আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত শিকার ও জবাইয়ের বিধান
হাদীস নং: ১৪৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৭৪
রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত শিকার ও জবাইয়ের বিধান
আটকিয়ে রেখে হত্যা করা পশু আহার করা নিষিদ্ধ
১৪৮০। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া প্রমুখ (রাহঃ) ......... ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বর যুদ্ধের দিন দাঁতাল হিংস্র প্রাণী, নখর যুক্ত থাবা বিশিষ্ট হিংস্র পাখি, গৃহপালিত গাধা, তীর নিক্ষেপে নিহত আটক প্রাণী (মুজাচ্ছামা)। হিংস্র পশুর মুখ থেকে ছিনিয়ে আনা মৃত প্রাণী, সন্তান ভূমিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত গর্ভবতী সদ্য হস্তগত হওয়া দাসীর সঙ্গে সহবাস করা নিষেধ করেছেন।
আবু দাউদ ১৮৮৩
আবু আসিম (রাহঃ) কে ‘মুজাচ্ছামা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, কোন পাখি বা প্রাণীকে বেধে দাঁড় করিয়ে তীর ছোড়া। ‘খালীসা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তা হল, বাঘ বা অন্য কোন হিংস্র প্রাণীর মুখ থেকে কেউ তার শিকার কেড়ে নিল এবং যাবাহ করা আগেই তার হাতে সেটি মারা গেল।
আবু দাউদ ১৮৮৩
আবু আসিম (রাহঃ) কে ‘মুজাচ্ছামা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, কোন পাখি বা প্রাণীকে বেধে দাঁড় করিয়ে তীর ছোড়া। ‘খালীসা’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তা হল, বাঘ বা অন্য কোন হিংস্র প্রাণীর মুখ থেকে কেউ তার শিকার কেড়ে নিল এবং যাবাহ করা আগেই তার হাতে সেটি মারা গেল।
أبواب الصيد (و الذبائح) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ أَكْلِ الْمَصْبُورَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ وَهْبٍ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ الْعِرْبَاضِ، وَهُوَ ابْنُ سَارِيَةَ عَنْ أَبِيهَا، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ وَعَنِ الْمُجَثَّمَةِ وَعَنِ الْخَلِيسَةِ وَأَنْ تُوطَأَ الْحَبَالَى حَتَّى يَضَعْنَ مَا فِي بُطُونِهِنَّ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى سُئِلَ أَبُو عَاصِمٍ عَنِ الْمُجَثَّمَةِ قَالَ أَنْ يُنْصَبَ الطَّيْرُ أَوِ الشَّىْءُ فَيُرْمَى . وَسُئِلَ عَنِ الْخَلِيسَةِ فَقَالَ الذِّئْبُ أَوِ السَّبُعُ يُدْرِكُهُ الرَّجُلُ فَيَأْخُذُهُ مِنْهُ فَيَمُوتُ فِي يَدِهِ قَبْلَ أَنْ يُذَكِّيَهَا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ঐসকল পশু যেগুলো মুখ ও দাঁত দিয়ে শিকার করে- যেমন সিংহ, চিতা, বাঘ এবং অনুরূপভাবে কুকুর ও বিড়াল, এগুলোর এমন ধারালো দাঁত থাকে যাকে আরবীতে ناب বলা হয়। এগুলোই এসব পশুর আঘাত ও আক্রমণের বিশেষ অস্ত্র। অনুরূপভাবে যেসব পাখী শিকার ধরে, যেমন- বাজ, চিল ইত্যাদি তাদের আক্রমণের হাতিয়ার হচ্ছে- ঐ পাঞ্জা, যা দিয়ে ঝাপটা মেরে শিকারকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসে।
হাদীসটির মর্ম ও সারবস্তু এই যে, চতুষ্পদ হিংস্রপ্রাণী, যেগুলোর মুখে ধারালো দাঁত থাকে এবং শিকার করে, অনুরূপভাবে শিকারী পাখী, যেগুলো পাঞ্জা দ্বারা ঝাপটা মেরে শিকার করে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ, এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, এগুলো খাওয়া যাবে না। বস্তুত এগুলোও হারাম ও অপবিত্র জিনিসের অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসটির মর্ম ও সারবস্তু এই যে, চতুষ্পদ হিংস্রপ্রাণী, যেগুলোর মুখে ধারালো দাঁত থাকে এবং শিকার করে, অনুরূপভাবে শিকারী পাখী, যেগুলো পাঞ্জা দ্বারা ঝাপটা মেরে শিকার করে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ, এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, এগুলো খাওয়া যাবে না। বস্তুত এগুলোও হারাম ও অপবিত্র জিনিসের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: