আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৯. হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৮৫৭
হজ্ব - উমরার অধ্যায়
হাজরে আসওয়াদ থেকে আবার হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত রমল করা।
৮৫৯. আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত তাওয়াফে তিন শাওত রমল করেছেন এবং চার শাওত হেটেছেন।
এই বিষয়ে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাশ শাফেঈ (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রমল পরিত্যাগ করে তবে এই কাজটি মন্দ বলে বিবেচ্য হবে। কিন্তু এই জন্য তার উপর কিছু ধার্য হবে না। প্রথম তিন শাওতে রমল না করলে বাকী শাওতসমূহে আর তা করবে না। কতক আলিম বলেন, মক্কাবাসী এবং যারা মক্কা থেকে ইহরাম করেন তাদের জন্য রমল নেই।
এই বিষয়ে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাশ শাফেঈ (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রমল পরিত্যাগ করে তবে এই কাজটি মন্দ বলে বিবেচ্য হবে। কিন্তু এই জন্য তার উপর কিছু ধার্য হবে না। প্রথম তিন শাওতে রমল না করলে বাকী শাওতসমূহে আর তা করবে না। কতক আলিম বলেন, মক্কাবাসী এবং যারা মক্কা থেকে ইহরাম করেন তাদের জন্য রমল নেই।
أبواب الحج عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي الرَّمَلِ مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَمَلَ مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ ثَلاَثًا وَمَشَى أَرْبَعًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ الشَّافِعِيُّ إِذَا تَرَكَ الرَّمَلَ عَمْدًا فَقَدْ أَسَاءَ وَلاَ شَىْءَ عَلَيْهِ وَإِذَا لَمْ يَرْمُلْ فِي الأَشْوَاطِ الثَّلاَثَةِ لَمْ يَرْمُلْ فِيمَا بَقِيَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ عَلَى أَهْلِ مَكَّةَ رَمَلٌ وَلاَ عَلَى مَنْ أَحْرَمَ مِنْهَا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
"রমল" এক বিশেষ ভঙ্গির চলনকে বলে, যার মধ্যে শক্তি ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন রেওয়ায়াতে এসেছে যে, ৭ম হিজরীতে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের এক বিরাট জামাআত নিয়ে উমরার জন্য মক্কা শরীফ আসলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা পরস্পর বলাবলি করল যে, ইয়াসরিব অর্থাৎ মদীনার খারাপ আবহাওয়া, জ্বর ইত্যাদি রোগ-বালাই এ লোকদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে যখন একথা পৌঁছল তখন তিনি তাদেরকে হুকুম দিলেন যে, তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল অর্থাৎ, বীরদর্পে চলবে এবং এভাবে শক্তি ও শৌর্য-বীর্যের মহড়া প্রদর্শন করবে। সুতরাং এর উপরই আমল করা হল। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ঐ সময়ের এ ভঙ্গিমাটি এমন পছন্দ হল যে, এটাকে একটি পৃথক সুন্নত সাব্যস্ত করে দেওয়া হল। বর্তমানে এ পদ্ধতি ও নিয়মই চালু রয়েছে, হজ্ব অথবা উমরা পালনকারী প্রথম যে তাওয়াফটি করে এবং যার পর তাকে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ীও করতে হয়, এর প্রথম তিন চক্করে রমল করা হয় এবং বাকী চক্করগুলোতে স্বাভাবিক গতিতে চলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)