরণের বর্ণনা
৩২০৬। ইবনে বুকায়র (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের অবস্থা কেমন (আনন্দের) হবে, যখন তোমাদের মাঝে মারইয়াম তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন, আর তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হবে। আর উকাইল ও আওযায়ী (রাহঃ)–এর অনুসরণ করেছেন।*
*ঈসা (আলাইহিস সালাম) মুসলমানদের ইমাম হবেন বটে কিন্তু তিনি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক শাসনকার্য চালাবেন, ইঞ্জিল মতে নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে আসবেন। -(আইনী)
*ঈসা (আলাইহিস সালাম) মুসলমানদের ইমাম হবেন বটে কিন্তু তিনি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক শাসনকার্য চালাবেন, ইঞ্জিল মতে নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে আসবেন। -(আইনী)
كتاب الأنبياء
باب نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليهما السلام
3449 - حَدَّثَنَا ابْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ، وَإِمَامُكُمْ مِنْكُمْ» ، تَابَعَهُ عُقَيْلٌ، وَالأَوْزَاعِيُّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, তখন অবস্থা খুবই অস্বাভাবিক হবে। যে রূপ উপরোক্ত হাদীস ও এতদ বিষয়ক অন্যান্য হাদীস থেকে জানা যায়। হাদীসের শেষ অংশ وَأِمَامِكُمْ مِنْكُمْ এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, তখন ঈসা ইবনে মারয়াম-এর মর্যাদা এই হবে যে, (পূর্ববর্তী যুগের এক নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও) তোমাদের মধ্যে অর্থাৎ তোমরা তথা মুসলমানদের দলের এক সদস্যরূপে এক ইমাম ও শাসক হবেন। এ হাদীসেরই সহীহ্ মুসলিমের এক বর্ণনায় وَأِمَامِكُمْ مِنْكُمْ এর স্থলে فَامَّكُمْ مِنْكُمْ রয়েছে। এর এক বর্ণনাকারী ইবনে আবী যি’ব- এর ব্যাখ্যা এ শব্দাবলিতে করেছেন فَأَمَّكُمْ بِكِتَابِ رَبِّكُمْ عَزَّوَجَل وَسُنَّةِ نَبِيّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারয়াম অবতরণের পর মুসলমানদের ইমাম ও শাসক হবেন। আর সেই ইমামত ও রাষ্ট্র পরিচালনা কুরআন মজীদ ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনীত শরী'আত মুতাবিক করবেন। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী আলোচ্য হাদীসে ঈসা (আ)-এর ইমামত দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল নামাযের ইমামত নয়, বরং উদ্দেশ্য সাধারণ ইমামত। অর্থাৎ উম্মতের দীনী ও পার্থিব নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক মর্যাদা। তখন যেন তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিনিধি ও খলীফা হবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)