আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়

হাদীস নং: ১২১৮
আন্তর্জাতিক নং: ১২১৮
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়
নিলামে বিক্রয়।
১২২১. হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী(ﷺ) একবার এক খণ্ড (উটের পিঠের) নীচে বিছানোর কাপড় ও কাঠের পেয়ালা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এই কাপড় ও পেয়ালা কে খরীদ করবে? এক ব্যক্তি বলল আমি উভয়টিকে এক দিরহামে নিলাম। নবী (ﷺ) বললেন, এক দিরহামের অধিক কে দিতে পারবে? এক দিরহামের অধিক কে দিতে পারবে? তখন এক ব্যক্তি দুই দিরহাম দিল। অনন্তর তিনি তার কাছেই এ দুটি জিনিস বিক্রি করে দিলেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আখযার ইবনে আজলানের সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা জানি না। আব্দুল্লাহ হানাফী নামক যে রাবী আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন, আবু বকর হানাফী (রাহঃ)। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। গনিমত সম্পদ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ সকল ক্ষেত্রেই নিলামে ডাকে বিক্রিতে কোন অসুবিধা আছে বলে তাঁরা মনে করেন না। মু’তামির ইবনে সুলাইমান এবং আরো একাধিক এই হাদীসটিকে আখযার ইবনে আজলান (রাহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন।
أبواب البيوع عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ مَنْ يَزِيدُ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ شُمَيْطِ بْنِ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنَا الأَخْضَرُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْحَنَفِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَاعَ حِلْسًا وَقَدَحًا وَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِي هَذَا الْحِلْسَ وَالْقَدَحَ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَخَذْتُهُمَا بِدِرْهَمٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ " فَأَعْطَاهُ رَجُلٌ دِرْهَمَيْنِ فَبَاعَهُمَا مِنْهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ الأَخْضَرِ بْنِ عَجْلاَنَ . وَعَبْدُ اللَّهِ الْحَنَفِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ أَنَسٍ هُوَ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِبَيْعِ مَنْ يَزِيدُ فِي الْغَنَائِمِ وَالْمَوَارِيثِ . وَقَدْ رَوَى الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ عَنِ الأَخْضَرِ بْنِ عَجْلاَنَ هَذَا الْحَدِيثَ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীস থেকে জানা গেল যে, নিলাম প্রক্রিয়ায় ক্রয়-বিক্রয় জায়িয আছে। স্বয়ং নবী ﷺ-এর এ হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে সুনানে আবূ দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহয় এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক অতিশয় দরিদ্র ও কাঙ্গাল আনসার সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সমীপে উপস্থিত হয়ে নিজের দুরবস্থা বর্ণনা করে তাঁর নিকট সাহায্য চাইলেন। (তিনি দেখলেন যে, সে পরিশ্রম করে উপার্জনক্ষম)। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার ঘরে কি কোন জিনিস আছে? তিনি বললেন, কিছুই নেই, তবে একটি চট আছে, যার কতক অংশ আমি বিছানা হিসেবে বিছাই আর কতক অংশ আমি গায়ে দেই। এছাড়া কেবল একটি পেয়ালা আছে, যা পানি পান করার কাজে আসে। তিনি বললেন, এ দু'টো জিনিস নিয়ে আস। তিনি নিয়ে এলেন। তিনি উপস্থিত লোকদের বললেন, এ উভয় জিনিস বিক্রি হবে। তোমাদের মধ্যে কে এর ক্রেতা আছ। এক ব্যক্তি বললেন- হুজুর আমি এক দিরহাম দিয়ে উভয় জিনিস নিতে পারি। তিনি বললেন- من يزيد অর্থাৎ (যে কেউ এর বেশি মূল্যে ক্রয়কারী সে বলবে) আবূ দাউদের বর্ণনায় রয়েছে যে, একথা তিনি ২/৩ বার বললেন। তখন এক ব্যক্তি দু’দিরহাম বের করে হুজুর ﷺকে দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে সেগুলো দেন। আর যে দু’দিরহাম তিনি তাকে দিয়েছিলেন তিনি ঐ আনসার সাহাবীকে দিয়ে বললেন, এর থেকে এক দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার ক্রয় করে আমার নিকট নিয়ে আস। তিনি তাই করলেন, কুঠার ক্রয় করে হুজুর ﷺ-এর খিদমতে নিয়ে এলেন। তিনি তাঁর পবিত্র হাতে কাঠের হাতল লাগালেন। তাঁকে বললেন, এ কুঠার নিয়ে বনে চলে যাও, লাকড়ী কেটে এনে বিক্রি কর। হাদীসে এসেছে, তিনি তাকে এটাও তাকীদ দিয়ে বলেছিলেন যে, পনের দিন পর্যন্ত কখনো আমার নিকট আসবে না। (অর্থাৎ সর্বাধিক সময় পরিশ্রম ও উপার্জনেই ব্যয় কর) তিনি এরূপই করলেন, এমন কি পরিশ্রম ও উপার্জনের ফল স্বরূপ তার নিকট দশ দিরহাম জমা হয়ে গেল। তা দিয়ে তিনি গৃহবাসীর জন্য খাদ্য জাতীয় দ্রব্য ও কিছু কাপড় ইত্যাদি ক্রয় করলেন। এরপর হজুর ﷺ-এর খিদমতে এসে উপস্থিত হলে তিনি তাকে বললেন, এরূপ পরিশ্রম করে জীবন যাপন করা তোমার জন্য তা থেকে উত্তম যে, ভিক্ষুক সেজে লোকের নিকট হাত পাতবে আর কিয়ামতের দিন তোমার চেহারার চিহ্ন ও লক্ষণ প্রকাশ পাবে।

এই হাদীসে উন্মতের জন্য কত বিরাট পথনির্দেশ রয়েছে। আক্ষেপ! যদি আমরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতাম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান