আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
১৫. শাসনকার্য পরিচালনা ও আদালত-বিচার অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩২৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৩২৭
শাসনকার্য পরিচালনা ও আদালত-বিচার অধ্যায়
কাযী কিভাবে বিচার করবেন ?
১৩৩১. হাননাদ (রাহঃ) ...... মুআয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুআযকে প্রশাসক হিসাবে ইয়ামানে পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি কিভাবে ফায়সালা দিবে। মুআয বললেন, আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা দিব। তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাবে (সংশ্লিষ্ট বিষয়ে) যদি কিছু না থাকে? মুআয বললেন, রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ অনুসারে ফয়সালা করব। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহও এও- যদি কিছু না থাকে? মুআয বললেন, আমি আমার বিবেক খাটিয়ে ইজতিহাদ করব। তিনি বললেন, ঐ আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি তাঁর রাসূলের দূতকে এই ধরণের তাওফীক দিয়েছেন। -
كتاب الأحكام عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي الْقَاضِي كَيْفَ يَقْضِي
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ الثَّقَفِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ رِجَالٍ، مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذٍ عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ " كَيْفَ تَقْضِي " . فَقَالَ أَقْضِي بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي كِتَابِ اللَّهِ " . قَالَ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ " فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " . قَالَ أَجْتَهِدُ رَأْيِي . قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত মু'আয ইব্ন জাবাল (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সেই কতক সাহাবা কিরামের মধ্যে পরিগণিত, যাঁদের জ্ঞান অন্বেষণের স্বভাব, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দীর্ঘ সাহচর্য, বিশেষ শিক্ষা ও তরবিয়তের ফলে কিতাব, সুন্নাত ও দীন বুঝার ক্ষেত্রে বিশেষ স্থান অর্জিত হয়েছিল। এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে আগেও এ কথা উল্লিখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ শেষ জীবনে তাঁকে ইয়ামানের কাযী ও বিচারকরূপে প্রেরণ করেন। একথা সুস্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা এবং ক্রমাগত তাঁর কর্ম-পদ্ধতি অন্বেষণের ফলে তাঁর এ মূলনীতি জন্ম হয়েছিল যে, যখন কোন বিষয় মীমাংসার জন্য আসে তখন এজন্য হিদায়াত লাভের নিমিত্ত সর্বপ্রথম আল্লাহর কিতাবের প্রতি প্রত্যাবর্তন করা হবে। যদি তথায় হিদায়াত না পাওয়া যায় তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাত ও তাঁর কর্ম-পদ্ধতি থেকে দিকনির্দেশ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে। সেখানেও যদি না পাওয়া যায় তবে কিতাব ও সুন্নাতের আলোকে ইজতিহাদ ও কিয়াস করা হবে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন তাঁকে ইয়ামান-এর কাযী নিযুক্ত করলেন তখন পরীক্ষা স্বরূপ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সামনে যে সব বিষয় ও মোকদ্দমা আসবে সেগুলোর ফায়সালা তুমি কিভাবে করবে?
উত্তর তিনি তাই দিলেন, যা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সাধুবাদ জানালেন এবং তার বুকে হাত রাখলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করলেন যে, তিনি তাঁর মর্জি ও চাহিদা মুতাবিক উত্তর দিয়েছেন। জানা গেল যে, তিনি তাঁর শিক্ষা ও সাহচর্যে উত্তমরূপে উপকৃত হয়েছিলেন।
এ হিসেবে এ হাদীসের অনন্য গুরুত্ব রয়েছে যে, দীন ও শরীআতে ইজতিহাদ ও কিয়াসের বিষয়ে ইহা সর্বাধিক সুস্পষ্ট ভিত্তি। আর উম্মতের সর্ব যুগের ফকীহ ও মুজতাহিদগণ এ হাদীসকেই ভিত্তি করে ইজতিহাদ ও কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন। এমন অসংখ্য মাসআলা ও লেন-দেনের ফায়সালা করেছেন, যেগুলো সম্বন্ধে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও নির্দেশ কিতাব ও সুন্নাহয় নেই।
এখানে একথাও উল্লেখযোগ্য যে, মুহাদ্দিসীন কিরামের নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী আলোচ্য হাদীসের সনদ শক্তিশালী নয়, বরং এতে দুর্বলতা রয়েছে। (যার বিস্তারিত বর্ণনা হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে দেখা যেতে পারে) তবে তা সত্ত্বেও উম্মতের আলিম ও ফকীহবৃন্দ এ হাদীস গ্রহণ করেছেন। আর এর ভিত্তিতেই কিয়াস ও ইজতিহাদের ধারাবাহিকতা চালু রয়েছে। শায়খ ইবনুল কাইয়্যিম প্রমুখ সূক্ষ্মদর্শী বিদ্বান লিখেন যে, ফকীহ আলিমগণের ইহা গ্রহণের পর এর বিশুদ্ধতার জন্য অন্য কোন দলীলের প্রয়োজন নেই।
আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, কোন বিষয় ও মাসআলায় কিয়াস ও ইজতিহাদের সুযোগ তখনই থাকে, যখন এ সম্পর্কে কিতাব ও সুন্নাহ হতে কোন নির্দেশ ও দিকদর্শন না পাওয়া যায়।
উত্তর তিনি তাই দিলেন, যা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সাধুবাদ জানালেন এবং তার বুকে হাত রাখলেন। এরপর আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করলেন যে, তিনি তাঁর মর্জি ও চাহিদা মুতাবিক উত্তর দিয়েছেন। জানা গেল যে, তিনি তাঁর শিক্ষা ও সাহচর্যে উত্তমরূপে উপকৃত হয়েছিলেন।
এ হিসেবে এ হাদীসের অনন্য গুরুত্ব রয়েছে যে, দীন ও শরীআতে ইজতিহাদ ও কিয়াসের বিষয়ে ইহা সর্বাধিক সুস্পষ্ট ভিত্তি। আর উম্মতের সর্ব যুগের ফকীহ ও মুজতাহিদগণ এ হাদীসকেই ভিত্তি করে ইজতিহাদ ও কিয়াসের আশ্রয় নিয়েছেন। এমন অসংখ্য মাসআলা ও লেন-দেনের ফায়সালা করেছেন, যেগুলো সম্বন্ধে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও নির্দেশ কিতাব ও সুন্নাহয় নেই।
এখানে একথাও উল্লেখযোগ্য যে, মুহাদ্দিসীন কিরামের নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী আলোচ্য হাদীসের সনদ শক্তিশালী নয়, বরং এতে দুর্বলতা রয়েছে। (যার বিস্তারিত বর্ণনা হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহে দেখা যেতে পারে) তবে তা সত্ত্বেও উম্মতের আলিম ও ফকীহবৃন্দ এ হাদীস গ্রহণ করেছেন। আর এর ভিত্তিতেই কিয়াস ও ইজতিহাদের ধারাবাহিকতা চালু রয়েছে। শায়খ ইবনুল কাইয়্যিম প্রমুখ সূক্ষ্মদর্শী বিদ্বান লিখেন যে, ফকীহ আলিমগণের ইহা গ্রহণের পর এর বিশুদ্ধতার জন্য অন্য কোন দলীলের প্রয়োজন নেই।
আলোচ্য হাদীস থেকে এটাও জানা গেল যে, কোন বিষয় ও মাসআলায় কিয়াস ও ইজতিহাদের সুযোগ তখনই থাকে, যখন এ সম্পর্কে কিতাব ও সুন্নাহ হতে কোন নির্দেশ ও দিকদর্শন না পাওয়া যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)