আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ৭৯৩
নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়
লায়লাতুল ক্বদর।
৭৯১. ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ‘লা কূফী (রাহঃ) .... যির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) কে বললাম, হে আবু মুনযির! এ যে সাতাশের রাত এ কথা আপনি কোথা থেকে জানলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এটি হল এমন রাত যার পরবর্তী সকালে সূর্য উদিত হয় এমনভাবে যে তার আলোকরশ্মি থাকে না। তা আমরা গণনা করে রেখেছি এবং স্মরণও রেখেছি। আল্লাহর কসম! ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) একথা জানেন যে, রাতটি হল রমযানের এবং তা সাতাশেরই রাত। কিন্তু তিনি তোমাদের তা জানাতে পছন্দ করেননি, পাছে তোমরা এর উপর ভরসা করে বসে থাকে। - আবু দাউদ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদসটি হাসান-সহীহ।
أبواب الصوم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْتُ لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّى عَلِمْتَ أَبَا الْمُنْذِرِ أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ قَالَ بَلَى أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَّهَا لَيْلَةٌ صَبِيحَتُهَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ " . فَعَدَدْنَا وَحَفِظْنَا وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمَ ابْنُ مَسْعُودٍ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يُخْبِرَكُمْ فَتَتَّكِلُوا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত উবাই ইবনে কা'ব রাযি.-এর উত্তর দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি যে নিশ্চিতভাবে এ কথা বলেছেন যে, শবে ক্বদর নির্দিষ্টভাবে সাতাশতম রাতেই হয়, একথা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেননি; বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যে একটি লক্ষণ বলে দিয়েছিলেন, তিনি যেহেতু এ লক্ষণ ও আলামতটি সাধারণতঃ সাতাশতম রাতের সকালেই দেখেছিলেন, এ জন্য প্রত্যয়ের সাথে তিনি এ মত পোষণ করে নিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো তো এই বলেছেন যে, রমযানের শেষ দশ দিনে এর অনুসন্ধান কর, কখনো বলেছেন, শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান কর, আবার কখনো শেষ দশকের পাঁচটি বেজোড় রাতের চার অথবা তিন রাতের কথা বলেছেন। কোন বিশেষ রাতকে তিনি নির্দিষ্ট করে দেননি। হ্যাঁ, অনেক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা এই যে, এটা প্রায়ই সাতাশতম রাতেই হয়ে থাকে। শবে ক্বদরকে এভাবে অনির্দিষ্ট রাখার মধ্যে হেকমত ও রহস্য এটাই যে, একটিমাত্র রাতের জন্য বসে না থেকে আল্লাহপ্রেমিক বান্দারা যেন বিভিন্ন রাতে ইবাদত, যিকির ও দু‘আয় মশগুল থাকে। যারা এমন করবে, তাদের সাফল্য সুনিশ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান