আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬. যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা

হাদীস নং: ২৪১৪
আন্তর্জাতিক নং: ২৪১৪
যুহদ-দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।
২৪১৭. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... মদীনাবাসী জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাযিঃ) একবার আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, লেখার মাধ্যমে আমার কিছু নসীহত করুন, তবে পরিমাণে তা যেন খুব বেশী না হয়। বর্ণনাকারী বলেনঃ অনন্তর আয়িশা (রাযিঃ) মুআবিয়া (রাযিঃ) এর বরাবরে লিখলেনঃ

সালাম আলাইকা, আম্মাবাদ। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মানুষের অসন্তুষ্টিতেও যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশ করবে আল্লাহ তাআলা মানুষের অনিষ্ট থেকে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি তালাশ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের হাতেই সোপর্দ করে দিবেন। ওয়াস সালামু আলাইকা।
أبواب الزهد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْوَرْدِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قَالَ كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضى الله عنها أَنِ اكْتُبِي إِلَىَّ كِتَابًا تُوصِينِي فِيهِ وَلاَ تُكْثِرِي عَلَىَّ . فَكَتَبَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها إِلَى مُعَاوِيَةَ سَلاَمٌ عَلَيْكَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ " . وَالسَّلاَمُ عَلَيْكَ .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَتَبَتْ إِلَى مُعَاوِيَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুআবিয় (রাযিঃ)-কে বলেছিলেন। উক্ত মর্মে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, তবে এটি মারফু নয়।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে মু'মিনদের জন্য উপদেশের এক সমুদ্র রয়েছে। যে ব্যক্তি আখিরাতকে পসন্দ করে, সে কখনো মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহকে নারায করবে না। যে আল্লাহকে নারায করে মানুষকে রাযী করতে চাইবে, সে তার আখিরাতের যিন্দেগী বরবাদ করবে। আখিরাতের আদালতে তাকে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু যে দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল করার জন্য আল্লাহকে নারায করে, সে দুনিয়ার যিন্দেগীতেও প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাঁর নিজের সাহায্য প্রত্যাহার করার কারণে সে প্রত্যেক পদক্ষেপে মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয় এবং মানুষের সাহায্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে মানুষ তাকে গলদ রাস্তায় পরিচালিত করে এবং তার জন্য সমস্যার পাহাড় সৃষ্টি করে। এ ধরনের বান্দাদের এমন এক সময় উপস্থিত হয় যখন তার সাহায্যকারী বন্ধুগণ তার উপর অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত হয় এবং তাকে সমস্যার সমুদ্রে ফেলে নিজেরা কেটে পড়ে। তাই এ ধরনের মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়।

এই হাদীসে রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রের শাসক এবং সমাজকর্মীদের জন্য চিন্তার প্রচুর উপাদান রয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথ অনুসরণ করলে তারা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। অন্যথায় আখিরাত ও দুনিয়ার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবেন। সারা দুনিয়ার মানুষকে তোয়াজ করেও দুনিয়া স্থায়ীভাবে হস্তগত করা যাবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
জামে' তিরমিযী - হাদীস নং ২৪১৪ | মুসলিম বাংলা