আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৩৩. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের বিবরণ
হাদীস নং: ২২২৬
আন্তর্জাতিক নং: ২২২৬
ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের বিবরণ
খিলাফত।
২২২৯. আহমাদ ইবনে মানী‘ (রাহঃ) ..... সাফীনা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের খিলাফত হবে ত্রিশ বছর। এরপর হবে বাদশাহী।
বর্ণনাকারী সাঈদ (রাহঃ) বলেন, অতপর সাফিনা (রাযিঃ) আমাকে বললেনঃ আবু বকর (রাযিঃ)-এর খিলাফত কাল গণনা কর। পরে বললেনঃ উমর ও উসমান (রাযিঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। এরপর বললেনঃ আলী (রাযিঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। গণে দেখলাম যে, এ পর্যন্ত ত্রিশ বছর হয়ে যায়।
সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, বনু উমাইয়ারা তো বলে যে তাদের মাঝেও খিলাফত বিদ্যমান? তিনি বললেনঃ যারকার সন্তানরা (বনু উমাইয়া) মিথ্যা বলেছে বরং এরা তো নিকৃষ্ট বাদশাহের অন্তর্ভুক্ত বাদশাহের দল।
বর্ণনাকারী সাঈদ (রাহঃ) বলেন, অতপর সাফিনা (রাযিঃ) আমাকে বললেনঃ আবু বকর (রাযিঃ)-এর খিলাফত কাল গণনা কর। পরে বললেনঃ উমর ও উসমান (রাযিঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। এরপর বললেনঃ আলী (রাযিঃ)-এর খিলাফতকাল গণনা কর। গণে দেখলাম যে, এ পর্যন্ত ত্রিশ বছর হয়ে যায়।
সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, বনু উমাইয়ারা তো বলে যে তাদের মাঝেও খিলাফত বিদ্যমান? তিনি বললেনঃ যারকার সন্তানরা (বনু উমাইয়া) মিথ্যা বলেছে বরং এরা তো নিকৃষ্ট বাদশাহের অন্তর্ভুক্ত বাদশাহের দল।
أبواب الفتن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
بَابُ مَا جَاءَ فِي الخِلاَفَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَشْرَجُ بْنُ نُبَاتَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَفِينَةُ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْخِلاَفَةُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ سَنَةً ثُمَّ مُلْكٌ بَعْدَ ذَلِكَ " . ثُمَّ قَالَ لِي سَفِينَةُ أَمْسِكْ خِلاَفَةَ أَبِي بَكْرٍ وَخِلاَفَةَ عُمَرَ وَخِلاَفَةَ عُثْمَانَ . ثُمَّ قَالَ لِي أَمْسِكْ خِلاَفَةَ عَلِيٍّ . قَالَ فَوَجَدْنَاهَا ثَلاَثِينَ سَنَةً . قَالَ سَعِيدٌ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ بَنِي أُمَيَّةَ يَزْعُمُونَ أَنَّ الْخِلاَفَةَ فِيهِمْ . قَالَ كَذَبُوا بَنُو الزَّرْقَاءِ بَلْ هُمْ مُلُوكٌ مِنْ شَرِّ الْمُلُوكِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ قَالاَ لَمْ يَعْهَدِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الْخِلاَفَةِ شَيْئًا . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ قَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ وَلاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ .
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
আবু ঈসা বলেন, এ বিষয়ে উমর ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা বলেনঃ নবী (ﷺ) খিলাফত বিষয়ে কোন ওসীয়ত করে যান নাই।
এ হাদীসটি হাসান। একাধিক রাবী এটি সাঈদ ইবনে জুমহান (রাহঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেছেন। তাঁর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।
এ হাদীসটি হাসান। একাধিক রাবী এটি সাঈদ ইবনে জুমহান (রাহঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেছেন। তাঁর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত সাফীনা (রা) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুক্তদাস। তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে বাণী উদ্ধৃত করেছেন তার অর্থ এই যে, খিলাফত অর্থাৎ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমার পদ্ধতিতে ও আল্লাহ্ তা'আলার পসন্দনীয় পদ্ধতির ওপর আমার প্রতিনিধিরূপে দীনের দাওআত ও খিদমত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কাজ (যার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি শিরোনাম 'খিলাফতে রাশিদা') কেবল তিরিশ বছর চলবে। এরপর রাষ্ট্র বাদশাহীতে পরিবর্তীত হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি এ সত্য প্রতিভাত করে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি এটা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সাহাবা কিরাম থেকে এ ধারাবাহিকতায় তাঁর বাণীসমূহ বর্ণিত হয়েছে। হযরত সাফীনা (রা) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ বাণী উদ্ধৃত করার সাথে এর হিসাবও বলে দিয়েছেন।
তবে এটাকে মোটামুটি হিসাব বুঝা চাই। প্রকৃত হিসাব হচ্ছে-হযরত সিদ্দীক আকবর (রা)-এর খিলাফতকাল দু'বছর চার মাস। এরপর হযরত উমর ফারুক আযম (রা)-এর খিলাফতকাল দশ বছর ছয় মাস। এরপর হযরত যুন্নুরাইন (রা)-এর খিলাফতকাল কয়েক দিন কম বার বছর। তারপর হযরত আলী মুরতাযা (রা)-এর খিলাফতকাল চার বছর নয় মাস। এর যোগফল ঊনত্রিশ বছর সাত মাস। এর সাথে হযরত হাসান (রা)-এর খিলাফত কাল পাঁচ মাস যোগ করলে পূর্ণ তিরিশ বছর হয়। এই তিরিশ বছরই খিলাফতে রাশিদা। এরপর যেরূপ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি বাদশাহীতে পরিবর্তিত হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ জাতীয় ভবিষ্যতবাণীসমূহ তাঁর নবুওতের প্রকাশ্য প্রমাণও বহন করে। আর এতে উম্মতকে জ্ঞাত করাও উদ্দেশ্য।
তবে এটাকে মোটামুটি হিসাব বুঝা চাই। প্রকৃত হিসাব হচ্ছে-হযরত সিদ্দীক আকবর (রা)-এর খিলাফতকাল দু'বছর চার মাস। এরপর হযরত উমর ফারুক আযম (রা)-এর খিলাফতকাল দশ বছর ছয় মাস। এরপর হযরত যুন্নুরাইন (রা)-এর খিলাফতকাল কয়েক দিন কম বার বছর। তারপর হযরত আলী মুরতাযা (রা)-এর খিলাফতকাল চার বছর নয় মাস। এর যোগফল ঊনত্রিশ বছর সাত মাস। এর সাথে হযরত হাসান (রা)-এর খিলাফত কাল পাঁচ মাস যোগ করলে পূর্ণ তিরিশ বছর হয়। এই তিরিশ বছরই খিলাফতে রাশিদা। এরপর যেরূপ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি বাদশাহীতে পরিবর্তিত হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ জাতীয় ভবিষ্যতবাণীসমূহ তাঁর নবুওতের প্রকাশ্য প্রমাণও বহন করে। আর এতে উম্মতকে জ্ঞাত করাও উদ্দেশ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: