আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৭. সুন্দর ব্যবহার ও আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অধ্যায়

হাদীস নং: ২০৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ২০৩৪
সুন্দর ব্যবহার ও আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অধ্যায়
যা দেওয়া হয় নাই তা পেয়েছে বলে দেখান।
২০৪০. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কাউকে কিছু হাদিয়া দেওয়া হলে সে যদি সঙ্গতি পায় তবে সে যেন এর বদলা দিয়ে দেয়। আর যদি সঙ্গতি না পায় তবে যেন সে তার প্রশংসা করে। কেননা যে ব্যক্তি প্রশংসা করল সে শুকরিয়া আদায় করল। আর যে তা গোপন রাখল সে নাশুকরিয়া করল। যা প্রদত্ত হয়নি এমন বিষয়ে যে দেওয়া হয়েছে বলে প্রদর্শন করে সে ব্যক্তি মিথ্যার দুটো পরিচ্ছদ পরিধানকারীর মত।
أبواب البر والصلة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الْمُتَشَبِّعِ بِمَا لَمْ يُعْطَهُ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أُعْطِيَ عَطَاءً فَوَجَدَ فَلْيَجْزِ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُثْنِ فَإِنَّ مَنْ أَثْنَى فَقَدْ شَكَرَ وَمَنْ كَتَمَ فَقَدْ كَفَرَ وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَهُ كَانَ كَلاَبِسِ ثَوْبَىْ زُورٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ وَعَائِشَةَ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " وَمَنْ كَتَمَ فَقَدْ كَفَرَ " . يَقُولُ قَدْ كَفَرَ تِلْكَ النِّعْمَةَ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

এই বিষয়ে আসমা বিনতে আবু বকর ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-গারীব।

وَمَنْ كَتَمَ فَقَدْ كَفَرَ - বাক্যটির মর্ম হল যে অনুগ্রহ গোপন করল সে ঐ নিআমতের কূফরী করল।

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন যে, যাকে কোন প্রিয়জনের পক্ষ থেকে হাদিয়া, তুহফা প্রদান করা হয়, তবে হাদিয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি হাদিয়ার প্রতিদান প্রদানে সক্ষম হয়, তাই করবে। আর যদি এ ক্ষমতা না থাকে তবে হাদিয়া প্রদানকারীর ব্যাপারে উত্তম কথা বলবে। তার এ ইহসানের কথা অন্যদের নিকট আলোচনা করবে। আল্লাহ তা'আলার নিকট এটাও কৃতজ্ঞতা বলে গৃহীত হবে। (অন্য এক হাদীস থেকে জানা যায় جَزَاكَ اللّٰهُ বললেও এ দাবি পূর্ণ হবে) আর যে ব্যক্তি হাদিয়া-তুহফা পাওয়ার পর ইহা গোপন করে, মুখে পর্যন্ত উল্লেখ করল না, 'জাযাকাল্লাহ্' জাতীয় শব্দও বলল না, তবে সে নি'আমতের অস্বীকারকারী ও অকৃতজ্ঞ হল।

হাদীসের শেষ বাক্য ومن تحلى الخ-এর প্রকাশ্য অর্থ এই যে, যে ব্যক্তি নিজের কথা বা কাজ কিংবা বিশেষ কাপড় ইত্যাদি দ্বারা নিজের মধ্যে সেই পূর্ণতা (যেমন আলিম ও বুযুর্গ) প্রকাশ করে যা তার মধ্যে নেই তবে সে সেই ধোঁকাবাজের ন্যায়, যে লোকজনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বশীল লোকদের পোশাক পরিধান করে।

হাদীসের কোন কোন ব্যাখ্যাকার লিখেন, আরবে এক ব্যক্তি অতিশয় নিচু ও মর্যাদাহীন স্তরের ছিল। কিন্তু সে মর্যাদাবান ও ব্যক্তিত্বশীল লোকদের ন্যায় উত্তম ও আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পরত, যেন তাকে সম্ভ্রান্তদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তার সাক্ষ্যের প্রতি আস্থা রাখা হয়। অথচ সে মিথ্যা সাক্ষ্য দিত। এটাকেই لابس ثوب زور বলা হয়েছে।

হাদিয়া-তুহফা সম্পর্কিত উল্লিখিত দিকনির্দেশনাবলীর সাথে শেষ বাক্য বলার সম্ভবত হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উদ্দেশ্য যে, যে ব্যক্তির নিকট এমন গুণাবলী না থাকে যে কারণে মানুষ তাকে হাদিয়া প্রদান করা সৌভাগ্য মনে করে, এমন ব্যক্তি যদি মানুষের হাদিয়া-তুহফা অর্জনের জন্য নিজের কথা, পোশাক ও জীবনের চাল-চলন দ্বারা সেই পূর্ণতা ও গুণাবলী নিজের জন্য প্রকাশ করে তবে তা ধোঁকা ও প্রতারণা হবে। আর সে ব্যক্তি বর্ণনা মুতাবিক لابس ثوب روز এর ন্যায় ধোঁকাবাজ হবে। আল্লাহ ভাল জানেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)