আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৪৭- সৃষ্টি জগতের সূচনা
হাদীস নং: ৩০৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৯৬
- সৃষ্টি জগতের সূচনা
১৯৯৪. জিন জাতি এবং তাদের সাওয়াব ও আযাবের বর্ণনা। মহান আল্লাহর বাণীঃ হে জিন ও মানব জাতি! তোমাদেরই মধ্য থেকে রাসুলগণ কি তোমাদের কাছে আসেন নি? তারা কি তোমাদের সামনে আমার নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন নি? (সূরা আন’আমঃ ১৩০) بَخْسًا ক্ষতি। وَجَعَلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا (৩৭ঃ ১৫৮ আয়াতের তাফসীরে) মুজাহিদ (রাহঃ) বলেন, কুরাইশ কাফিররা ফিরিশতাগণকে আল্লাহর কন্যা এবং তাদের মাতাদেরকে জিনের নেতাদের কন্যা বলে আখ্যায়িত করত। মহান আল্লাহ বলেনঃ জিনগণ অবশ্যই জানে যে, তাদেরকে হিসাবের সময় উপস্থিত করা হবে।
৩০৬৬। কুতাইবা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ)- কে বলেছেন, ‘আমি তোমাকে দেখেছি তুমি ছাগপাল ও মরুভূমি পছন্দ করছ। অতএব তুমি যখন তোমার ছাগপাল নিয়ে মরুভূমিতে অবস্থান করবে, নামাযের সময় হলে আযান দিবে, তখন তুমি উচ্চস্বরে আযান দিবে। কেননা, মুআয্যিনের কণ্ঠস্বর জ্বিন, মানুষ ও যে কোন বস্তু শুনে, তারা কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।’ আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, আমি এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি।
كتاب بدء الخلق
بَابُ ذِكْرِ الْجِنِّ وَثَوَابِهِمْ وَعِقَابِهِمْ لِقَوْلِهِ: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي} إِلَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {عَمَّا يَعْمَلُونَ}. {بَخْسًا} نَقْصًا. قَالَ مُجَاهِدٌ: {وَجَعَلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا} قَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ الْمَلاَئِكَةُ بَنَاتُ اللَّهِ، وَأُمَّهَاتُهُمْ بَنَاتُ سَرَوَاتِ الْجِنِّ. قَالَ اللَّهُ: {وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ} سَتُحْضَرُ لِلْحِسَابِ. {جُنْدٌ مُحْضَرُونَ} عِنْدَ الْحِسَابِ
3296 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ لَهُ: إِنِّي أَرَاكَ تُحِبُّ الغَنَمَ وَالبَادِيَةَ، فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِكَ وَبَادِيَتِكَ، فَأَذَّنْتَ بِالصَّلاَةِ، فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ، فَإِنَّهُ «لاَ يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ المُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلاَ إِنْسٌ وَلاَ شَيْءٌ إِلَّا شَهِدَ لَهُ يَوْمَ القِيَامَةِ» قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ্ তা'আলা এ বিশ্বের সমগ্র বস্তুতে তাঁর মা'রিফাত ছড়িয়ে দিয়েছেন। কেননা আল্লাহর বাণী وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ “এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে না।" (১৭, সূরা বনী ইসরাঈল: 88)
কাজেই মুআযযিন যখন আযান দেয় এবং তাতে আল্লাহর মাহাত্ম্য, একত্ব, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রিসালাত এবং দীনের দাওয়াত প্রকাশ পায় তখন জিন-ইনসান ব্যতীত অপরাপর সৃষ্টিও তা শুনতে পায় এবং বুঝতে পারে। এসব বস্তু কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আযান দানে এবং মুআযযিনের রয়েছে ঈর্ষণীয় মর্যাদা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ "এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।" (৮৩, সূরা মুতাফফিফীন: ২৬)
কাজেই মুআযযিন যখন আযান দেয় এবং তাতে আল্লাহর মাহাত্ম্য, একত্ব, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রিসালাত এবং দীনের দাওয়াত প্রকাশ পায় তখন জিন-ইনসান ব্যতীত অপরাপর সৃষ্টিও তা শুনতে পায় এবং বুঝতে পারে। এসব বস্তু কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আযান দানে এবং মুআযযিনের রয়েছে ঈর্ষণীয় মর্যাদা। আল্লাহ তা'আলা বলেন: وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ "এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।" (৮৩, সূরা মুতাফফিফীন: ২৬)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: