আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১. নবীজী ﷺ থেকে বিবাহ শাদী সম্পর্কিত বর্ণনা

হাদীস নং: ১১১৮
আন্তর্জাতিক নং: ১১১৮
নবীজী ﷺ থেকে বিবাহ শাদী সম্পর্কিত বর্ণনা
কেউ যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেয় পরে সেই মহিলা যদি অন্য একজনকে বিয়ে করে এবং এ স্বামীও মিলিত হওয়ার পূর্বেই যদি তাকে তালাক দিয়ে দেয়।
১১১৯. ইবনে আবু উমর ও ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, আমি রিফাআর বিবাহ বন্ধনে ছিলাম। তিনি আমাকে তালাক তালাক দিয়ে দেন এবং চূড়ান্ত তালাক দেন। তারপর আমি আব্দুর রহমান ইবনে যুবাইরকে বিয়ে করি। কিন্তু তার কাছে কাপড়ের ঝালোরের তুল্যই রয়েছে।* রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেলেন, তুমি কি আবার রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও? না, যতক্ষণ না তুমি তার (আব্দুর রহমানের) মধু আস্বাদ করেছ এবং সে তোমার মধু আস্বাদ করেছে ততক্ষণ তুমি তা পার না। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এই বিষয়ে ইবনে উমর, আনাস, রুমায়সা বা গুমায়সা এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপারাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয় এবং সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে আর সেই স্বামীও যদি মিলিত হওয়ার পূর্বেই যদি তালাক দিয়ে দেয় তবে প্রথম স্বামীর জন্য সে হালাল হবে না, যদিও দ্বিতীয় স্বামী তার সঙ্গে মিলিত হয় নি।

*তাঁর সহবাসের যোগ্যতা নেই।
أبواب النكاح عن رسول الله ﷺ
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا فَيَتَزَوَّجُهَا آخَرُ فَيُطَلِّقُهَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي كُنْتُ عِنْدَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِي فَبَتَّ طَلاَقِي فَتَزَوَّجْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَمَا مَعَهُ إِلاَّ مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ . فَقَالَ " أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ لاَ حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَالرُّمَيْصَاءِ أَوِ الْغُمَيْصَاءِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا فَتَزَوَّجَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ فَطَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا أَنَّهَا لاَ تَحِلُّ لِلزَّوْجِ الأَوَّلِ إِذَا لَمْ يَكُنْ جَامَعَ الزَّوْجُ الآخَرُ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
জামে' তিরমিযী - হাদীস নং ১১১৮ | মুসলিম বাংলা